ঢাকা ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বিতর্ক কর্মশালা: যুক্তির শক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ বার্তা Logo ভাটারা সড়ক দুর্ঘটনা: ৩২ বছরের সাজ্জাদের মর্মান্তিক মৃত্যু Logo মেকআপ করা কি সত্যিই ত্বকের জন্য ক্ষতিকর জানুন আসল তথ্য Logo বার সাবান নাকি বডি ওয়াশ ত্বকের জন্য কোনটি ভালো Logo দ্য অডিসি: দুর্দান্ত আয়ে ভাঙল R-rated সিনেমার রেকর্ড Logo ফেরদৌস স্টিলে ১০ শ্রমিকের মৃত্যু কারণ অনুসন্ধানে মিলল বিষাক্ত গ্যাস Logo অর্পিতার রেস্তোরাঁয় চমকপ্রদ দাম, মাছ ১০ হাজার থেকে পানীয় লাখে Logo জঙ্গল দক্ষিণ পাহাড়তলী, বড় উদ্যোগে রুখবে পাহাড় দখল Logo সালমান শাহকে ঘিরে ভক্তদের আবেগের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘লাভ ৯৬’ Logo ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামের ২৮ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছয়টি বন্ধ

মেকআপ করা কি সত্যিই ত্বকের জন্য ক্ষতিকর জানুন আসল তথ্য

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২৬

নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রসাধনী বেছে নেওয়া উচিত। | ছবি: সংগৃহীত

মেকআপের ক্ষতি নিয়ে অনেকেরই মনে প্রশ্ন থাকে। সাজগোজ আমাদের চেহারায় আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে, নিজের স্টাইল প্রকাশের সুযোগও দেয়। কিন্তু নিয়মিত বা দীর্ঘসময় মেকআপ ব্যবহার করলে ত্বকে কিছু নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে কোন পণ্য ব্যবহার করছি, সেটিতে কী উপাদান আছে এবং দিন শেষে কীভাবে মেকআপ পরিষ্কার করছি—এসব বিষয়ের ওপর ত্বকের প্রতিক্রিয়া অনেকটাই নির্ভর করে। তাই মেকআপ মানেই খারাপ নয়, বরং ভুলভাবে ব্যবহার করাটাই বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে।

মেকআপের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি দেখা দিতে পারে ত্বকের জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব, চুলকানি বা অ্যালার্জির মাধ্যমে। প্রসাধনীতে থাকা সুগন্ধি, প্রিজারভেটিভ, রং এবং বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান সংবেদনশীল ত্বকে সমস্যা তৈরি করতে পারে। আবার কিছু পণ্যে এমন উপাদানও থাকতে পারে যেগুলো ত্বকের জন্য বিরক্তিকর। কারও ত্বকে সামান্য প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও অন্য কারও ক্ষেত্রে সমস্যা তুলনামূলক বেশি হতে পারে। নতুন কোনো মেকআপ ব্যবহারের আগে তাই উপাদানের তালিকা দেখা এবং প্রয়োজনে ছোট জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

দীর্ঘসময় মেকআপ পরে থাকলেও ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্যে প্রভাব পড়তে পারে। ফাউন্ডেশন, কনসিলার বা অন্যান্য স্তরযুক্ত প্রসাধনী ত্বকের পোরস আটকে দিতে পারে, বিশেষ করে যদি ত্বক তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ হয়। পোরস বন্ধ হয়ে গেলে ব্ল্যাকহেড, হোয়াইটহেড ও ব্রণ দেখা দিতে পারে। মেকআপ পরিষ্কার না করে ঘুমিয়ে পড়লে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। পুরোনো বা মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী ব্যবহারের ফলে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের সংস্পর্শে এসে ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

