ঢাকা ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Wafcon 2026 প্রথম শিরোপা জিতল ক্যামেরুন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:০৩:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২০

মালাউইকে হারিয়ে প্রথমবার নারী আফ্রিকা কাপ অব নেশনস চ্যাম্পিয়ন ক্যামেরুন | ছবি: সংগৃহীত

ইতিহাস গড়ল ক্যামেরুন Wafcon দল। নারী আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে মালাউইকে ৩-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতেছে ইন্দোমিটেবল লায়নেসেস। মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই দারুণ নিয়ন্ত্রণ দেখিয়ে একের পর এক আক্রমণ চালায় ক্যামেরুন।

ম্যাচের ২০ মিনিটে কাছ থেকে হেড করে ক্যামেরুনকে এগিয়ে দেন মারি এনগাহ মাঙ্গা। এরপর ৩০ মিনিটে দুর্দান্ত ভলিতে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নাওমি এতো। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে আবারও গোল করেন এনগাহ মাঙ্গা। এতো মালাউইয়ের গোলরক্ষক মার্সি সিকেলোকে কাটিয়ে বল বাড়িয়ে দিলে ফাঁকা জালে হেড করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।

ফাইনালের আগে দারুণ চমক দেখিয়েছিল মালাউই। বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৫৩ নম্বরে থাকা দলটি প্রথমবারের মতো Wafcon-এ অংশ নিয়েই ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছিল। তাদের আক্রমণের মূল ভরসা ছিলেন বোন তাবিথা ও তেমওয়া চাওয়িংগা। কিন্তু ক্যামেরুনের রক্ষণভাগ তাদের খুব বেশি সুযোগ দেয়নি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন এনগাহ মাঙ্গা। গোলরক্ষককে কাটিয়ে সামনে ফাঁকা গোল পেয়েও মাত্র ছয় গজ দূর থেকে বল বাইরে পাঠান তিনি। ফলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এককভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও হাতছাড়া হয় তার। শেষ পর্যন্ত পাঁচ গোল নিয়ে তিনি তেমওয়া চাওয়িংগা ও বারব্রা বান্দার সঙ্গে সমতায় থাকেন।

মালাউইয়ের সবচেয়ে ভালো সুযোগ আসে ম্যাচের এক ঘণ্টা পার হওয়ার পর। তাবিথা চাওয়িংগার নিচু শট ঠেকিয়ে দেন ক্যামেরুনের গোলরক্ষক মাইকেলি বিহিনা। ফিরতি বল পেয়ে তেমওয়া শট নিলেও সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর আর ম্যাচে বড় কোনো প্রত্যাবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি মালাউই।

ক্যামেরুনের এই শিরোপা জয় আরও উল্লেখযোগ্য কারণ দলটি আগের Wafcon আসরে খেলতে পারেনি এবং এবারের আসরের বাছাইপর্বেও সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছিল। আলজেরিয়ার কাছে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ গোলে হেরে বাছাইপর্ব থেকে বিদায় নেয় তারা। পরে প্রতিযোগিতার দলসংখ্যা ১২ থেকে বাড়িয়ে ১৬ করা হলে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে মূল পর্বে সুযোগ পায় ক্যামেরুন।

মূল পর্বে সুযোগ পাওয়ার পর অবশ্য নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে দলটি। কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী নাইজেরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে দেয় তারা। এরপর সেমিফাইনালে স্বাগতিক মরক্কোকে পেনাল্টি শুটআউটে পরাজিত করে ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

এই সাফল্যের পেছনে গোলরক্ষক মাইকেলি বিহিনার অবদানও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি নয়টি সেভ করেন। মরক্কোর বিপক্ষে সেমিফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে একটি পেনাল্টি ঠেকানোর পর টাইব্রেকারেও আরও তিনটি শট রুখে দেন ২২ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক।

ফাইনালে অবশ্য তাকে খুব বেশি পরীক্ষা দিতে হয়নি। ক্যামেরুনের সংগঠিত রক্ষণ মালাউইয়ের আক্রমণভাগকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখে। মাঝমাঠে মনিক এনগকও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। চাওয়িংগা বোনদের দিকে মালাউইয়ের দ্রুত পাস পৌঁছাতে না দেওয়ায় ক্যামেরুনের রক্ষণ অনেকটাই স্বস্তিতে ছিল।

মাত্র জুনে ক্যামেরুনের কোচের দায়িত্ব নেওয়া ভ্যালেন্টিন এনগুয়েলে অল্প সময়ের মধ্যেই দলটিকে গুছিয়ে তুলেছেন। তার অধীনে ক্যামেরুন প্রথমবারের মতো Wafcon শিরোপা জিতল। এর আগে ২০০৪, ২০১৪ ও ২০১৬ সালের ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি তারা। তিনবারই নাইজেরিয়ার কাছে হেরেছিল ক্যামেরুন।

ফাইনালের পর ক্যামেরুনের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের উদযাপন ছিল চোখে পড়ার মতো। ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি স্যামুয়েল এতোও গ্যালারিতে বসে প্রতিটি গোলের সময় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। শেষ বাঁশির পর দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা মাঠে নেমে প্রথম Wafcon শিরোপা উদযাপন করেন।

এই শিরোপার সঙ্গে ক্যামেরুন পেয়েছে ২০ লাখ ডলার পুরস্কারও। তারা এখন নারী আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জেতা মাত্র চতুর্থ দল। এর আগে নাইজেরিয়া, নিরক্ষীয় গিনি ও দক্ষিণ আফ্রিকা এই ট্রফি জিতেছে।

অন্যদিকে মালাউইয়ের জন্য ফাইনালে হার এলেও পুরো টুর্নামেন্ট ছিল অসাধারণ সাফল্যের। প্রথমবার অংশ নিয়েই ফাইনালে ওঠা দলটি আফ্রিকার নারী ফুটবলে নিজেদের নতুন শক্তি হিসেবে পরিচিত করেছে। বিশেষ করে তাবিথা ও তেমওয়া চাওয়িংগা বোনের আক্রমণভাগের পারফরম্যান্স পুরো টুর্নামেন্টেই আলোচনায় ছিল।

এখন দুই দলই সামনে তাকাচ্ছে আরও বড় মঞ্চের দিকে। ক্যামেরুন ও মালাউইয়ের পাশাপাশি সেমিফাইনালিস্ট আলজেরিয়া ও স্বাগতিক মরক্কোও ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপে খেলবে। ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় সেই বিশ্বকাপে আফ্রিকার চার দল নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ পাবে।

তবে আপাতত আলোচনার কেন্দ্রে একটাই নাম—ক্যামেরুন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রথমবারের মতো নারী আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ট্রফি ঘরে তুলেছে ইন্দোমিটেবল লায়নেসেসরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

Wafcon 2026 প্রথম শিরোপা জিতল ক্যামেরুন

Update Time : ১১:০৩:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

ইতিহাস গড়ল ক্যামেরুন Wafcon দল। নারী আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে মালাউইকে ৩-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতেছে ইন্দোমিটেবল লায়নেসেস। মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই দারুণ নিয়ন্ত্রণ দেখিয়ে একের পর এক আক্রমণ চালায় ক্যামেরুন।

ম্যাচের ২০ মিনিটে কাছ থেকে হেড করে ক্যামেরুনকে এগিয়ে দেন মারি এনগাহ মাঙ্গা। এরপর ৩০ মিনিটে দুর্দান্ত ভলিতে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নাওমি এতো। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে আবারও গোল করেন এনগাহ মাঙ্গা। এতো মালাউইয়ের গোলরক্ষক মার্সি সিকেলোকে কাটিয়ে বল বাড়িয়ে দিলে ফাঁকা জালে হেড করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।

ফাইনালের আগে দারুণ চমক দেখিয়েছিল মালাউই। বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৫৩ নম্বরে থাকা দলটি প্রথমবারের মতো Wafcon-এ অংশ নিয়েই ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছিল। তাদের আক্রমণের মূল ভরসা ছিলেন বোন তাবিথা ও তেমওয়া চাওয়িংগা। কিন্তু ক্যামেরুনের রক্ষণভাগ তাদের খুব বেশি সুযোগ দেয়নি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন এনগাহ মাঙ্গা। গোলরক্ষককে কাটিয়ে সামনে ফাঁকা গোল পেয়েও মাত্র ছয় গজ দূর থেকে বল বাইরে পাঠান তিনি। ফলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এককভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও হাতছাড়া হয় তার। শেষ পর্যন্ত পাঁচ গোল নিয়ে তিনি তেমওয়া চাওয়িংগা ও বারব্রা বান্দার সঙ্গে সমতায় থাকেন।

আরও পড়ুন  গোলরক্ষক নাকি চীনের মহাপ্রাচীর

মালাউইয়ের সবচেয়ে ভালো সুযোগ আসে ম্যাচের এক ঘণ্টা পার হওয়ার পর। তাবিথা চাওয়িংগার নিচু শট ঠেকিয়ে দেন ক্যামেরুনের গোলরক্ষক মাইকেলি বিহিনা। ফিরতি বল পেয়ে তেমওয়া শট নিলেও সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর আর ম্যাচে বড় কোনো প্রত্যাবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি মালাউই।

