চেলসিতে মার্তিনেজ মাত্র ৭ মিলিয়ন পাউন্ডে—শুনতে অবাক লাগলেও বাস্তবে এমনই এক চমকপ্রদ ট্রান্সফারের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে ইংলিশ ক্লাবটি। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে অ্যাস্টন ভিলা থেকে দলে নেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে চেলসি। সবকিছু ঠিক থাকলে নতুন মৌসুমে লন্ডনের ক্লাবটির গোলবার সামলাতে দেখা যেতে পারে এই তারকা গোলরক্ষককে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, মার্তিনেজকে নিয়ে অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে চেলসির চুক্তি হয়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ডে। বাজারমূল্যের তুলনায় যা বেশ কম। ট্রান্সফারমার্কেটের হিসাবে এই আর্জেন্টাইন গোলরক্ষকের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১১ মিলিয়ন পাউন্ড। সেই হিসাবে চেলসি তুলনামূলক কম খরচেই পাচ্ছে অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষককে।
তবে চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। মার্তিনেজের লন্ডনে মেডিকেল পরীক্ষা দেওয়ার কথা রয়েছে। সেই পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হলেই চেলসির পক্ষ থেকে তাঁর দলবদলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। ফলে এখন চেলসি সমর্থকদের অপেক্ষা শুধু শেষ ধাপটি সম্পন্ন হওয়ার।
চেলসির গোলবারে মার্তিনেজকে আনার পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে রবার্ট স্যাঞ্চেজের পারফরম্যান্স। স্প্যানিশ গোলরক্ষককে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ক্লাবের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। সম্প্রতি ফুলহামের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়ের ম্যাচেও তাঁর কয়েকটি ভুল নজরে আসে। এরপর থেকেই গোলরক্ষক পজিশনে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এমন পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ মার্তিনেজকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চেলসি। ৩৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক এরই মধ্যে প্রমাণ করেছেন, বড় ম্যাচের চাপ সামলানোর ক্ষমতা তাঁর রয়েছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার হয়ে ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের সময় তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স তাঁকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরিচিত গোলরক্ষকে পরিণত করেছে।
বিশ্বকাপের ফাইনালসহ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মার্তিনেজের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, শট ঠেকানোর দক্ষতা এবং টাইব্রেকারে প্রতিপক্ষের ওপর মানসিক চাপ তৈরির ক্ষমতা আর্জেন্টিনার সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছিল। চেলসি তাই শুধু একজন গোলরক্ষক নয়, বরং বড় ম্যাচের অভিজ্ঞ একজন খেলোয়াড়কেই দলে পেতে যাচ্ছে।
চেলসির জন্য আরেকটি সুবিধা হলো প্রিমিয়ার লিগে মার্তিনেজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। অ্যাস্টন ভিলার হয়ে তিনি নিয়মিত ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে খেলেছেন। ফলে নতুন লিগ বা নতুন ধরনের ফুটবল পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাঁকে খুব বেশি সময় নেওয়ার কথা নয়। এই অভিজ্ঞতাই চেলসির কোচ জাবি আলোনসোর পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে অ্যাস্টন ভিলায় মার্তিনেজের ভবিষ্যৎ নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। জাপানের গোলরক্ষক জিওন সুজুকি দলে আসার পর গোলরক্ষক পজিশনে প্রতিযোগিতা বেড়ে যায়। নতুন খেলোয়াড়ের আগমনে মার্তিনেজের নিয়মিত জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। সেই সুযোগেই তাঁকে নিজেদের দলে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় চেলসি।
চেলসির সঙ্গে মার্তিনেজের সম্ভাব্য চুক্তির মেয়াদ হবে দুই বছর। পাশাপাশি আরও এক বছর চুক্তি বাড়ানোর সুযোগ থাকবে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ দুই পক্ষের সম্মতি থাকলে ভবিষ্যতে আরও এক মৌসুম চেলসির গোলবারে থাকতে পারেন তিনি। বয়সের কারণে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের চেয়ে স্বল্পমেয়াদে অভিজ্ঞতা যোগ করার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ক্লাবটি।
মার্তিনেজ চেলসিতে যোগ দিলে গোলরক্ষক পজিশনে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে। রবার্ট স্যাঞ্চেজের সঙ্গে তাঁর লড়াই যেমন জমবে, তেমনি কোচের হাতেও থাকবে অভিজ্ঞ একজন বিকল্প। বড় ম্যাচে কাকে খেলানো হবে, সেটি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আলোনসোর সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তুলনামূলক কম অর্থে একজন বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষককে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে চেলসির সামনে। প্রায় ৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তি চূড়ান্ত হলে এটি ক্লাবটির জন্য আর্থিকভাবেও বেশ কার্যকর একটি সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত দলবদলকে পুরোপুরি সম্পন্ন বলা যাচ্ছে না।
মেডিকেল পরীক্ষা সফল হওয়ার পরই শেষ হবে অপেক্ষা। এরপর চেলসির জার্সিতে মার্তিনেজকে দেখা গেলে নতুন মৌসুমে গোলবার নিয়ে ক্লাবটির পরিকল্পনাতেও বড় পরিবর্তন আসবে। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষক ইংলিশ ফুটবলে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে চেলসিকে কতটা সুবিধা দিতে পারেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


























