ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সমালোচনা থামাতে পারেনি টক্সিকের বক্স অফিস ঝড়! Logo স্ত্রী-সন্তানকে চোখের সামনে হারালেন, ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা Logo কেন লাল চুলের নারী হলেন ডলি পার্টনের ‘জোলিন’-এর অনুপ্রেরণা Logo নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিকম্প, কেমন আছেন অপু বিশ্বাস? Logo নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ধসের মধ্যে আটকা পড়েছেন খরাজ মুখোপাধ্যায় Logo নেপাল বন্যা: ভয়াবহ বিপর্যয়ে ১৬২ মৃত্যু, নিখোঁজ শত শত Logo চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বৃক্ষমেলায় ব্যাপক সাড়া, ৫ দিন বাড়ল মেলার সময় Logo বিদ্যুৎ টাওয়ারে যুবক, নামার চেষ্টা নিয়ে চাঞ্চল্য Logo হাজী মাদবর আলী হাচানিয়া দাখিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাজী আফাজ উদ্দীনের ইন্তেকাল Logo কক্সবাজার সৈকতে গোসল করতে নেমে পর্যটকের মৃত্যু

স্ত্রী-সন্তানকে চোখের সামনে হারালেন, ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা

ধ্বংসাবশেষের মধ্যে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীদের তল্লাশি। ছবি: সংগৃহীত।

নেপাল বন্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে হিমালয় সীমান্তবর্তী এলাকায়। বরফধস ও হঠাৎ সৃষ্ট পানির প্রবল স্রোতে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা ১৬৫ ছাড়িয়েছে। একই ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ। ধ্বংসস্তূপ, কাদা ও পলিমাটির নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ে বহু ঘরবাড়ি, যানবাহন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নেপালের রাসুয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক এই দুর্যোগ আঘাত হানে। স্থানীয় সময় হঠাৎ পানির প্রবল স্রোত নেমে আসার পর তিমুরে বাজারসহ আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়। রাসুলার প্রধান কাস্টমস কর্মকর্তা রাজেন্দ্র ঢুঙ্গানার বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার আগে মাটি কেঁপে ওঠে এবং এরপর প্রায় ১০০ মিটার উঁচু পানির ঢেউ ও ধোঁয়ার মতো মেঘ ওপর থেকে নেমে আসে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

প্রবল স্রোতে তিমুরে বাজারের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। কাস্টমস পয়েন্টে থাকা ৩০০টির বেশি যানবাহন পানির তোড়ে ভেসে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তা। জীবন বাঁচাতে অনেকে দ্রুত জঙ্গল ও উঁচু পাহাড়ের দিকে ছুটে যান। ত্রিশূলি বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, তিব্বত অংশে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সময় তাঁর স্ত্রী ও ১৮ বছরের সন্তান পানির স্রোতে চোখের সামনে ভেসে যান।

এই বিপর্যয়ের বিশেষ দিক হলো, ঘটনাস্থলের কিছু এলাকায় তখন কোনো বৃষ্টিই হচ্ছিল না। লেন্দে নদীতে হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ পানি আটকে যাওয়ার পর আকস্মিকভাবে সেই পানি নিচের দিকে নেমে আসে বলে স্থানীয়দের বক্তব্য। মুহূর্তের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকা কয়েক মিটার পুরু কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে যায়। ফলে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৩০০ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই মানসরোবর যাত্রী বলে জানা গেছে। অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের জিরোং কাউন্টিতে ২৬০ জন বিদেশিসহ মোট ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে সীমান্তের দুই পাশেই স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত ইতোমধ্যে ১০ টন জরুরি ত্রাণ পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ৫ লাখ ডলার সহায়তা এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শক পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। রেড ক্রসের পক্ষ থেকেও ১৪ লাখ ডলার সহায়তা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জরুরি সহায়তা পাঠাচ্ছে। এদিকে উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধান ও দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

জনপ্রিয় সংবাদ

সমালোচনা থামাতে পারেনি টক্সিকের বক্স অফিস ঝড়!

স্ত্রী-সন্তানকে চোখের সামনে হারালেন, ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা

Update Time : ০৫:০৭:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

নেপাল বন্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে হিমালয় সীমান্তবর্তী এলাকায়। বরফধস ও হঠাৎ সৃষ্ট পানির প্রবল স্রোতে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা ১৬৫ ছাড়িয়েছে। একই ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ। ধ্বংসস্তূপ, কাদা ও পলিমাটির নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ে বহু ঘরবাড়ি, যানবাহন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নেপালের রাসুয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক এই দুর্যোগ আঘাত হানে। স্থানীয় সময় হঠাৎ পানির প্রবল স্রোত নেমে আসার পর তিমুরে বাজারসহ আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়। রাসুলার প্রধান কাস্টমস কর্মকর্তা রাজেন্দ্র ঢুঙ্গানার বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার আগে মাটি কেঁপে ওঠে এবং এরপর প্রায় ১০০ মিটার উঁচু পানির ঢেউ ও ধোঁয়ার মতো মেঘ ওপর থেকে নেমে আসে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

আরও পড়ুন  টাইমস পিআর সেবা চালু: আন্তর্জাতিক পিআর ও মিডিয়া সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ

প্রবল স্রোতে তিমুরে বাজারের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। কাস্টমস পয়েন্টে থাকা ৩০০টির বেশি যানবাহন পানির তোড়ে ভেসে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তা। জীবন বাঁচাতে অনেকে দ্রুত জঙ্গল ও উঁচু পাহাড়ের দিকে ছুটে যান। ত্রিশূলি বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, তিব্বত অংশে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সময় তাঁর স্ত্রী ও ১৮ বছরের সন্তান পানির স্রোতে চোখের সামনে ভেসে যান।

আরও পড়ুন  নেপাল বন্যা: ভয়াবহ বিপর্যয়ে ১৬২ মৃত্যু, নিখোঁজ শত শত

এই বিপর্যয়ের বিশেষ দিক হলো, ঘটনাস্থলের কিছু এলাকায় তখন কোনো বৃষ্টিই হচ্ছিল না। লেন্দে নদীতে হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ পানি আটকে যাওয়ার পর আকস্মিকভাবে সেই পানি নিচের দিকে নেমে আসে বলে স্থানীয়দের বক্তব্য। মুহূর্তের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকা কয়েক মিটার পুরু কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে যায়। ফলে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৩০০ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই মানসরোবর যাত্রী বলে জানা গেছে। অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের জিরোং কাউন্টিতে ২৬০ জন বিদেশিসহ মোট ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে সীমান্তের দুই পাশেই স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে।

আরও পড়ুন  নেপালে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে সহায়তায় প্রস্তুত বাংলাদেশ

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত ইতোমধ্যে ১০ টন জরুরি ত্রাণ পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ৫ লাখ ডলার সহায়তা এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শক পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। রেড ক্রসের পক্ষ থেকেও ১৪ লাখ ডলার সহায়তা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জরুরি সহায়তা পাঠাচ্ছে। এদিকে উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধান ও দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।