তবে সব মেকআপের প্রভাব নেতিবাচক নয়। কিছু প্রসাধনীতে ময়েশ্চারাইজিং উপাদান, স্যালিসিলিক অ্যাসিড বা ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত অন্যান্য উপকারী উপাদান থাকতে পারে। আবার SPF যুক্ত কিছু মেকআপ সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে অতিরিক্ত সুরক্ষায় সহায়তা করতে পারে। তবে শুধু SPF যুক্ত ফাউন্ডেশন বা মেকআপের ওপর নির্ভর না করে আলাদা সানস্ক্রিন ব্যবহার করাই বেশি কার্যকর। মেকআপ অনেকের আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও সাহায্য করে এবং সাজগোজ সৃজনশীলতার একটি মাধ্যম হিসেবেও কাজ করতে পারে।

ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রসাধনী বেছে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। তৈলাক্ত ত্বকে অতিরিক্ত ভারী বা ময়েশ্চারাইজিং ফর্মুলা ব্যবহার করলে ত্বক আরও তেলতেলে হয়ে যেতে পারে এবং ব্রণের প্রবণতা বাড়তে পারে। অন্যদিকে শুষ্ক ত্বকে খুব ম্যাট ধরনের পণ্য ব্যবহার করলে ত্বক আরও শুষ্ক ও খসখসে দেখাতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে সুগন্ধিমুক্ত ও ত্বকবান্ধব ফর্মুলা বেছে নেওয়া তুলনামূলক নিরাপদ। মেকআপের ক্ষতি কমাতে পণ্যের লেবেল পড়া এবং নিজের ত্বকের প্রয়োজন বুঝে প্রসাধনী নির্বাচন করা তাই অত্যন্ত জরুরি।

সবশেষে মেকআপ ব্যবহারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো পরিচ্ছন্নতা। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে মেকআপ সম্পূর্ণভাবে তুলে ফেলুন। প্রয়োজনে প্রথমে মেকআপ রিমুভার বা ক্লিনজিং বাম ব্যবহার করে পরে মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে পারেন। মেকআপ ব্রাশ ও স্পঞ্জ নিয়মিত পরিষ্কার করুন, অন্যের সঙ্গে প্রসাধনী শেয়ার করবেন না এবং পণ্যের মেয়াদ শেষ হলে ফেলে দিন। কোনো প্রসাধনী ব্যবহারের পর ত্বকে অস্বাভাবিক জ্বালা, ফুসকুড়ি বা অ্যালার্জি দেখা দিলে সেটি বন্ধ করুন। মনে রাখবেন, সুন্দর দেখানোর জন্য মেকআপ করা যায়, কিন্তু সেই সৌন্দর্যের সঙ্গে ত্বকের সুস্থতাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিতর্ক কর্মশালা: যুক্তির শক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ বার্তা

মেকআপ করা কি সত্যিই ত্বকের জন্য ক্ষতিকর জানুন আসল তথ্য

Update Time : ১১:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

মেকআপের ক্ষতি নিয়ে অনেকেরই মনে প্রশ্ন থাকে। সাজগোজ আমাদের চেহারায় আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে, নিজের স্টাইল প্রকাশের সুযোগও দেয়। কিন্তু নিয়মিত বা দীর্ঘসময় মেকআপ ব্যবহার করলে ত্বকে কিছু নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে কোন পণ্য ব্যবহার করছি, সেটিতে কী উপাদান আছে এবং দিন শেষে কীভাবে মেকআপ পরিষ্কার করছি—এসব বিষয়ের ওপর ত্বকের প্রতিক্রিয়া অনেকটাই নির্ভর করে। তাই মেকআপ মানেই খারাপ নয়, বরং ভুলভাবে ব্যবহার করাটাই বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে।

মেকআপের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি দেখা দিতে পারে ত্বকের জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব, চুলকানি বা অ্যালার্জির মাধ্যমে। প্রসাধনীতে থাকা সুগন্ধি, প্রিজারভেটিভ, রং এবং বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান সংবেদনশীল ত্বকে সমস্যা তৈরি করতে পারে। আবার কিছু পণ্যে এমন উপাদানও থাকতে পারে যেগুলো ত্বকের জন্য বিরক্তিকর। কারও ত্বকে সামান্য প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও অন্য কারও ক্ষেত্রে সমস্যা তুলনামূলক বেশি হতে পারে। নতুন কোনো মেকআপ ব্যবহারের আগে তাই উপাদানের তালিকা দেখা এবং প্রয়োজনে ছোট জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

