ঢাকা ০৪:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চন্দনাইশে রহমানিয়া আহমদীয়া মাদ্রাসার উদ্যোগে জশনে জুলুছ ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠিত Logo কৃতি শ্যাননের রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপনের পোশাক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কঙ্গনা রনৌত। Logo হার্ট অ্যাটাক এড়াতে কোলেস্টেরলের চেয়েও জরুরি যা Logo ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলে মনে হয় ক্রাইম প্যাট্রল দেখতেছি! Logo ‘মির্জাপুর’-এর জরিনা হয়ে কী ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হয়েছিল অনংশার? Logo একরামুল হত্যা মামলায় বদি ও তিন সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার Logo ফিরছে ‘কফি উইথ করণ ৯’দীপাবলিতে,কফি কাউচে একা সালমান খান! Logo ফ্যাশন-ব্যবসা থেকে আইনি লড়াই, ব্লেক লাইভলির অন্য গল্প Logo রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বড় বাধা, বদলে গেছে রাখাইনের বাস্তবতা Logo বিশ্বাস, সন্দেহ আর প্রতারণার খেলায় দ্য ট্রেইটর্স ২ এখন বিতর্কের কেন্দ্রে।

২ লাখ আশ্রয়প্রার্থীর ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:১৪:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১৮

আশ্রয় আবেদনকারীদের ভিসা বাতিলের উদ্যোগ | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসায় গিয়ে পরে আশ্রয়ের আবেদন করা বিদেশি নাগরিকদের ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আশ্রয়প্রার্থীর ভিসা বাতিলের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২ লাখ বিদেশি নাগরিক এর আওতায় পড়তে পারেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) সঙ্গে সমন্বয় করে এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে, যারা স্বল্পমেয়াদি দর্শনার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার উদ্দেশ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। শনাক্ত ব্যক্তিদের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বাতিল করা হতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপির হাতে পাওয়া পররাষ্ট্র দপ্তরের নথি এবং দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ২ লাখ পর্যন্ত বি১ ও বি২ ভিসা বাতিল হতে পারে। বি১ ভিসা সাধারণত ব্যবসায়িক সফরের জন্য এবং বি২ ভিসা পর্যটনসহ স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

প্রস্তাবিত সিদ্ধান্তের আওতায় ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা এসব ভিসাধারী আশ্রয়প্রার্থীরা পড়তে পারেন। অর্থাৎ গত এক দশকে পর্যটন বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য ভিসা পাওয়া এবং পরে আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ নতুন পদক্ষেপের আওতায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে আশ্রয়প্রার্থীর ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে। ভিসা বাতিল এবং ডিপোর্টেশন দুটি আলাদা আইনি প্রক্রিয়া। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিসা বাতিল হলেও প্রত্যেক ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে এটিকে দেখা যাবে না।

বর্তমানে যেসব আশ্রয়ের আবেদন বিচারাধীন রয়েছে, সেসব আবেদনকারীর আইনি অবস্থার ওপর অবশ্য এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে পর্যটক বা ব্যবসায়ী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের যে আইনি সুবিধা তারা পেয়েছিলেন, ভিসা বাতিলের ফলে সেটি আর বহাল নাও থাকতে পারে।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপের পেছনে আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মার্কিন উপপররাষ্ট্র মন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ভিত্তিহীন আশ্রয়ের আবেদনের কারণে দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থা চাপের মধ্যে রয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এর আগেও জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ইতোমধ্যে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভিসা বাতিলের সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

ট্রাম্প প্রশাসনের সামগ্রিক অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবেই নতুন এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় ফিরে তিনি অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেন এবং অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় ও বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করেন।

এর পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাতেও বিভিন্ন ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ভিসা ও গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক যাচাই এবং বিধিনিষেধ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নতুন ফি আরোপ এবং অভিবাসনসংক্রান্ত নীতির পরিবর্তন নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে প্রশাসনের আইনি বিরোধও তৈরি হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতির সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, ব্যাপকভাবে ভিসা বাতিল এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের নামে নেওয়া কঠোর পদক্ষেপ ব্যক্তিগত অধিকার ও আইনি সুরক্ষাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষ করে জাতিগত ও সামাজিকভাবে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী এর কারণে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছে।

আশ্রয়ের আবেদন আন্তর্জাতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি সুরক্ষা ব্যবস্থা। কোনো ব্যক্তি নিজ দেশে নিপীড়ন, নির্যাতন বা গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকির মুখে পড়লে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্য দেশে আশ্রয়ের আবেদন করতে পারেন। তবে কোনো ব্যক্তি ভ্রমণ বা ব্যবসার ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করলে তার ভিসার উদ্দেশ্য ও পরবর্তী আইনি অবস্থান নিয়ে প্রশাসনের প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকে।

