ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলএনজি কেনা: জরুরি সিদ্ধান্তে ১৪ কার্গো, বড় পদক্ষেপ সরকারের

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:৪৩:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৫

সরকার ১৪ কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

এলএনজি কেনার মাধ্যমে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন ও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই মোট ১৪ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সাতটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এই গ্যাস সংগ্রহ করা হবে। ফলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দুই কার্গো করে এলএনজি কেনা হবে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। দেশের গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাস সরবরাহে যেন বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটে। দেশে গ্যাসের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি আমদানিনির্ভর এলএনজির গুরুত্বও বেড়েছে। তাই জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদে গ্যাস সরবরাহের চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, সাতটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সমানভাবে দুই কার্গো করে মোট ১৪ কার্গো এলএনজি কেনা হবে। অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে নীতিগত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে। অর্থাৎ, প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরবর্তী ধাপে ক্রয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। জ্বালানি খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকার জানিয়েছে, এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করা হবে। প্রস্তাবে সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬-এর ৬৮ ধারা এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর ১০৭, ৯৭ ও ৯৮ বিধি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাস সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় সরবরাহ অব্যাহত থাকলে উৎপাদন কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা কমানো সম্ভব হবে। তাই এই ১৪ কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্তের পরবর্তী কার্যক্রম ও সরবরাহ সময়সূচি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এলএনজি কেনা: জরুরি সিদ্ধান্তে ১৪ কার্গো, বড় পদক্ষেপ সরকারের

Update Time : ০৯:৪৩:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

এলএনজি কেনার মাধ্যমে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন ও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই মোট ১৪ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সাতটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এই গ্যাস সংগ্রহ করা হবে। ফলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দুই কার্গো করে এলএনজি কেনা হবে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। দেশের গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  গ্যাস সংকটে ধুঁকছে শিল্প, ঝুঁকিতে রফতানি ও লাখো কর্মসংস্থান

সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাস সরবরাহে যেন বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটে। দেশে গ্যাসের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি আমদানিনির্ভর এলএনজির গুরুত্বও বেড়েছে। তাই জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদে গ্যাস সরবরাহের চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা, লাগবে দুই বছর

প্রস্তাব অনুযায়ী, সাতটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সমানভাবে দুই কার্গো করে মোট ১৪ কার্গো এলএনজি কেনা হবে। অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে নীতিগত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে। অর্থাৎ, প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরবর্তী ধাপে ক্রয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। জ্বালানি খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকার জানিয়েছে, এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করা হবে। প্রস্তাবে সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬-এর ৬৮ ধারা এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর ১০৭, ৯৭ ও ৯৮ বিধি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন  এলএনজি টার্মিনাল বন্ধে বাড়তে পারে গ্যাস সংকট

সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাস সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় সরবরাহ অব্যাহত থাকলে উৎপাদন কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা কমানো সম্ভব হবে। তাই এই ১৪ কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্তের পরবর্তী কার্যক্রম ও সরবরাহ সময়সূচি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।