শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বেনাপোল-পেট্রাপোল শূন্যরেখায় দুই দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়।বিজিবি ও বিএসএফের স্থানীয় শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মরদেহ স্বজনদের কাছে তুলে দেওয়া হয়।পরে তিনটি অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ নিয়ে কুষ্টিয়া ও সাভারের উদ্দেশে রওনা হন স্বজনেরা।
মরদেহ হস্তান্তরের সময় বেনাপোল-পেট্রাপোল শূন্যরেখায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।স্বজনেরা প্রিয়জনের মরদেহ গ্রহণের সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন।সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ গ্রহণ করেন তাঁর সহকর্মীরা।অন্যদিকে নিহত জোবায়ের বাবুর মরদেহ গ্রহণ করতে বেনাপোলে আসেন তাঁর মেজো ভাই মনির হোসেন।
নিহত পাঁচ বাংলাদেশীর মরদেহ শনিবার পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়।তাঁরা হলেন আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী ও তিন বছরের ছেলে।এছাড়া নিহতদের মধ্যে ছিলেন দেবাশীষ দত্তের শ্বশুর এবং সাভারের জোবায়ের বাবু।মরদেহগুলো প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গত ১৯ আগস্ট ভোরে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় হোটেলটিতে থাকা লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।এই অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জনের মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশী নাগরিক ছিলেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর নিহত বাংলাদেশীদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করে।এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার পাঁচ বাংলাদেশীর মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়।বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।এ সময় সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের স্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকতা করতেন এবং তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।অগ্নিকাণ্ডে তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, তিন বছরের সন্তান স্বর্ণাশীষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম আলীও নিহত হন।একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে স্বজন ও সহকর্মীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।মরদেহ দেশে ফেরার পর তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সাভারের বাসিন্দা জোবায়ের বাবুও ওই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান।তাঁর মরদেহ গ্রহণের জন্য বেনাপোল সীমান্তে উপস্থিত ছিলেন তাঁর মেজো ভাই মনির হোসেন।মরদেহ গ্রহণের পর পরিবারের সদস্যরা শেষবারের মতো স্বজনকে দেখার জন্য নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হন।এ সময় সীমান্ত এলাকায় শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি ফেরদৌস হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।পরে স্বজনেরা অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে কুষ্টিয়া ও সাভারের উদ্দেশে রওনা হন।এ ঘটনায় নিহতদের পরিবার, সহকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।


























