পানি খাওয়ার অভ্যাস ঠিক রাখতে শুধু তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা করলে হবে না। ব্যস্ততার কারণে অনেকেই দিনের বড় একটা সময় পানি না খেয়েই কাটিয়ে দেন। অথচ শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখতে পর্যাপ্ত তরল প্রয়োজন। নিয়মিত পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে নিচের ৯টি কৌশল অনুসরণ করতে পারেন।
১. নিজের পানির প্রয়োজন বুঝুন
সবার শরীরে একই পরিমাণ পানি প্রয়োজন হয় না। আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম, বয়স, খাবারের ধরন ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর তরলের চাহিদা নির্ভর করে। তাই শুধু নির্দিষ্ট সংখ্যক গ্লাস পানি খাওয়ার লক্ষ্য না রেখে শরীরের প্রয়োজন ও তৃষ্ণার অনুভূতিকেও গুরুত্ব দিন। গরমে বা বেশি পরিশ্রম করলে সাধারণত তরলের প্রয়োজন বাড়তে পারে।
২. প্রতিদিন পানির লক্ষ্য ঠিক করুন
প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করবেন, তার একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। চাইলে মোবাইলের নোট বা অ্যাপে তা লিখে রাখতে পারেন। একসঙ্গে অনেক পানি পান করার চেষ্টা না করে দিনের বিভিন্ন সময়ে ভাগ করে নিলে লক্ষ্য পূরণ করা সহজ হয়। প্রতিদিনের অগ্রগতি লিখে রাখলে ধীরে ধীরে এটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হতে পারে।
৩. সব সময় পানির বোতল সঙ্গে রাখুন
বাইরে বের হওয়ার সময় ফোন, মানিব্যাগ ও চাবির মতো পানির বোতলকেও প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকায় রাখুন। অফিসের ডেস্ক, পড়ার টেবিল কিংবা গাড়িতেও পানি হাতের কাছে রাখুন। চোখের সামনে বোতল থাকলে পানি খাওয়ার কথা সহজে মনে পড়ে। বিশেষ করে গরমের দিনে বাইরে গেলে এই অভ্যাস বেশ কাজে দিতে পারে।
৪. মোবাইলে রিমাইন্ডার দিন
কাজের ব্যস্ততায় পানি খাওয়ার কথা ভুলে গেলে মোবাইল বা স্মার্টওয়াচের সাহায্য নিতে পারেন। নির্দিষ্ট সময় পরপর পানি পান করার জন্য অ্যালার্ম বা রিমাইন্ডার সেট করুন। যেমন প্রতি ঘণ্টায় কয়েক ঢোঁক পানি পান করার অভ্যাস করা যায়। কয়েক সপ্তাহ এভাবে চললে আলাদা রিমাইন্ডার ছাড়াই পানি খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হতে পারে।
৫. খাবারের আগে পানি পান করুন
প্রতিবার খাবারের আগে এক গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস করুন। এতে দিনের পানির পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত পানি খাওয়ার একটি নির্দিষ্ট সময়ও তৈরি হবে। অনেক সময় তৃষ্ণাকে ক্ষুধা মনে হতে পারে। তাই খাবারের আগে পানি পান করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে শরীরের প্রকৃত প্রয়োজন বুঝতে সুবিধা হতে পারে।
৬. পানিতে প্রাকৃতিক স্বাদ যোগ করুন
সাধারণ পানি খেতে একঘেয়ে লাগলে পানিতে লেবু, শসা, পুদিনা বা পছন্দের ফল যোগ করতে পারেন। এতে পানির স্বাদে পরিবর্তন আসবে এবং পানি পান করতে ভালো লাগতে পারে। তবে বাজারের ফ্লেভারযুক্ত পানীয় বা পাউডার ব্যবহারের আগে তাতে অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম উপাদান রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া ভালো।
৭. অফিসে ঘণ্টাভিত্তিক রুটিন তৈরি করুন
যারা দিনের বেশির ভাগ সময় অফিসে থাকেন, তারা কাজের সঙ্গে পানি খাওয়ার রুটিন মিলিয়ে নিতে পারেন। অফিসে পৌঁছে পানির গ্লাস বা বোতল সামনে রাখুন। প্রতি ঘণ্টার শুরুতে কয়েক ঢোঁক পানি পান করার অভ্যাস করুন। এতে কাজের চাপের মধ্যেও নিয়মিত তরল গ্রহণ করা সহজ হবে।
৮. সারা দিন অল্প অল্প করে পানি পান করুন
একবারে অনেক পানি পান করার পরিবর্তে দিনের বিভিন্ন সময়ে অল্প অল্প করে পানি পান করুন। ডেস্কে বা হাতের কাছে পানির বোতল রাখুন এবং চোখে পড়লেই কয়েক ঢোঁক পান করুন। বিশেষ করে গরম আবহাওয়া বা শারীরিক পরিশ্রমের সময় তৃষ্ণাকে উপেক্ষা না করাই ভালো।
৯. ঘুম থেকে উঠে পানি পান করুন
দিনের শুরুতেই পানি পান করার অভ্যাস করুন। ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি দিয়ে দিন শুরু করা যেতে পারে। একইভাবে রাতে ঘুমানোর আগে পানি পান করা যায়, তবে রাতে বারবার প্রস্রাবের সমস্যা থাকলে ঘুমের ঠিক আগে বেশি পানি পান না করাই ভালো। ব্যক্তিভেদে পানির প্রয়োজন আলাদা হতে পারে, তাই নিজের শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দিন।




























