ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চন্দনাইশ পৌরসভায় ৮নং ওয়ার্ডে দক্ষিণ গাছবাড়িয়া হরিনার পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশীরভাগ খুঁটিতে জ্বলছে না সড়কবাতি, পৌরবাসীর দুর্ভোগ চরমে Logo রাতে মাথার পাশে ফোন? মোবাইলের রেডিয়েশনের ঝুঁকি জানুন Logo গরমে শরীর সতেজ রাখার কার্যকর উপায় Logo বাংলালিংকের নিও পিএসপিকে ই-ওয়ালেটের লাইসেন্স দিল বাংলাদেশ ব্যাংক Logo এলএনজি টার্মিনাল বন্ধে বাড়তে পারে গ্যাস সংকট Logo চাকরির বাজার বদলাচ্ছে, কোন বিষয়ে পড়বেন এখন? Logo গভর্নিং বডি নয়, শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএই বহাল Logo বাংলাদেশে সবাই অধিবাসী, কেউ আদিবাসী নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ Logo ঘুমাতেই ভ্রমণ! কেন জনপ্রিয় হচ্ছে স্লিপ ট্যুরিজম? Logo ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টার্ন নিয়োগ, আবেদন করা যাবে অনলাইনে

গভর্নিং বডি নয়, শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএই বহাল

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৪৮:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৫

গভর্নিং বডি নয়, শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর দায়িত্ব বহাল।

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে যাচ্ছে না। আগের মতোই নিয়োগের জন্য প্রার্থী বাছাই ও সুপারিশ করবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনও জানান, গভর্নিং বডির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে ৩ আগস্টের একটি সভার কার্যবিবরণীতে এনটিআরসিএর নিয়োগ সুপারিশের ক্ষমতা বাতিলের যে তথ্য এসেছিল, তা কার্যকর হচ্ছে না।

বর্তমান ব্যবস্থায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্য পদে সরাসরি শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারে না সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি। শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রার্থী বাছাই ও নিয়োগের সুপারিশ পর্যন্ত কেন্দ্রীয়ভাবে প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করে এনটিআরসিএ।

২০০৫ সালের আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত এনটিআরসিএর অন্যতম দায়িত্ব হলো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার জন্য যোগ্যতা যাচাই, নিবন্ধন পরীক্ষা নেওয়া এবং সনদ প্রদান। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের জন্য যোগ্য প্রার্থীদের সুপারিশের ব্যবস্থাও চালু হয়।

এই কেন্দ্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হিসেবে যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নির্বাচন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম কমানোর বিষয়টি সামনে আসে। আগে স্থানীয়ভাবে নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন, স্বজনপ্রীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

তবে ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সভার কার্যবিবরণীতে এনটিআরসিএর নিয়োগ সুপারিশের ক্ষমতা নিয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা উঠে আসে। সেখানে প্রতিষ্ঠানটিকে শুধু নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজে সীমাবদ্ধ রাখার এবং ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

ওই কার্যবিবরণীর তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষক নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রার্থীসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়োগের ক্ষমতা ফিরলে স্বচ্ছতা ও নিয়োগ-বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন অনেকে।

পরিস্থিতির মধ্যে ১০ আগস্ট রাতে শিক্ষামন্ত্রীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে জানানো হয়, গভর্নিং বডির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি। পাশাপাশি এনটিআরসিএর কার্যক্রম ও নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার বিষয়টি পর্যালোচনার কথা বলা হয়।

মঙ্গলবার সচিবের বক্তব্যের পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়েছে। অর্থাৎ এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব আপাতত এনটিআরসিএর কাছেই থাকছে। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে ভবিষ্যতে কী পরিবর্তন আনা হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

চন্দনাইশ পৌরসভায় ৮নং ওয়ার্ডে দক্ষিণ গাছবাড়িয়া হরিনার পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশীরভাগ খুঁটিতে জ্বলছে না সড়কবাতি, পৌরবাসীর দুর্ভোগ চরমে

গভর্নিং বডি নয়, শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএই বহাল

Update Time : ১০:৪৮:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে যাচ্ছে না। আগের মতোই নিয়োগের জন্য প্রার্থী বাছাই ও সুপারিশ করবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনও জানান, গভর্নিং বডির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে ৩ আগস্টের একটি সভার কার্যবিবরণীতে এনটিআরসিএর নিয়োগ সুপারিশের ক্ষমতা বাতিলের যে তথ্য এসেছিল, তা কার্যকর হচ্ছে না।

বর্তমান ব্যবস্থায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্য পদে সরাসরি শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারে না সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি। শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রার্থী বাছাই ও নিয়োগের সুপারিশ পর্যন্ত কেন্দ্রীয়ভাবে প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করে এনটিআরসিএ।

আরও পড়ুন  এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য গণিতের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের ফাইনাল সাজেশন

২০০৫ সালের আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত এনটিআরসিএর অন্যতম দায়িত্ব হলো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার জন্য যোগ্যতা যাচাই, নিবন্ধন পরীক্ষা নেওয়া এবং সনদ প্রদান। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের জন্য যোগ্য প্রার্থীদের সুপারিশের ব্যবস্থাও চালু হয়।

এই কেন্দ্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হিসেবে যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নির্বাচন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম কমানোর বিষয়টি সামনে আসে। আগে স্থানীয়ভাবে নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন, স্বজনপ্রীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর প্রস্তাব

তবে ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সভার কার্যবিবরণীতে এনটিআরসিএর নিয়োগ সুপারিশের ক্ষমতা নিয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা উঠে আসে। সেখানে প্রতিষ্ঠানটিকে শুধু নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজে সীমাবদ্ধ রাখার এবং ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

ওই কার্যবিবরণীর তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষক নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রার্থীসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়োগের ক্ষমতা ফিরলে স্বচ্ছতা ও নিয়োগ-বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন অনেকে।

আরও পড়ুন  ঢাবি বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ: বিশ্বকাপ ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

পরিস্থিতির মধ্যে ১০ আগস্ট রাতে শিক্ষামন্ত্রীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে জানানো হয়, গভর্নিং বডির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি। পাশাপাশি এনটিআরসিএর কার্যক্রম ও নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার বিষয়টি পর্যালোচনার কথা বলা হয়।

মঙ্গলবার সচিবের বক্তব্যের পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়েছে। অর্থাৎ এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব আপাতত এনটিআরসিএর কাছেই থাকছে। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে ভবিষ্যতে কী পরিবর্তন আনা হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।