বিড়ালকে টিটেনাসের টিকা দেওয়া নিয়ে অনেকেরই বিভ্রান্তি থাকে। সাধারণভাবে বিড়ালের নিয়মিত টিকাদান তালিকায় টিটেনাস টিকা প্রধান টিকা হিসেবে ধরা হয় না। তবে গভীর ক্ষত, মাটির সংস্পর্শে আসা আঘাত বা দূষিত কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত পাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিড়ালের শরীরে টিটেনাস সাধারণত খুব বেশি দেখা যায় না। তবে Clostridium tetani নামের ব্যাকটেরিয়ার স্পোর ক্ষতস্থানের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে সংক্রমণ হতে পারে। বিশেষ করে গভীর ও অক্সিজেন কম থাকা ক্ষতে এই ব্যাকটেরিয়া বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়।
টিটেনাসের জীবাণু মাটি ও পরিবেশে থাকতে পারে। তাই বাইরে ঘোরাফেরা করা বিড়াল কোনো ধারালো বস্তুতে আঘাত পেলে বা গভীর ক্ষত তৈরি হলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। ক্ষত বাইরে থেকে ছোট মনে হলেও ভেতরে গভীর হলে সেটি অবহেলা করা ঠিক নয়।
বিড়ালের টিটেনাস হলে শুরুতে আক্রান্ত জায়গার পেশিতে শক্তভাব দেখা দিতে পারে। পরে শরীরের অন্যান্য পেশিতেও শক্ত হয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। গুরুতর অবস্থায় চোয়াল শক্ত হয়ে যাওয়া, খাবার খেতে সমস্যা, হাঁটাচলায় অসুবিধা এবং পেশিতে খিঁচুনি দেখা দিতে পারে।
তবে বিড়ালের ক্ষেত্রে টিটেনাসের ঝুঁকি তুলনামূলক কম হওয়ায় প্রতিটি বিড়ালকে নিয়মিত টিটেনাস টিকা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। বরং বিড়ালের বয়স, জীবনযাপন, আগের টিকা এবং কোনো আঘাতের ইতিহাস বিবেচনা করে পশুচিকিৎসক প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দেন।
বিড়াল কোনো গভীর ক্ষত পেলে প্রথমেই ক্ষতটি পরিষ্কার রাখা জরুরি। ক্ষত থেকে রক্তপাত হলে পরিষ্কার গজ দিয়ে হালকা চাপ দেওয়া যেতে পারে। তবে ক্ষত গভীর হলে, পুঁজ বা দুর্গন্ধ দেখা দিলে কিংবা বিড়ালের আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে দ্রুত পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষ করে নিজের সিদ্ধান্তে বিড়ালকে মানুষের জন্য ব্যবহৃত টিটেনাস টিকা বা অন্য কোনো ওষুধ দেওয়া ঠিক নয়। বিড়ালের জন্য কোন টিকা প্রয়োজন এবং কখন প্রয়োজন, তা পশুচিকিৎসকই নির্ধারণ করবেন।
বিড়ালের নিয়মিত টিকাদানের ক্ষেত্রেও অবহেলা করা উচিত নয়। টিটেনাসের পাশাপাশি বিড়ালের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য টিকা সংক্রামক ও গুরুতর কিছু রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বয়স অনুযায়ী টিকার সময়সূচি তৈরি করে নেওয়া ভালো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বিড়ালকে টিটেনাস টিকা না দিলেই যে টিটেনাস হবে, এমন নয়। তবে কোনো গুরুতর ক্ষত বা ঝুঁকিপূর্ণ আঘাতের পর বিষয়টি অবহেলা করলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।



























