বায়ার্ন মিউনিখের তারকা জামাল মুসিয়ালা সাময়িক খিঁচুনি বা ‘অ্যাবসেন্স সিজার’ নামের স্নায়ুসংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হয়েছেন। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে লাইপজিগ ও হেইডেনহাইমের বিপক্ষে ম্যাচে দুবার এমন সমস্যার মুখোমুখি হন তিনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের শারীরিক অবস্থা জানিয়ে ভক্তদের আশ্বস্ত করেছেন জার্মান এই মিডফিল্ডার। মুসিয়ালা জানিয়েছেন, সমস্যাটি সাময়িক এবং চিকিৎসাযোগ্য।
লাইপজিগের বিপক্ষে বায়ার্নের ৩-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে প্রথমবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন মুসিয়ালা। এরপর হেইডেনহাইমের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ের ম্যাচেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। পরপর দুটি ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বায়ার্ন সমর্থকেরা। তবে মুসিয়ালার দেওয়া বক্তব্যে আপাতত কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন তারা।
নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে মুসিয়ালা জানান, চিকিৎসকেরা তাঁর সাময়িক খিঁচুনি বা অ্যাবসেন্স সিজার শনাক্ত করেছেন। তাঁর ভাষায়, এটি মূলত স্নায়ুসংক্রান্ত সমস্যার কারণে হয়ে থাকে এবং সাময়িক প্রকৃতির। চিকিৎসাযোগ্য এই সমস্যার কারণে আপাতত ভক্তদের অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন না হওয়ার বার্তাই দিয়েছেন বায়ার্নের এই তারকা।
তবে মুসিয়ালাই প্রথম ফুটবলার নন, যিনি ক্যারিয়ারে এমন স্নায়বিক জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন। বিশ্ব ফুটবলের বেশ কয়েকজন পরিচিত খেলোয়াড়ও বিভিন্ন সময়ে খিঁচুনি, জ্ঞান হারানো কিংবা স্নায়ুসংক্রান্ত সমস্যায় ভুগেছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো।
১৯৯৮ বিশ্বকাপের ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগে হঠাৎ তীব্র খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন রোনালদো। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে শারীরিক সমস্যায় ভেঙে পড়লেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নেমেছিলেন তিনি। তবে স্বাভাবিক অবস্থায় না থাকায় ফাইনালে নিজের সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান এই কিংবদন্তি।
ফ্রান্সের সাবেক স্ট্রাইকার বাফেতিম্বি গোমিসের ক্ষেত্রেও মাঠে জ্ঞান হারানোর ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। সোয়ানসি সিটি, গালাতাসারাই, সেন্ত-এতিয়েন ও অলিম্পিক লিওঁর হয়ে খেলার সময় তাঁকে মাঠেই লুটিয়ে পড়তে দেখা যায়। পরে চিকিৎসকেরা জানান, রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন হঠাৎ কমে যাওয়ার কারণেই মূলত তাঁর চেতনা হারানোর ঘটনা ঘটত।
ইংলিশ ক্লাব ব্রেন্টফোর্ডের সাবেক ডিফেন্ডার লিওন লেগও অল্প বয়সে মৃগীরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে স্নায়বিক এই সমস্যা তাঁর পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে বড় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪০৭ ম্যাচে ৩৬ গোল করেছেন তিনি। স্নায়ুসংক্রান্ত সমস্যায় আক্রান্ত ক্রীড়াবিদদের জন্য তাঁর ক্যারিয়ার এখনো অনুপ্রেরণার উদাহরণ।
মুসিয়ালার ক্ষেত্রেও আপাতত চিকিৎসার মাধ্যমে দ্রুত সুস্থ হয়ে ফেরার আশাই করা হচ্ছে। তরুণ এই তারকার শারীরিক অবস্থার দিকে এখন বিশেষ নজর রাখছে বায়ার্ন মিউনিখ ও তাঁর চিকিৎসক দল। ভক্তদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে দ্রুতই মাঠে ফিরবেন মুসিয়ালা।




























