ইনফান্তিনোর ওপর আস্থা হারিয়েছে ডেনমার্ক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিইউ)। শুধু সমর্থন না দেওয়ার সিদ্ধান্তেই থামছে না তারা; ২০২৭ সালের ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর বিপরীতে একজন যোগ্য প্রার্থী দাঁড় করানোর উদ্যোগও নিচ্ছে ডেনিশ সংস্থাটি। ডিবিইউর ভাষ্য, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ফিফার নেতৃত্বের প্রতি যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, তা শুধু একটি প্রস্তাব প্রত্যাহার কিংবা ক্ষমা চাইলেই কাটবে না। তাই উয়েফা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন নেতৃত্বের বিকল্প খোঁজার পথে হাঁটতে চায় ডেনমার্ক।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ফিফার ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ পরিকল্পনা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্বে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সেটি প্রত্যাহার করে ফিফা। কিন্তু তাতেও ক্ষোভ কমেনি। ডিবিইউ মনে করছে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া ও নেতৃত্বের ধরন নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা আরও বড় একটি আস্থার সংকেত তৈরি করেছে। আগস্টের শুরুতেই ডিবিইউ সভাপতি জেসপার মোলার জানিয়েছিলেন, প্রস্তাব প্রত্যাহার এবং পরবর্তী ক্ষমাপ্রার্থনা তাঁর অবস্থান বদলায়নি।
ডেনমার্কের অবস্থান নতুন নয়। ২০২৩ সালের ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও ইনফান্তিনোকে সমর্থন দেয়নি দেশটি। এবারও একই অবস্থান ধরে রেখে ডিবিইউ বলছে, শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই তাদের লক্ষ্য নয়; বরং ফিফার নেতৃত্বে এমন পরিবর্তন দরকার, যিনি বিভিন্ন মহাদেশ ও কনফেডারেশনের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবেন। তাদের পরিকল্পনায় উয়েফা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে এমন একজন প্রার্থী খুঁজে বের করা, যাঁর সামনে সদস্য দেশগুলোর সত্যিকারের বিকল্প থাকবে।
এই পরিস্থিতিতে ২০২৭ সালের নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। আগামী ১৮ মার্চ মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত হবে ফিফার ৭৭তম কংগ্রেস, সেখানেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। ইনফান্তিনো চতুর্থ মেয়াদের জন্য এগোচ্ছেন এবং মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর। তবে এখনো তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থী নাম ঘোষণা করেননি। এর মধ্যেই উয়েফা, এএফসি ও কনক্যাকাফের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। ফলে নির্বাচন যত এগোবে, সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী খোঁজার তৎপরতাও তত বাড়তে পারে।
ডিবিইউর আপত্তি শুধু নির্বাচন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে ফিফার টুর্নামেন্ট ও প্রশাসনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে দেওয়ার মতো উদ্যোগ যেন আর না আসে—এমন নিশ্চয়তাও চায় তারা। ডেনমার্কের পক্ষ থেকে এমনও বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা না পেলে ফিফার টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের বিষয়েও তারা কঠোর অবস্থান নিতে পারে। অন্যদিকে, ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন এখনো পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু শক্তিশালী ফুটবল প্রশাসনসহ কয়েকটি দেশ এখনো তাঁর পাশে রয়েছে।
সব মিলিয়ে ইনফান্তিনোর সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন শুধু পুনর্নির্বাচন নয়, নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ধরে রাখা। সাম্প্রতিক সময়ে অনাস্থা প্রস্তাবের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। তবে এমন প্রক্রিয়া শুরু করতে ফিফার ২১১ সদস্যের অন্তত ২০ শতাংশের লিখিত সমর্থন প্রয়োজন, অর্থাৎ ৪৩টি সদস্য দেশের সমর্থন লাগবে। এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছানো যায়নি। কিন্তু ডেনমার্কের মতো একটি সদস্য সংস্থা যখন প্রকাশ্যেই বিকল্প নেতৃত্বের কথা বলছে, তখন বিষয়টি যে আর বিচ্ছিন্ন কোনো অসন্তোষ নয়, সেটি স্পষ্ট। ২০২৭ সালের নির্বাচন তাই ইনফান্তিনোর জন্য শুধু আরেকটি ভোট নয়—ফিফার নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।


























