মোংলায় এলএনজি স্টেশন নির্মাণ করে সেখান থেকে গ্যাস এনে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন নৌপরিবহণ, সড়ক ও সেতু এবং রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানিয়েছেন, মোংলা বন্দরের অদূরে আকরাম পয়েন্টে এলএনজি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। সেখান থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস মোংলায় আনা হবে। পরে ওই গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) মোংলার স্থায়ী বন্দর বাসস্ট্যান্ডে পৌর বিএনপি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মোংলাকে ঘিরে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বন্দর ও শিল্প অবকাঠামোরও বড় ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে মোংলা বন্দরে নতুন জেটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি। মোংলাকে ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
মোংলায় এলএনজি স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনার পাশাপাশি মোংলা নদীর ওপর ১০ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু দ্রুত বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানান শেখ রবিউল আলম। তাঁর মতে, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হলে মোংলা বন্দর ও আশপাশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। বিশেষ করে বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হলে বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মোংলার বিশেষ অর্থনৈতিক জোনের কাজ আগামী অক্টোবর থেকে শুরু করার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। এই অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু হলে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি দাবি করেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে বন্দর উন্নয়নের সঙ্গে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
অনুষ্ঠানে শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে চায়। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থেকে তাদের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন করাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, মোংলার উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নত করা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বন্দরকে কেন্দ্র করে নতুন অবকাঠামো তৈরি হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধিও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে মোংলায় এলএনজি স্টেশন, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, নতুন জেটি, কোল্ড স্টোরেজ ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল—একাধিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা সামনে এসেছে। এর সঙ্গে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ যুক্ত হলে মোংলার যোগাযোগ ও বন্দরনির্ভর অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়তে পারে।



























