চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে বোর্ডে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ২০২৫ ও ২০২৬ সালের ফলাফলের তুলনামূলক পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
ছাত্রদের পাসের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে ছাত্রদের পাসের হার ছিল ৭১ দশমিক ৯৩ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে কমে হয়েছে ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ছাত্রীদের পাসের হার ৭২ দশমিক ১৯ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও দেখা গেছে বড় ধরনের অবনতি। বিজ্ঞান বিভাগে ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা কমে হয়েছে ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। মানবিক বিভাগে পাসের হার ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ থেকে কমে ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশে নেমেছে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৭৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ থেকে কমে পাসের হার হয়েছে ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ।
চট্টগ্রাম মহানগরেও পাসের হার কমেছে। ২০২৫ সালে মহানগরে পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ। এবার তা কমে হয়েছে ৭৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। মহানগরসহ পুরো চট্টগ্রাম জেলার পাসের হার ৭৪ দশমিক ৯০ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন অন্যান্য জেলাতেও ফলাফলে অবনতি হয়েছে। কক্সবাজারে পাসের হার ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ থেকে কমে ৫৭ দশমিক ০৯ শতাংশ হয়েছে। রাঙামাটিতে ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ থেকে কমে ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং খাগড়াছড়িতে ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে কমে ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ হয়েছে। বান্দরবানে পাসের হার ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশে।
এদিকে, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। ২০২৬ সালে এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী কমেছে ২ হাজার ৪৪৫ জন।
শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কমেছে। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৩৩টি। ২০২৬ সালে তা কমে হয়েছে ২১টি।
এদিকে পরীক্ষার্থীর সংখ্যাতেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ৩৮৮ জন। ২০২৬ সালে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন। অর্থাৎ এক বছরে পরীক্ষার্থী কমেছে ৯ হাজার ৭০৬ জন।
সার্বিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমার পাশাপাশি ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে।




























