ঢাকা ০৯:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিরাপত্তা ফিরলেই ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে নেবে মিয়ানমার সরকার

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৭:১৮:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১০

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প | ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে নতুন করে আশার কথা জানিয়েছে মিয়ানমার। শনিবার (১৫ আগস্ট) দেশটির সেনাসমর্থিত সরকার বলেছে, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গাকে দেশে ফেরত নিতে তারা প্রস্তুত। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই ঘোষণা এমন সময়ে এলো, যখন ২০১৭ সালের ভয়াবহ সামরিক অভিযানের পর তৈরি হওয়া রোহিঙ্গা সংকট প্রায় নয় বছরে পড়েছে।

মিয়ানমারের দাবি, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার তালিকা থেকে গত জুলাইয়ের শেষ নাগাদ বিপুলসংখ্যক ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করা হয়েছে। যাচাই করা ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রাখাইনের বাসিন্দা ছিলেন বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের পরিচয় সফলভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে যাচাই করা রোহিঙ্গা বাসিন্দাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে তারা। তবে প্রত্যাবাসনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি বা নিরাপদে ফেরার জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে নতুন ঘোষণায় বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবে কতটা এগোবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের পর প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী, সেই সংখ্যা আট লাখেরও বেশি। এর আগে থেকেই বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন। সামরিক অভিযানের ভয়াবহতা নিয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলে গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের অভিযোগ ওঠে। মিয়ানমার অবশ্য এসব অভিযোগের অনেকটাই অস্বীকার করে আসছে।

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও পরিচয়ের প্রশ্নটিও দীর্ঘদিনের সংকটের অন্যতম কারণ। মিয়ানমার তাদের সরকারি স্বীকৃত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তালিকায় রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্ত করে না। দেশটির কর্তৃপক্ষ তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে থাকে। অন্যদিকে রোহিঙ্গারা নিজেদের মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা বলে দাবি করে। এই পরিচয় সংকটের সঙ্গে নাগরিকত্ব, চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মতো বিষয়ও জড়িয়ে রয়েছে।

এর আগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুই বছর মেয়াদি প্রত্যাবাসন কাঠামোতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু ২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর সেই উদ্যোগ কার্যত থেমে যায়। পরবর্তী সময়ে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র সংঘাত তীব্র হয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত আরও বেড়েছে। বর্তমানে রাখাইনের বড় একটি অংশ আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা রোহিঙ্গাদের জীবনেও বড় চাপ তৈরি করেছে। আশ্রয়শিবিরে মানবিক সহায়তা কমে যাওয়া, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং মিয়ানমারে ফেরার অনিশ্চয়তার কারণে অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ ধরনের যাত্রায় নৌকাডুবি ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। ফলে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি আন্তর্জাতিক মহলেও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়াতেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গত জুলাইয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, মিয়ানমার প্রত্যাবর্তন উদ্যোগের অংশ হিসেবে তাঁর দেশে থাকা পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হান উইন অং পরে এপি-কে জানিয়েছিলেন, ওই কর্মসূচি মালয়েশিয়ার আটককেন্দ্রে থাকা যাচাই করা মিয়ানমারের নাগরিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

মিয়ানমারের নতুন ঘোষণায় আরও একটি বিষয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশটির সরকার রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার তথ্য অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ২০১৭ সালের সহিংসতার পর ৫ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল এবং দুই লাখের বেশি মানুষ উত্তর রাখাইনে থেকে গিয়েছিল। ফলে রোহিঙ্গা সংকটের পরিসর ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।

সব মিলিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের নতুন ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে রাখাইনের নিরাপত্তা, যাচাই প্রক্রিয়া, প্রত্যাবাসন কাঠামো এবং ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার ওপর। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দিয়ে আসছে। এখন মিয়ানমারের এই ঘোষণার পর দুই দেশের মধ্যে আলোচনা কতটা এগোয় এবং বাস্তবে কতজন রোহিঙ্গা ফেরার সুযোগ পান, সেটিই মূল প্রশ্ন।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিরাপত্তা ফিরলেই ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে নেবে মিয়ানমার সরকার

