চিলি চিকেনের নাম শুনলেই মনে পড়ে ক্রিসপি চিকেন, ঝাল মরিচ আর ঘন মশলাদার সসের কথা। বাইরে থেকে অর্ডার না করে ঘরেই তৈরি করা যায় এমন একটি রেসিপি, যা স্বাদে হতে পারে একেবারে রেস্টুরেন্ট স্টাইল। এই রেসিপিতে চিকেনের বাইরের অংশ থাকবে মচমচে, আর ভেতরটা থাকবে নরম ও জুসি।
প্রথমে চিকেন ম্যারিনেট করার জন্য ৪৫০ গ্রাম হাড়ছাড়া চিকেন ছোট টুকরো করে নিন। এর সঙ্গে গোলমরিচের গুঁড়া, লবণ, সয়া সস, সামান্য তিলের তেল, আদা-রসুনের পেস্ট, এক চিমটি বেকিং সোডা এবং একটি ছোট ডিম মিশিয়ে নিন। এরপর কর্নফ্লাওয়ার ও সামান্য ময়দা দিয়ে চিকেনের প্রতিটি টুকরো ভালোভাবে কোট করে রাখুন।
চিকেন ক্রিসপি করার সহজ কৌশল
চিলি চিকেনের আসল মজা আসে এর ক্রিসপি কোটিং থেকে। ম্যারিনেট করা চিকেনে কর্নফ্লাওয়ার ব্যবহার করলে বাইরের অংশ মচমচে হয়, আর ময়দা দিলে ভাজার পর সুন্দর সোনালি রং আসে। চাইলে চিকেন কয়েক ঘণ্টা ম্যারিনেট করে রাখতে পারেন। তবে ভাজার ঠিক আগে কর্নফ্লাওয়ার ও ময়দা মেশানোই ভালো।
এবার একটি গভীর কড়াই বা ভারী প্যানে পর্যাপ্ত তেল গরম করুন। তেল মাঝারি থেকে মাঝারি-উচ্চ আঁচে গরম রাখুন। একসঙ্গে বেশি চিকেন দেবেন না। এতে তেলের তাপমাত্রা কমে গিয়ে চিকেন মচমচে হওয়ার বদলে তেল শুষে নিতে পারে।
চিকেনের টুকরোগুলো একে একে গরম তেলে দিয়ে প্রায় ৪ মিনিট বা বাইরের অংশ সুন্দর সোনালি ও ক্রিসপি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। এরপর ছাঁকনি দিয়ে তুলে কিচেন টিস্যু বা ওয়্যার র্যাকে রাখুন। বাকি চিকেনও একইভাবে ভেজে নিন।
ঝাল ও মজাদার চিলি চিকেন সস তৈরি করুন
এবার আসবে এই খাবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ—সস। একটি বাটিতে কেচাপ, চিলি-গার্লিক সস, এশিয়ান স্টাইল চিলি সস বা সাম্বাল ওলেক, সয়া সস, ওরচেস্টারশায়ার সস, রাইস ভিনেগার, মধু, তিলের তেল, সামান্য গোলমরিচ ও লবণ মিশিয়ে নিন। এতে সব স্বাদ একসঙ্গে সুন্দরভাবে মিশে যাবে।
আরও ঝাল স্বাদ চাইলে চিলি ফ্লেক্সের পরিমাণ একটু বাড়িয়ে দিতে পারেন। আবার ঝাল কম পছন্দ হলে কাঁচামরিচ ও চিলি সসের পরিমাণ কমিয়ে নিন। সসটি আগে থেকেই মিশিয়ে রাখলে রান্নার সময় কাজ অনেক দ্রুত হবে।
সবজি দিয়ে তৈরি করুন চিলি চিকেনের বেস
একটি বড় প্যান বা ওয়কে সামান্য তেল গরম করে কুচানো রসুন ও আদা দিন। এগুলো হালকা বাদামি হয়ে সুন্দর গন্ধ বের হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। এরপর কুচানো পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম, স্প্রিং অনিয়নের সাদা অংশ, কাঁচামরিচ এবং শুকনো লাল মরিচ দিয়ে দিন।
