ঢাকা ০৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না ইরান: বিবিসিকে আইআরজিসি সাবেক কমান্ডার

  • Asrafi Al Nahin
  • Update Time : ১২:৫৫:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৯

হরমুজ প্রণালিকে কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখছে ইরান, বললেন দেশটির জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক

তেহরান কখনোই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না—এমন দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই কৌশলগত জলপথের নিয়ন্ত্রণ ইরানের মৌলিক অধিকার এবং এটি কখনো ত্যাগ করা হবে না।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সাবেক কমান্ডার ও বর্তমান পার্লামেন্ট সদস্য ইব্রাহিম আজিজি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলসহ সব ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তেহরানের হাতে থাকবে। তাঁর ভাষায়, “এই পথ দিয়ে কী হবে, সেটি নির্ধারণ করবে ইরানই।”

আরও পড়ুন  তেলের বাজার উন্মুক্ত না করলে খেসারত নিশ্চিত: ইরানের হুঁশিয়ারি

তিনি আরও জানান, এই নিয়ন্ত্রণকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে পার্লামেন্টে একটি বিল উত্থাপন করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত আইনে পরিবেশ সুরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং সশস্ত্র বাহিনী এর বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে। ইব্রাহিম আজিজি বর্তমানে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে ইতোমধ্যে এই রুট ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে।

আরও পড়ুন  মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস পুতিনের

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাত ইরানের হাতে হরমুজ প্রণালিকে একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করেছে। ইব্রাহিম আজিজিও এটিকে “শত্রুর মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই জলপথ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক আলোচনায় ইরানকে বাড়তি সুবিধা দেবে।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ফেলো মোহাম্মদ ইসলামি বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইরানের প্রধান লক্ষ্য হবে নিজেদের প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনর্গঠন করা। আর এই প্রক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ চাপ প্রয়োগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

আরও পড়ুন  ইরানের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের ইঙ্গিত

তিনি আরও জানান, নতুন কৌশল অনুযায়ী ইরান অন্যান্য দেশকে কিছু সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত থাকলেও, চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখতে চায় তেহরান।

তবে ইরানের এই অবস্থান ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি প্রতিবেশী দেশ প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না ইরান: বিবিসিকে আইআরজিসি সাবেক কমান্ডার

Update Time : ১২:৫৫:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

তেহরান কখনোই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না—এমন দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই কৌশলগত জলপথের নিয়ন্ত্রণ ইরানের মৌলিক অধিকার এবং এটি কখনো ত্যাগ করা হবে না।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সাবেক কমান্ডার ও বর্তমান পার্লামেন্ট সদস্য ইব্রাহিম আজিজি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলসহ সব ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তেহরানের হাতে থাকবে। তাঁর ভাষায়, “এই পথ দিয়ে কী হবে, সেটি নির্ধারণ করবে ইরানই।”

আরও পড়ুন  মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে গ্রেপ্তার অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নার।

তিনি আরও জানান, এই নিয়ন্ত্রণকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে পার্লামেন্টে একটি বিল উত্থাপন করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত আইনে পরিবেশ সুরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং সশস্ত্র বাহিনী এর বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে। ইব্রাহিম আজিজি বর্তমানে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে ইতোমধ্যে এই রুট ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে।

আরও পড়ুন  তেলের বাজার উন্মুক্ত না করলে খেসারত নিশ্চিত: ইরানের হুঁশিয়ারি

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাত ইরানের হাতে হরমুজ প্রণালিকে একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করেছে। ইব্রাহিম আজিজিও এটিকে “শত্রুর মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই জলপথ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক আলোচনায় ইরানকে বাড়তি সুবিধা দেবে।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ফেলো মোহাম্মদ ইসলামি বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইরানের প্রধান লক্ষ্য হবে নিজেদের প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনর্গঠন করা। আর এই প্রক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ চাপ প্রয়োগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

আরও পড়ুন  নাইজেরিয়ায় বাজারে বিমান হামলার অভিযোগ, বহু হতাহতের খবর

তিনি আরও জানান, নতুন কৌশল অনুযায়ী ইরান অন্যান্য দেশকে কিছু সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত থাকলেও, চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখতে চায় তেহরান।

তবে ইরানের এই অবস্থান ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি প্রতিবেশী দেশ প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।