রাতে ঘুমানোর সময় অনেকেই ফোন, স্মার্টওয়াচ বা অন্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস একেবারে পাশে রেখে দেন। কেউ বালিশের নিচে, আবার কেউ মাথার কাছেই ফোন রেখে ঘুমান। এতে রেডিয়েশন নিয়ে ভয় থাকলেও, সব ধরনের ‘রেডিয়েশন’ এক নয় এবং মোবাইল ফোনের রেডিওফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়েশন এক্স-রে বা গামা রশ্মির মতো আয়নাইজিং রেডিয়েশন নয়।
বর্তমান বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, মোবাইল ফোনের রেডিওফ্রিকোয়েন্সি এক্সপোজারের সঙ্গে ক্যানসার বা অন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির নিশ্চিত সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে, নির্ধারিত সীমার নিচে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডের ক্ষতিকর স্বাস্থ্যপ্রভাবের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ঘুমের সময় ফোন একেবারে মাথার পাশে রাখাই ভালো। রাতে ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা, নোটিফিকেশনের শব্দ বা বারবার ফোন চেক করার অভ্যাস ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে পারে। ভালো ঘুমের জন্য ঘুমানোর আগে ইলেকট্রনিক স্ক্রিনের ব্যবহার কমানোর পরামর্শও দেওয়া হয়।
ফোনের পাশাপাশি ওয়াই-ফাই রাউটার, স্মার্টওয়াচ ও অন্যান্য ওয়্যারলেস ডিভাইস নিয়েও অনেকের উদ্বেগ থাকে। এসব ডিভাইস থেকেও রেডিওফ্রিকোয়েন্সি নির্গত হয়। তবে সাধারণ পরিবেশে এসব উৎস থেকে পাওয়া মাত্রা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরির সীমার তুলনায় কম থাকে বলে বর্তমান প্রমাণে গুরুতর ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি।
তাই ভয় পাওয়ার চেয়ে রাতে ফোনটি একটু দূরে রাখাই ভালো অভ্যাস। বিছানার পাশে না রেখে টেবিল বা অন্য জায়গায় রাখা, অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করা এবং ঘুমানোর আগে স্ক্রিন ব্যবহার কমানো যেতে পারে। এতে রেডিয়েশন নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা কমার পাশাপাশি ঘুমের পরিবেশও আরও শান্ত থাকবে।
বিশেষ করে ঘুমানোর সময় ফোন বালিশের নিচে রাখা ঠিক নয়। এতে ফোনের স্ক্রিন ও নোটিফিকেশনের কারণে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। একই সঙ্গে চার্জে থাকা ফোন বালিশ বা কম্বলের নিচে ঢেকে না রাখাই নিরাপদ, কারণ তাপ জমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সবশেষে মনে রাখা দরকার, ‘ফোনের রেডিয়েশন মানেই ভয়ংকর ক্ষতি’—এমন ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। আবার ঘুমের আগে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারও ভালো অভ্যাস নয়। তাই আতঙ্ক নয়, বরং রাতে ফোন থেকে কিছুটা দূরে থেকে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম নিশ্চিত করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।




























