ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ইসির পরিকল্পনা প্রকাশ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৭:২৭:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১৮

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক| ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে নতুন পরিকল্পনা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে চায় কমিশন। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের প্রথম ধাপের ভোট আয়োজনের লক্ষ্য রয়েছে।

তবে বিভিন্ন বাস্তবতা বিবেচনায় তফসিল ঘোষণার সময় কিছুটা পিছিয়ে অক্টোবরে নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসিরউদ্দিন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিটের বৈঠকে নির্বাচন আয়োজনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করা যায়, সে বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা চেয়েছে কমিশন।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

স্থানীয় নির্বাচন কবে হবে, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখছে ইসি। সিইসি বলেন, সামনে রয়েছে বার্ষিক পরীক্ষা। একই সময়ে দুর্গোৎসবও অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামী বছরের শুরুতে রোজা এবং পরে এসএসসি পরীক্ষা রয়েছে। এসব কর্মসূচি ও জাতীয় বাস্তবতা বিবেচনা করেই ভোটের সময় নির্ধারণ করতে হবে।

এ কারণে সেপ্টেম্বরের মধ্যে তফসিল দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও প্রয়োজন হলে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে কমিশন। তবে বছরের শেষ নাগাদ প্রথম ধাপের ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় নির্বাচন সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচন। জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে নাগরিকরা নিজেদের এলাকার উন্নয়ন ও সেবা ব্যবস্থাপনায় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেন। তাই ভোটের সময়সূচি, পরিবেশ এবং অংশগ্রহণ নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহও রয়েছে।

এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়েও প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মির্জা ফখরুল ইসলামের ছেড়ে দেওয়া আসনটি ইসি শূন্য ঘোষণা করার পর সেখানে উপনির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন এবং স্থানীয় নির্বাচন—দুই বিষয় সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে শিগগির বৈঠক করবে কমিশন। ওই বৈঠকে ভোটের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয় নির্বাচন ধাপে ধাপে আয়োজন করা হবে। ফলে সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন একসঙ্গে না হয়ে পর্যায়ক্রমে ভোট হতে পারে। এতে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভোট ব্যবস্থাপনা আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে চূড়ান্ত তফসিল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ভোটের নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কমিশনের সিদ্ধান্ত, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি এবং নির্ধারিত বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচির ওপর সময়সূচি নির্ভর করবে।

সেপ্টেম্বরে তফসিল এবং ডিসেম্বরে প্রথম ধাপের ভোট—ইসির এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বছরের শেষ দিকে স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী কার্যক্রম আরও জোরালো হতে পারে। এখন সবার নজর কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার দিকে।

স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দল, সম্ভাব্য প্রার্থী এবং ভোটারদের মধ্যেও প্রস্তুতি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তফসিল প্রকাশের পর প্রার্থিতা, প্রচার, ভোটকেন্দ্র এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় আরও স্পষ্ট হবে।

কমিশন বলছে, সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সব পক্ষের জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। সামনে থাকা পরীক্ষা, ধর্মীয় উৎসব ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করেই ভোটের সময় ঠিক করা হবে।

সব মিলিয়ে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে এখন সময়সূচি নির্ধারণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেপ্টেম্বরের মধ্যে তফসিল দেওয়া সম্ভব হলে ডিসেম্বরেই প্রথম ধাপের ভোট হতে পারে। আর প্রস্তুতির কারণে সময় প্রয়োজন হলে তফসিল অক্টোবরে গড়াতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে নির্বাচন কমিশন।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ইসির পরিকল্পনা প্রকাশ

Update Time : ০৭:২৭:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে নতুন পরিকল্পনা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে চায় কমিশন। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের প্রথম ধাপের ভোট আয়োজনের লক্ষ্য রয়েছে।

তবে বিভিন্ন বাস্তবতা বিবেচনায় তফসিল ঘোষণার সময় কিছুটা পিছিয়ে অক্টোবরে নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসিরউদ্দিন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিটের বৈঠকে নির্বাচন আয়োজনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করা যায়, সে বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা চেয়েছে কমিশন।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

আরও পড়ুন  খুরশিদ আলম ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান, স্ত্রীর ঋণ খেলাপি হওয়া বাধা নয়: বাংলাদেশ ব্যাংক

স্থানীয় নির্বাচন কবে হবে, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখছে ইসি। সিইসি বলেন, সামনে রয়েছে বার্ষিক পরীক্ষা। একই সময়ে দুর্গোৎসবও অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামী বছরের শুরুতে রোজা এবং পরে এসএসসি পরীক্ষা রয়েছে। এসব কর্মসূচি ও জাতীয় বাস্তবতা বিবেচনা করেই ভোটের সময় নির্ধারণ করতে হবে।

এ কারণে সেপ্টেম্বরের মধ্যে তফসিল দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও প্রয়োজন হলে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে কমিশন। তবে বছরের শেষ নাগাদ প্রথম ধাপের ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় নির্বাচন সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচন। জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে নাগরিকরা নিজেদের এলাকার উন্নয়ন ও সেবা ব্যবস্থাপনায় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেন। তাই ভোটের সময়সূচি, পরিবেশ এবং অংশগ্রহণ নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহও রয়েছে।

এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়েও প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মির্জা ফখরুল ইসলামের ছেড়ে দেওয়া আসনটি ইসি শূন্য ঘোষণা করার পর সেখানে উপনির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  তত্ত্বাবধায়ক-গণভোট ফেরানোর রায় বহাল, বাকি সুরাহা সংসদে

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন এবং স্থানীয় নির্বাচন—দুই বিষয় সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে শিগগির বৈঠক করবে কমিশন। ওই বৈঠকে ভোটের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয় নির্বাচন ধাপে ধাপে আয়োজন করা হবে। ফলে সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন একসঙ্গে না হয়ে পর্যায়ক্রমে ভোট হতে পারে। এতে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভোট ব্যবস্থাপনা আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে চূড়ান্ত তফসিল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ভোটের নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কমিশনের সিদ্ধান্ত, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি এবং নির্ধারিত বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচির ওপর সময়সূচি নির্ভর করবে।

সেপ্টেম্বরে তফসিল এবং ডিসেম্বরে প্রথম ধাপের ভোট—ইসির এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বছরের শেষ দিকে স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী কার্যক্রম আরও জোরালো হতে পারে। এখন সবার নজর কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার দিকে।

আরও পড়ুন  স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপির বড় সিদ্ধান্ত, একক প্রার্থী দেবে দল

স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দল, সম্ভাব্য প্রার্থী এবং ভোটারদের মধ্যেও প্রস্তুতি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তফসিল প্রকাশের পর প্রার্থিতা, প্রচার, ভোটকেন্দ্র এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় আরও স্পষ্ট হবে।

কমিশন বলছে, সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সব পক্ষের জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। সামনে থাকা পরীক্ষা, ধর্মীয় উৎসব ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করেই ভোটের সময় ঠিক করা হবে।

সব মিলিয়ে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে এখন সময়সূচি নির্ধারণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেপ্টেম্বরের মধ্যে তফসিল দেওয়া সম্ভব হলে ডিসেম্বরেই প্রথম ধাপের ভোট হতে পারে। আর প্রস্তুতির কারণে সময় প্রয়োজন হলে তফসিল অক্টোবরে গড়াতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে নির্বাচন কমিশন।