ক্যামেরুনের এই শিরোপা জয় আরও উল্লেখযোগ্য কারণ দলটি আগের Wafcon আসরে খেলতে পারেনি এবং এবারের আসরের বাছাইপর্বেও সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছিল। আলজেরিয়ার কাছে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ গোলে হেরে বাছাইপর্ব থেকে বিদায় নেয় তারা। পরে প্রতিযোগিতার দলসংখ্যা ১২ থেকে বাড়িয়ে ১৬ করা হলে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে মূল পর্বে সুযোগ পায় ক্যামেরুন।

মূল পর্বে সুযোগ পাওয়ার পর অবশ্য নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে দলটি। কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী নাইজেরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে দেয় তারা। এরপর সেমিফাইনালে স্বাগতিক মরক্কোকে পেনাল্টি শুটআউটে পরাজিত করে ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

আরও পড়ুন  ভাইকিং থিমে জন্মদিন, বিলাসিতায় মুগ্ধ করলেন আর্লিং হালান্ড

এই সাফল্যের পেছনে গোলরক্ষক মাইকেলি বিহিনার অবদানও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি নয়টি সেভ করেন। মরক্কোর বিপক্ষে সেমিফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে একটি পেনাল্টি ঠেকানোর পর টাইব্রেকারেও আরও তিনটি শট রুখে দেন ২২ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক।

ফাইনালে অবশ্য তাকে খুব বেশি পরীক্ষা দিতে হয়নি। ক্যামেরুনের সংগঠিত রক্ষণ মালাউইয়ের আক্রমণভাগকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখে। মাঝমাঠে মনিক এনগকও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। চাওয়িংগা বোনদের দিকে মালাউইয়ের দ্রুত পাস পৌঁছাতে না দেওয়ায় ক্যামেরুনের রক্ষণ অনেকটাই স্বস্তিতে ছিল।

মাত্র জুনে ক্যামেরুনের কোচের দায়িত্ব নেওয়া ভ্যালেন্টিন এনগুয়েলে অল্প সময়ের মধ্যেই দলটিকে গুছিয়ে তুলেছেন। তার অধীনে ক্যামেরুন প্রথমবারের মতো Wafcon শিরোপা জিতল। এর আগে ২০০৪, ২০১৪ ও ২০১৬ সালের ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি তারা। তিনবারই নাইজেরিয়ার কাছে হেরেছিল ক্যামেরুন।

ফাইনালের পর ক্যামেরুনের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের উদযাপন ছিল চোখে পড়ার মতো। ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি স্যামুয়েল এতোও গ্যালারিতে বসে প্রতিটি গোলের সময় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। শেষ বাঁশির পর দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা মাঠে নেমে প্রথম Wafcon শিরোপা উদযাপন করেন।

আরও পড়ুন  খেলা ছাড়িয়ে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বসেরা তারকাদের মেলা

এই শিরোপার সঙ্গে ক্যামেরুন পেয়েছে ২০ লাখ ডলার পুরস্কারও। তারা এখন নারী আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জেতা মাত্র চতুর্থ দল। এর আগে নাইজেরিয়া, নিরক্ষীয় গিনি ও দক্ষিণ আফ্রিকা এই ট্রফি জিতেছে।

অন্যদিকে মালাউইয়ের জন্য ফাইনালে হার এলেও পুরো টুর্নামেন্ট ছিল অসাধারণ সাফল্যের। প্রথমবার অংশ নিয়েই ফাইনালে ওঠা দলটি আফ্রিকার নারী ফুটবলে নিজেদের নতুন শক্তি হিসেবে পরিচিত করেছে। বিশেষ করে তাবিথা ও তেমওয়া চাওয়িংগা বোনের আক্রমণভাগের পারফরম্যান্স পুরো টুর্নামেন্টেই আলোচনায় ছিল।

এখন দুই দলই সামনে তাকাচ্ছে আরও বড় মঞ্চের দিকে। ক্যামেরুন ও মালাউইয়ের পাশাপাশি সেমিফাইনালিস্ট আলজেরিয়া ও স্বাগতিক মরক্কোও ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপে খেলবে। ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় সেই বিশ্বকাপে আফ্রিকার চার দল নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ পাবে।

তবে আপাতত আলোচনার কেন্দ্রে একটাই নাম—ক্যামেরুন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রথমবারের মতো নারী আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ট্রফি ঘরে তুলেছে ইন্দোমিটেবল লায়নেসেসরা।