Update Time : ০৭:১৮:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে নতুন করে আশার কথা জানিয়েছে মিয়ানমার। শনিবার (১৫ আগস্ট) দেশটির সেনাসমর্থিত সরকার বলেছে, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গাকে দেশে ফেরত নিতে তারা প্রস্তুত। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই ঘোষণা এমন সময়ে এলো, যখন ২০১৭ সালের ভয়াবহ সামরিক অভিযানের পর তৈরি হওয়া রোহিঙ্গা সংকট প্রায় নয় বছরে পড়েছে।

মিয়ানমারের দাবি, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার তালিকা থেকে গত জুলাইয়ের শেষ নাগাদ বিপুলসংখ্যক ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করা হয়েছে। যাচাই করা ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রাখাইনের বাসিন্দা ছিলেন বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের পরিচয় সফলভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে যাচাই করা রোহিঙ্গা বাসিন্দাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে তারা। তবে প্রত্যাবাসনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি বা নিরাপদে ফেরার জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে নতুন ঘোষণায় বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবে কতটা এগোবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

আরও পড়ুন  রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদীতে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের জরুরি যৌথ কমান্ডো অভিযান

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের পর প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী, সেই সংখ্যা আট লাখেরও বেশি। এর আগে থেকেই বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন। সামরিক অভিযানের ভয়াবহতা নিয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলে গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের অভিযোগ ওঠে। মিয়ানমার অবশ্য এসব অভিযোগের অনেকটাই অস্বীকার করে আসছে।

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও পরিচয়ের প্রশ্নটিও দীর্ঘদিনের সংকটের অন্যতম কারণ। মিয়ানমার তাদের সরকারি স্বীকৃত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তালিকায় রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্ত করে না। দেশটির কর্তৃপক্ষ তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে থাকে। অন্যদিকে রোহিঙ্গারা নিজেদের মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা বলে দাবি করে। এই পরিচয় সংকটের সঙ্গে নাগরিকত্ব, চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মতো বিষয়ও জড়িয়ে রয়েছে।

এর আগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুই বছর মেয়াদি প্রত্যাবাসন কাঠামোতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু ২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর সেই উদ্যোগ কার্যত থেমে যায়। পরবর্তী সময়ে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র সংঘাত তীব্র হয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত আরও বেড়েছে। বর্তমানে রাখাইনের বড় একটি অংশ আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  রোহিঙ্গাদের জন্য ১ কোটি ডলার অনুদানের ঘোষণা কানাডার

এদিকে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা রোহিঙ্গাদের জীবনেও বড় চাপ তৈরি করেছে। আশ্রয়শিবিরে মানবিক সহায়তা কমে যাওয়া, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং মিয়ানমারে ফেরার অনিশ্চয়তার কারণে অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ ধরনের যাত্রায় নৌকাডুবি ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। ফলে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি আন্তর্জাতিক মহলেও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়াতেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গত জুলাইয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, মিয়ানমার প্রত্যাবর্তন উদ্যোগের অংশ হিসেবে তাঁর দেশে থাকা পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হান উইন অং পরে এপি-কে জানিয়েছিলেন, ওই কর্মসূচি মালয়েশিয়ার আটককেন্দ্রে থাকা যাচাই করা মিয়ানমারের নাগরিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

আরও পড়ুন  এআইইউবি ও বিআইজিএফের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

মিয়ানমারের নতুন ঘোষণায় আরও একটি বিষয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশটির সরকার রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার তথ্য অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ২০১৭ সালের সহিংসতার পর ৫ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল এবং দুই লাখের বেশি মানুষ উত্তর রাখাইনে থেকে গিয়েছিল। ফলে রোহিঙ্গা সংকটের পরিসর ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।

সব মিলিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের নতুন ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে রাখাইনের নিরাপত্তা, যাচাই প্রক্রিয়া, প্রত্যাবাসন কাঠামো এবং ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার ওপর। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দিয়ে আসছে। এখন মিয়ানমারের এই ঘোষণার পর দুই দেশের মধ্যে আলোচনা কতটা এগোয় এবং বাস্তবে কতজন রোহিঙ্গা ফেরার সুযোগ পান, সেটিই মূল প্রশ্ন।