নতুন পরিকল্পনায় তাই মূল নজর দেওয়া হচ্ছে ভিসার ধরন এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ব্যক্তির নেওয়া আইনি পদক্ষেপের ওপর। প্রশাসনের যুক্তি হলো, স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভিসা ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নিশ্চিত করার চেষ্টা অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, ব্যাপকভাবে ভিসা বাতিলের উদ্যোগ আশ্রয়ের বৈধ আবেদনকারীদেরও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলতে পারে। ফলে প্রশাসনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনি অধিকার কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সব মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ আশ্রয়প্রার্থীর ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে সীমান্ত ও অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে বৈধ ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতেও পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে এই উদ্যোগ মানবাধিকার ও আইনি সুরক্ষার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চন্দনাইশে রহমানিয়া আহমদীয়া মাদ্রাসার উদ্যোগে জশনে জুলুছ ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠিত

২ লাখ আশ্রয়প্রার্থীর ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের

Update Time : ১২:১৪:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসায় গিয়ে পরে আশ্রয়ের আবেদন করা বিদেশি নাগরিকদের ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আশ্রয়প্রার্থীর ভিসা বাতিলের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২ লাখ বিদেশি নাগরিক এর আওতায় পড়তে পারেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) সঙ্গে সমন্বয় করে এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে, যারা স্বল্পমেয়াদি দর্শনার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার উদ্দেশ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। শনাক্ত ব্যক্তিদের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বাতিল করা হতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপির হাতে পাওয়া পররাষ্ট্র দপ্তরের নথি এবং দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ২ লাখ পর্যন্ত বি১ ও বি২ ভিসা বাতিল হতে পারে। বি১ ভিসা সাধারণত ব্যবসায়িক সফরের জন্য এবং বি২ ভিসা পর্যটনসহ স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

প্রস্তাবিত সিদ্ধান্তের আওতায় ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা এসব ভিসাধারী আশ্রয়প্রার্থীরা পড়তে পারেন। অর্থাৎ গত এক দশকে পর্যটন বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য ভিসা পাওয়া এবং পরে আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ নতুন পদক্ষেপের আওতায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন  প্রেডিক্টো-মেট্রিক্স রহস্য: সুপারকম্পিউটার কীভাবে বিশ্বকাপের ফল অনুমান করে

তবে আশ্রয়প্রার্থীর ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে। ভিসা বাতিল এবং ডিপোর্টেশন দুটি আলাদা আইনি প্রক্রিয়া। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিসা বাতিল হলেও প্রত্যেক ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে এটিকে দেখা যাবে না।

বর্তমানে যেসব আশ্রয়ের আবেদন বিচারাধীন রয়েছে, সেসব আবেদনকারীর আইনি অবস্থার ওপর অবশ্য এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে পর্যটক বা ব্যবসায়ী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের যে আইনি সুবিধা তারা পেয়েছিলেন, ভিসা বাতিলের ফলে সেটি আর বহাল নাও থাকতে পারে।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপের পেছনে আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মার্কিন উপপররাষ্ট্র মন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ভিত্তিহীন আশ্রয়ের আবেদনের কারণে দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থা চাপের মধ্যে রয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এর আগেও জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ইতোমধ্যে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভিসা বাতিলের সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপে দর্শকদের জন্য সহজ হচ্ছে মার্কিন ভিসা

ট্রাম্প প্রশাসনের সামগ্রিক অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবেই নতুন এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় ফিরে তিনি অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেন এবং অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় ও বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করেন।

এর পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাতেও বিভিন্ন ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ভিসা ও গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক যাচাই এবং বিধিনিষেধ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নতুন ফি আরোপ এবং অভিবাসনসংক্রান্ত নীতির পরিবর্তন নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে প্রশাসনের আইনি বিরোধও তৈরি হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতির সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, ব্যাপকভাবে ভিসা বাতিল এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের নামে নেওয়া কঠোর পদক্ষেপ ব্যক্তিগত অধিকার ও আইনি সুরক্ষাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষ করে জাতিগত ও সামাজিকভাবে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী এর কারণে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছে।

আশ্রয়ের আবেদন আন্তর্জাতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি সুরক্ষা ব্যবস্থা। কোনো ব্যক্তি নিজ দেশে নিপীড়ন, নির্যাতন বা গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকির মুখে পড়লে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্য দেশে আশ্রয়ের আবেদন করতে পারেন। তবে কোনো ব্যক্তি ভ্রমণ বা ব্যবসার ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করলে তার ভিসার উদ্দেশ্য ও পরবর্তী আইনি অবস্থান নিয়ে প্রশাসনের প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকে।

আরও পড়ুন  রাশিয়ায় কর্মী পাঠানো বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ

নতুন পরিকল্পনায় তাই মূল নজর দেওয়া হচ্ছে ভিসার ধরন এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ব্যক্তির নেওয়া আইনি পদক্ষেপের ওপর। প্রশাসনের যুক্তি হলো, স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভিসা ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নিশ্চিত করার চেষ্টা অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, ব্যাপকভাবে ভিসা বাতিলের উদ্যোগ আশ্রয়ের বৈধ আবেদনকারীদেরও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলতে পারে। ফলে প্রশাসনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনি অধিকার কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সব মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ আশ্রয়প্রার্থীর ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে সীমান্ত ও অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে বৈধ ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতেও পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে এই উদ্যোগ মানবাধিকার ও আইনি সুরক্ষার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে।