ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির বাণী প্রদানের মাধ্যমে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চিরন্তন শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা ও মানবিকতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জ্ঞাপন করেন। মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে গভীর শুকরিয়া আদায় করে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে, মানবজাতির সর্বাঙ্গীন হেদায়েত, কল্যাণ ও মুক্তির দিশারি হিসেবে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল রহমাতুল্লিল আলামিনকে এই ধরায় প্রেরণ করা হয়েছে। তাঁর প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বার্তা অনুসরণেই নিহিত রয়েছে মানবজাতির ইহকালীন ও পরকালীন সফলতা।
নিজের বাণীতে রাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে বলেন, মহানবী (সা.)-এর এই ধরায় আগমন মানবজাতির সমগ্র ইতিহাসে সবচেয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ ও যুগান্তকারী এক ঘটনা। জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে বিশ্বজগতের সকল মানুষের জন্য তিনি চিরন্তন মুক্তির দূত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাঁর ওপর নাজিল হওয়া পবিত্র কুরআন সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান এবং সেই ঐশী বার্তার আলোকেই সাম্য, সামাজিক ন্যায়বিচার ও ভ্রাতৃত্বের ওপর ভিত্তি করে শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের সূরা আল-কলমে তাঁর প্রিয় রাসুলের অতুলনীয় চারিত্রিক রূপ বর্ণনা করতে গিয়ে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।’ এই অনন্য চারিত্রিক মাধুর্য ও অবিচল নিষ্ঠা মহানবী (সা.)-কে মহামানবের অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির বাণী আমাদের আরও স্মরণ করিয়ে দেয় যে, বর্তমানে সংঘাত, হিংসা ও বৈষম্যে বিপর্যস্ত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে মহানবীর (সা.) শিক্ষাসমূহ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। অন্যায় ও অসহিষ্ণুতার এই সংকটময় মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে টেকসই শান্তি ফিরিয়ে আনবে তাঁর দেখানো প্রেম ও সম্প্রীতির আদর্শ। বর্তমান বিশ্বের বৈষম্য দূর করতে হলে নবীজির মহান আদর্শকে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি সবাইকে সব ধরনের অকল্যাণ ও বৈষম্যমূলক চিন্তা থেকে দূরে থেকে সামাজিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পরামর্শ দেন।
রাষ্ট্রপতি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর এই বিশেষ মহিমাম্বিত ক্ষণে আমাদের সকলকে হিংসা, পারস্পরিক বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় কার্যকলাপ চিরতরে পরিহার করতে হবে। তিনি সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্তি, সামাজিক সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে তোলার সুদৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করার অনুরোধ জানান। ব্যক্তির জীবন আচরণ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পরিসর পর্যন্ত রাসুল (সা.)-এর সুবিচারের চর্চা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।
পরিশেষে, রাষ্ট্রপতি পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করেন যেন তিনি আমাদের সবাইকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনাদর্শ দৈনন্দিন জীবনে যথাযথভাবে মেনে চলার তৌফিক দান করেন। ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির বাণী শেষ হয় এক গভীর মোনাজাত ও দোয়ার মাধ্যমে, যেখানে তিনি বাংলাদেশ ও সমগ্র বিশ্বের সকল মানুষের ওপর মহান আল্লাহর অশেষ রহমত, বরকত, অপার শান্তি ও কল্যাণ বর্ষিত হওয়ার আকুতি জানান। এই পবিত্র উপলক্ষ যেন দেশের প্রতিটি ঘরে শান্তি, সমৃদ্ধি ও প্রকৃত সামাজিক সুবাতাস বয়ে আনে, রাষ্ট্রপতি সেই শুভকামনা ব্যক্ত করেন।


























