ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

কক্সবাজারে চলন্ত এসি বাসে আগুন, জানালার কাচ ভেঙে যাত্রীদের উদ্ধার

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:৪৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৩

কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের এসি বাসে আগুন। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি চলন্ত এসি বাসে হঠাৎ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে রামুর কলঘর বাজারের পশ্চিমপাশে এন আলম ফিলিং স্টেশনের সামনের সড়কের ওপর মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে। তবে স্থানীয় জনতা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

জানা গেছে, আগুন লাগার সময় বাসটিতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জনের মতো যাত্রী অবস্থান করছিলেন। চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ করে বাসের ভেতরে ধোঁয়া ও আগুন ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও চিৎকার শুরু হয়। গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে অনেকেই জীবন বাঁচানোর আকুতি জানাতে থাকেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পর বাসের যাত্রীরা যখন দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করছিলেন, তখন স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসেন। বাসের দরজা দিয়ে বের হওয়া সম্ভব না হওয়ায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে বাসের জানালার কাচ ভেঙে যাত্রীদের একে একে নিরাপদে বের করে আনেন। স্থানীয়দের এই সাহসী পদক্ষেপের কারণেই মূলত যাত্রীরা প্রাণে বেঁচে যান।

খবর পেয়ে রামু হাইওয়ে থানার পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট পারভেজ জানান, খবর পাওয়ার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হতে সক্ষম হন। কাছাকাছি অবস্থানে টহলে থাকায় দ্রুত সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি তারাও যাত্রীদের বাস থেকে উদ্ধারে অংশ নেন।

যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনার পাশাপাশি তাদের মূল্যবান মালামাল ও লাগেজগুলোও বাসের ভেতর থেকে খুঁজে বের করে যার যার কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয় এবং তারা এসে পুরোপুরি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রামু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. আবদুল কাদের চৌধুরী অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং বাসের ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার কারণেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। সঠিক সময়ে আগুন নেভানো সম্ভব হওয়ায় ফায়ার সার্ভিস বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সক্ষম হয়।

তবে এই বিপদের মুহূর্তে বাসটির চালক ও হেল্পারের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। যাত্রীদের অভিযোগ, আগুন লাগার পরপরই যাত্রীদের বিপদে ফেলে চালক ও হেল্পার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তাদের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। এই ঘটনার পর সড়কে বেশ কিছু সময় যান চলাচল বিঘ্নিত হয়, তবে পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিট কেভাসের উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম জানুন

কক্সবাজারে চলন্ত এসি বাসে আগুন, জানালার কাচ ভেঙে যাত্রীদের উদ্ধার

Update Time : ০২:৪৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি চলন্ত এসি বাসে হঠাৎ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে রামুর কলঘর বাজারের পশ্চিমপাশে এন আলম ফিলিং স্টেশনের সামনের সড়কের ওপর মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে। তবে স্থানীয় জনতা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

জানা গেছে, আগুন লাগার সময় বাসটিতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জনের মতো যাত্রী অবস্থান করছিলেন। চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ করে বাসের ভেতরে ধোঁয়া ও আগুন ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও চিৎকার শুরু হয়। গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে অনেকেই জীবন বাঁচানোর আকুতি জানাতে থাকেন।

আরও পড়ুন  হিমাচলে পাহাড়ধসে চাপা গাড়ি, নিহত ১৩ জন

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পর বাসের যাত্রীরা যখন দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করছিলেন, তখন স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসেন। বাসের দরজা দিয়ে বের হওয়া সম্ভব না হওয়ায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে বাসের জানালার কাচ ভেঙে যাত্রীদের একে একে নিরাপদে বের করে আনেন। স্থানীয়দের এই সাহসী পদক্ষেপের কারণেই মূলত যাত্রীরা প্রাণে বেঁচে যান।

খবর পেয়ে রামু হাইওয়ে থানার পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট পারভেজ জানান, খবর পাওয়ার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হতে সক্ষম হন। কাছাকাছি অবস্থানে টহলে থাকায় দ্রুত সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি তারাও যাত্রীদের বাস থেকে উদ্ধারে অংশ নেন।

আরও পড়ুন  চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে তরুণ নিহত, আহত ১

যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনার পাশাপাশি তাদের মূল্যবান মালামাল ও লাগেজগুলোও বাসের ভেতর থেকে খুঁজে বের করে যার যার কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয় এবং তারা এসে পুরোপুরি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রামু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. আবদুল কাদের চৌধুরী অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং বাসের ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার কারণেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। সঠিক সময়ে আগুন নেভানো সম্ভব হওয়ায় ফায়ার সার্ভিস বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সক্ষম হয়।

আরও পড়ুন  এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রাকের পেছনে প্রাইভেট কারের ধাক্কা, মা-ছেলেমেয়েসহ ৫ জন নিহত

তবে এই বিপদের মুহূর্তে বাসটির চালক ও হেল্পারের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। যাত্রীদের অভিযোগ, আগুন লাগার পরপরই যাত্রীদের বিপদে ফেলে চালক ও হেল্পার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তাদের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। এই ঘটনার পর সড়কে বেশ কিছু সময় যান চলাচল বিঘ্নিত হয়, তবে পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।