হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একদিনে চারটি ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে স্বর্ণ, ওষুধ, সিগারেট, নিষিদ্ধ ক্রিম, সিরাম ও বিদেশি মদসহ প্রায় ৪২ লাখ ৮৮ হাজার টাকার পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। ১৫ আগস্ট সি-শিফটের কর্মকর্তারা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক এসব অভিযান পরিচালনা করেন।
এর মধ্যে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের ইউএল১৮৯ ফ্লাইটে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে ১৩৩ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। ট্রলির ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি গোপন স্থানে স্বর্ণটি রাখা হয়েছিল। একই যাত্রীর লাগেজ থেকে অনুমোদনবিহীন ২ হাজার ৫৮৯ পিস শর্তসাপেক্ষে আমদানিযোগ্য ওষুধও পাওয়া যায়।
সিআইআইডি জানায়, ওই যাত্রী ওষুধগুলো আমদানির প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র বা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। স্বর্ণ ও ওষুধসহ জব্দ পণ্যগুলোর আনুমানিক মূল্য ৩০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে এয়ার ইন্ডিয়ার এআই২৩৭ ফ্লাইটে আসা এক যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করে ৬ লিটার বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। গ্র্যান্টস ব্র্যান্ডের ওই মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
এমিরেটসের ইকে০৫৮৬ ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে আরও ২৯ কার্টন সিগারেট ও ৭০৮ পিস পাকিস্তানি হোয়াইটিং সিরাম জব্দ করা হয়েছে। এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ৪৯ হাজার ১০০ টাকা বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া ইউএস-বাংলার বিএস৩১৬ ফ্লাইটে আসা এক যাত্রীর লাগেজ থেকে ৩০ কেজি আমদানি নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা ক্রিমের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ টাকা।
সিআইআইডির তথ্য অনুযায়ী, চারটি ফ্লাইটে পরিচালিত অভিযানে সব মিলিয়ে ১৩৩ গ্রাম স্বর্ণ, ২ হাজার ৫৮৯ পিস ওষুধ, ৫১ কার্টন সিগারেট, ৩১ কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম, ৭০৮ পিস সিরাম ও ৬ লিটার বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, যাত্রীদের প্রোফাইলিং এবং বিমানবন্দরে বাড়তি নজরদারির মাধ্যমে এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বিমানবন্দর দিয়ে চোরাচালান ও অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
