আঁচ বাড়িয়ে ২–৩ মিনিট দ্রুত নেড়ে রান্না করুন। সবজিগুলো পুরোপুরি নরম করে ফেলবেন না। সামান্য ক্রাঞ্চ থাকলে চিলি চিকেনের স্বাদ ও টেক্সচার দুটোই ভালো লাগে। চাইলে নিজের পছন্দ অনুযায়ী পেঁয়াজ ও ক্যাপসিকামের পরিমাণ বাড়াতেও পারেন।
সস মিশিয়ে তৈরি করুন রেস্টুরেন্ট স্টাইলের স্বাদ
এবার আগে থেকে তৈরি করে রাখা সসটি সবজির ওপর ঢেলে দিন। ভালোভাবে নেড়ে কয়েক মিনিট রান্না করুন, যাতে সসের কাঁচা গন্ধ চলে যায় এবং এটি সামান্য ঘন ও চকচকে হয়ে আসে।
সস বেশি সময় রান্না করবেন না। বেশি রান্না করলে এটি অতিরিক্ত ঘন ও তীব্র স্বাদের হয়ে যেতে পারে। একটু গ্রেভি বেশি পছন্দ হলে সবজি ও সসের সঙ্গে সামান্য ভেজিটেবল স্টক মিশিয়ে নিতে পারেন।
শেষে যোগ করুন ক্রিসপি চিকেন
সস যখন সুন্দরভাবে ঘন হয়ে আসবে, তখন ভেজে রাখা ক্রিসপি চিকেনগুলো প্যানে দিয়ে দিন। এবার দ্রুত হাতে সবকিছু মিশিয়ে নিন, যাতে প্রতিটি চিকেনের টুকরোর গায়ে ঝাল-মিষ্টি সস ভালোভাবে লেগে যায়।
চিকেন বেশিক্ষণ সসের মধ্যে রান্না করবেন না। প্রায় এক মিনিট নেড়ে চুলা বন্ধ করে দিন। এতে চিকেনের বাইরের ক্রিসপি ভাব যতটা সম্ভব বজায় থাকবে। শেষে ওপর থেকে কুচানো স্প্রিং অনিয়নের সবুজ অংশ ছড়িয়ে দিন।
ডিপ ফ্রাই না করেও বানানো যাবে
তেলে ভাজা এড়িয়ে চলতে চাইলে এয়ার ফ্রায়ারেও চিকেন তৈরি করা যায়। সেক্ষেত্রে কর্নফ্লাওয়ারের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে চিকেন কোট করুন। এয়ার ফ্রায়ার প্রায় ১৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ৫ মিনিট প্রিহিট করে নিন।
চিকেনগুলো এক স্তরে সাজিয়ে ওপর থেকে সামান্য রান্নার স্প্রে দিন। প্রায় ৮–৯ মিনিট রান্না করুন। মাঝপথে চাইলে চিকেন উল্টে দিতে পারেন। তবে ডিপ ফ্রাই করা চিকেনের তুলনায় এয়ার ফ্রায়ারে তৈরি চিকেনের ভেতরটা বেশি জুসি থাকলেও বাইরের কোটিং কিছুটা আলাদা হতে পারে।
চিলি চিকেনের সঙ্গে কী পরিবেশন করবেন
গরম গরম চিলি চিকেন পরিবেশন করাই সবচেয়ে ভালো। এর সঙ্গে সাদা বাসমতি বা জ্যাসমিন রাইস, ফ্রাইড রাইস কিংবা চাউমিন দারুণ মানিয়ে যায়। চাইলে এটিকে স্টার্টার হিসেবেও পরিবেশন করতে পারেন।
আর যদি সস একটু বেশি রেখে গ্রেভি ধরনের চিলি চিকেন বানাতে চান, তাহলে রান্নার সময় সামান্য বেশি ভেজিটেবল স্টক যোগ করুন। আলাদা করে কর্নফ্লাওয়ার ও স্টকের স্লারি তৈরি করে শেষে মেশালেও সস আরও ঘন করা যায়।
ঘরেই সহজ উপকরণে তৈরি এই চিলি চিকেন হতে পারে সপ্তাহান্তের ডিনার কিংবা অতিথি আপ্যায়নের জন্য দারুণ একটি পদ। ঝালের মাত্রা নিজের পছন্দমতো ঠিক করে নিলে ছোট-বড় সবার জন্যই রেসিপিটি মানিয়ে নেওয়া সম্ভব।





























