ঢাকা ১০:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পোড়া পাতিলের কালো দাগ নিয়ে টেনশন নয় বরফেই হবে ঝকঝকে Logo ত্বক তেলতেলে হলেও শুষ্কতা দেখা দেয় যে কারণে Logo মশা তাড়াতে রসুন Logo কোলেস্টেরল কমাতে নতুন নির্দেশনা কখন শুরু করবেন চিকিৎসা? Logo এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে নিতে জুভেন্টাসের নতুন প্রস্তাব, জমে উঠেছে চমকপ্রদ লড়াই Logo ক্যাপসিকাম কি কমাতে পারে ক্যান্সারের ঝুঁকি? Logo ইনস্টাগ্রাম-ফেসবুকের বড় পরিবর্তন, শিশু গোপনীয়তা মামলায় মেটার বিপদ Logo ব্রুনো ফার্নান্দেজকে ছাড়বে না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ট্রান্সফারে বড় সিদ্ধান্ত Logo চিকিৎসক না হয়েও চোখের চিকিৎসা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কঠোর ব্যবস্থা Logo শেষ ইনকা নগরীর চমকপ্রদ রহস্য, হারানো ভিলকাবাম্বা কীভাবে খুঁজে পেলেন ‘রিয়েল ইন্ডিয়ানা জোন্স’

চিকিৎসক না হয়েও চোখের চিকিৎসা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কঠোর ব্যবস্থা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:৪৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৭

ভুয়া চিকিৎসকের চেম্বারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

চোখের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যোগ্যতা ও নিবন্ধন ছিল না তাঁর। তবু চিকিৎসকের পরিচয় ব্যবহার করে নিয়মিত রোগী দেখতেন এবং ব্যবস্থাপত্র দিতেন শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের মো. জাফর। শেষ পর্যন্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর চেম্বারে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। সেখানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। পরে তাঁকে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

গোসাইরহাট উপজেলার জঙ্গল বাজারের মুক্তিযোদ্ধা ভবনের দোতলায় ছিল জাফরের চেম্বার। সেখানে ‘জান্নাত মেডিকেল সেন্টার’ নামে কার্যক্রম চালাতেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে সেখানে রোগী দেখছিলেন জাফর। শুধু তা-ই নয়, ব্যবস্থাপত্রেও তিনি ‘ডা. হামিদুর রহমান’ নাম ব্যবহার করতেন। রোগীদের কাছেও ওই নামেই পরিচিত ছিলেন তিনি। সোমবার দুপুরে তাঁর চেম্বারে অভিযান চালানো হলে সামনে আসে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার বৈধতার বিষয়টি।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নওশাদ হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে জাফরের কাছে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসক হিসেবে তাঁর স্বীকৃত যোগ্যতা, নিবন্ধন কিংবা বৈধ অনুমতিপত্র পাওয়া যায়নি। অভিযানের সময় তাঁকে রোগী দেখা এবং ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ফলে ঘটনাস্থলেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নওশাদ হাসান জানান, অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন অনুযায়ী জাফরকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ড ঘোষণার পর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। অভিযানে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা এস মহাম্মাদুল্লাহ, গোসাইরহাট থানার উপপরিদর্শক মো. হামিদসহ পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসনের এই অভিযানকে অবৈধ চিকিৎসাসেবা বন্ধে নেওয়া একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা এস মহাম্মাদুল্লাহ বলেন, জাফর বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের স্বীকৃত চিকিৎসক নন। চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় যোগ্যতাও তাঁর নেই। অভিযানের সময় তাঁকে রোগী দেখতে ও ব্যবস্থাপত্র দিতে দেখা গেছে। কিন্তু চিকিৎসা দেওয়া বা ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার জন্য তাঁর কোনো বৈধ লাইসেন্স ছিল না। বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চোখের মতো সংবেদনশীল অঙ্গের চিকিৎসায় ভুল পরামর্শ বা ভুল ওষুধ রোগীর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে চিকিৎসক নিবন্ধন-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা যায়।

চিকিৎসাসেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে রোগীদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কারও কাছে চিকিৎসা নেওয়ার আগে তাঁর নাম, পেশাগত যোগ্যতা ও নিবন্ধন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। বিশেষ করে চোখের চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত ও নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। গোসাইরহাটের এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের এমন অভিযান অবৈধ চিকিৎসাসেবা বন্ধে কতটা কার্যকর হয়, সেটিও এখন দেখার বিষয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, রোগীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অনুমোদনহীন চিকিৎসাসেবার বিরুদ্ধে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পোড়া পাতিলের কালো দাগ নিয়ে টেনশন নয় বরফেই হবে ঝকঝকে

চিকিৎসক না হয়েও চোখের চিকিৎসা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কঠোর ব্যবস্থা

Update Time : ০৮:৪৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

চোখের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যোগ্যতা ও নিবন্ধন ছিল না তাঁর। তবু চিকিৎসকের পরিচয় ব্যবহার করে নিয়মিত রোগী দেখতেন এবং ব্যবস্থাপত্র দিতেন শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের মো. জাফর। শেষ পর্যন্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর চেম্বারে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। সেখানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। পরে তাঁকে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

গোসাইরহাট উপজেলার জঙ্গল বাজারের মুক্তিযোদ্ধা ভবনের দোতলায় ছিল জাফরের চেম্বার। সেখানে ‘জান্নাত মেডিকেল সেন্টার’ নামে কার্যক্রম চালাতেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে সেখানে রোগী দেখছিলেন জাফর। শুধু তা-ই নয়, ব্যবস্থাপত্রেও তিনি ‘ডা. হামিদুর রহমান’ নাম ব্যবহার করতেন। রোগীদের কাছেও ওই নামেই পরিচিত ছিলেন তিনি। সোমবার দুপুরে তাঁর চেম্বারে অভিযান চালানো হলে সামনে আসে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার বৈধতার বিষয়টি।

আরও পড়ুন  নারী সেজে টিকটক করা ছাত্রদল নেতা রেদোয়ান বহিষ্কার

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নওশাদ হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে জাফরের কাছে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসক হিসেবে তাঁর স্বীকৃত যোগ্যতা, নিবন্ধন কিংবা বৈধ অনুমতিপত্র পাওয়া যায়নি। অভিযানের সময় তাঁকে রোগী দেখা এবং ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ফলে ঘটনাস্থলেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নওশাদ হাসান জানান, অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন অনুযায়ী জাফরকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ড ঘোষণার পর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। অভিযানে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা এস মহাম্মাদুল্লাহ, গোসাইরহাট থানার উপপরিদর্শক মো. হামিদসহ পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসনের এই অভিযানকে অবৈধ চিকিৎসাসেবা বন্ধে নেওয়া একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  হাম: নতুন ৬ মৃত্যু, ভয়াবহ পরিস্থিতির আপডেট

গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা এস মহাম্মাদুল্লাহ বলেন, জাফর বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের স্বীকৃত চিকিৎসক নন। চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় যোগ্যতাও তাঁর নেই। অভিযানের সময় তাঁকে রোগী দেখতে ও ব্যবস্থাপত্র দিতে দেখা গেছে। কিন্তু চিকিৎসা দেওয়া বা ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার জন্য তাঁর কোনো বৈধ লাইসেন্স ছিল না। বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চোখের মতো সংবেদনশীল অঙ্গের চিকিৎসায় ভুল পরামর্শ বা ভুল ওষুধ রোগীর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে চিকিৎসক নিবন্ধন-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা যায়।

আরও পড়ুন  ইলিশের দাম আকাশচুম্বী: পহেলা বৈশাখে বাজারে সংকট, ক্রেতাদের হতাশা

চিকিৎসাসেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে রোগীদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কারও কাছে চিকিৎসা নেওয়ার আগে তাঁর নাম, পেশাগত যোগ্যতা ও নিবন্ধন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। বিশেষ করে চোখের চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত ও নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। গোসাইরহাটের এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের এমন অভিযান অবৈধ চিকিৎসাসেবা বন্ধে কতটা কার্যকর হয়, সেটিও এখন দেখার বিষয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, রোগীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অনুমোদনহীন চিকিৎসাসেবার বিরুদ্ধে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।