রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ব্যবসায়ী ফারুক শেখকে হত্যার ঘটনায় তাঁর ছোট ভাইসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, পারিবারিক বিরোধ ও ব্যাংকে থাকা প্রায় ৮ লাখ টাকার এফডিআর নেওয়ার উদ্দেশ্যে ফারুককে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। হত্যাকাণ্ডটি বাস্তবায়নে দুই কর্মচারীর সঙ্গে ৩ হাজার টাকায় চুক্তি করেছিলেন তাঁর ছোট ভাই।
রোববার বিকেলে রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. শামসুল হক। এর আগে শনিবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নিহত ফারুক শেখের ছোট ভাই বারেক শেখ (৪০) এবং তাঁদের দোকানের কর্মচারী আলমগীর হোসেন (২৬) ও রুবেল শেখ (৩০)। তাঁদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ধারালো দা, রক্তমাখা পোশাক, মুঠোফোন ও মাস্ক উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ফারুকের সঙ্গে তাঁর ছোট ভাই বারেকের পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর পাশাপাশি ফারুকের ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ৮ লাখ টাকার এফডিআরও বারেকের নজরে ছিল। এসব কারণে বড় ভাইকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কয়েক মাস আগে দুটি ধারালো দা কিনে রাখেন বারেক। পরে দোকানের দুই কর্মচারী আলমগীর ও রুবেলকে হত্যার কাজে রাজি করান। এ কাজের জন্য তাঁদের মোট ৩ হাজার টাকা দেওয়ার কথা হয় এবং আগাম হিসেবে ১ হাজার ৭০০ টাকা দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুরের দিকে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন ফারুক। এ সময় সেখানে ঢুকে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ ও বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। পরে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি পুলিশের।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল হক জানান, গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার রাত ৮টার দিকে তাঁদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ, অর্থের লেনদেন এবং পরিকল্পনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




