আরও পড়ুন  বজ্রপাতের সময় এই ভুলগুলো করবেন না, জানুন কেন

দীর্ঘসময় মেকআপ পরে থাকলেও ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্যে প্রভাব পড়তে পারে। ফাউন্ডেশন, কনসিলার বা অন্যান্য স্তরযুক্ত প্রসাধনী ত্বকের পোরস আটকে দিতে পারে, বিশেষ করে যদি ত্বক তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ হয়। পোরস বন্ধ হয়ে গেলে ব্ল্যাকহেড, হোয়াইটহেড ও ব্রণ দেখা দিতে পারে। মেকআপ পরিষ্কার না করে ঘুমিয়ে পড়লে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। পুরোনো বা মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী ব্যবহারের ফলে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের সংস্পর্শে এসে ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

তবে সব মেকআপের প্রভাব নেতিবাচক নয়। কিছু প্রসাধনীতে ময়েশ্চারাইজিং উপাদান, স্যালিসিলিক অ্যাসিড বা ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত অন্যান্য উপকারী উপাদান থাকতে পারে। আবার SPF যুক্ত কিছু মেকআপ সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে অতিরিক্ত সুরক্ষায় সহায়তা করতে পারে। তবে শুধু SPF যুক্ত ফাউন্ডেশন বা মেকআপের ওপর নির্ভর না করে আলাদা সানস্ক্রিন ব্যবহার করাই বেশি কার্যকর। মেকআপ অনেকের আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও সাহায্য করে এবং সাজগোজ সৃজনশীলতার একটি মাধ্যম হিসেবেও কাজ করতে পারে।

আরও পড়ুন  ওজন কমাতে আতাফল কতটা কার্যকর? জেনে নিন উপকারিতা

ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রসাধনী বেছে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। তৈলাক্ত ত্বকে অতিরিক্ত ভারী বা ময়েশ্চারাইজিং ফর্মুলা ব্যবহার করলে ত্বক আরও তেলতেলে হয়ে যেতে পারে এবং ব্রণের প্রবণতা বাড়তে পারে। অন্যদিকে শুষ্ক ত্বকে খুব ম্যাট ধরনের পণ্য ব্যবহার করলে ত্বক আরও শুষ্ক ও খসখসে দেখাতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে সুগন্ধিমুক্ত ও ত্বকবান্ধব ফর্মুলা বেছে নেওয়া তুলনামূলক নিরাপদ। মেকআপের ক্ষতি কমাতে পণ্যের লেবেল পড়া এবং নিজের ত্বকের প্রয়োজন বুঝে প্রসাধনী নির্বাচন করা তাই অত্যন্ত জরুরি।

আরও পড়ুন  বার সাবান নাকি বডি ওয়াশ ত্বকের জন্য কোনটি ভালো

সবশেষে মেকআপ ব্যবহারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো পরিচ্ছন্নতা। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে মেকআপ সম্পূর্ণভাবে তুলে ফেলুন। প্রয়োজনে প্রথমে মেকআপ রিমুভার বা ক্লিনজিং বাম ব্যবহার করে পরে মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে পারেন। মেকআপ ব্রাশ ও স্পঞ্জ নিয়মিত পরিষ্কার করুন, অন্যের সঙ্গে প্রসাধনী শেয়ার করবেন না এবং পণ্যের মেয়াদ শেষ হলে ফেলে দিন। কোনো প্রসাধনী ব্যবহারের পর ত্বকে অস্বাভাবিক জ্বালা, ফুসকুড়ি বা অ্যালার্জি দেখা দিলে সেটি বন্ধ করুন। মনে রাখবেন, সুন্দর দেখানোর জন্য মেকআপ করা যায়, কিন্তু সেই সৌন্দর্যের সঙ্গে ত্বকের সুস্থতাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া দরকার।