ঢাকা ০৬:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সোনাল দিনুশা: জো রুটের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস Logo চেলসিতে মার্তিনেজ মাত্র ৭ মিলিয়ন পাউন্ডে Logo আর্জেন্টিনায় পারেদেসদের নিষেধাজ্ঞায় ফিফার বড় সিদ্ধান্ত Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের ধাওয়ায় পুকুরে মাইক্রোবাস, ভেসে উঠল ৯ বস্তা গাঁজা Logo আসমানের দরজা খোলার জিকির, পড়ুন এই আমল Logo জুমার দিনের দোয়া: কবুলের আশায় পড়ুন গুরুত্বপূর্ণ আমল Logo ভুয়া ফোনকলের অভিযোগ, এবার মুখ খুললেন এমপি জসিম Logo চন্দনাইশে গাছবাড়িয়া নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র সরকারি মডেল হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহজাহান আজাদের বিদায় সংবর্ধনা সম্পন্ন Logo সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, যে কারণে উত্তেজনা Logo মক্কা চুক্তি নিয়ে সৌদি যুবরাজকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

আর্জেন্টিনায় পারেদেসদের নিষেধাজ্ঞায় ফিফার বড় সিদ্ধান্ত

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৬:২৩:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০২

আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে ফিরতে পারবেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। | ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনা ফিফার কাছ থেকে পেল বড় স্বস্তির খবর। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মাঠের বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া তিন ফুটবলার লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা ও থিয়াগো আলমাদা এখন প্রীতি ম্যাচ খেলেই নিজেদের শাস্তির ম্যাচ পূরণ করতে পারবেন। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিশেষ আবেদনে সাড়া দিয়ে এই অনুমতি দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় তিন আর্জেন্টাইন ফুটবলারের ওপর কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। পারেদেসকে ১০ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। মোলিনার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ছিল সাত ম্যাচ। আর আলমাদাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এক ম্যাচের জন্য। শাস্তির কারণে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচে তাদের পাওয়া নিয়ে আর্জেন্টিনার জন্য তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা।

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফুটবলে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা সাধারণত অফিসিয়াল প্রতিযোগিতার ম্যাচে কার্যকর হয়। অর্থাৎ বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা কিংবা অন্য কোনো আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ম্যাচ খেললেই নিষেধাজ্ঞার সংখ্যা কমে। প্রীতি ম্যাচে শাস্তির ম্যাচ গণনা না হলে পারেদেসদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো।

এই পরিস্থিতি বদলাতেই বিশেষ উদ্যোগ নেয় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা এএফএ। তারা ফিফার কাছে আবেদন করে, নিষেধাজ্ঞার ম্যাচগুলো যেন আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচেও গণনা করার অনুমতি দেওয়া হয়। এতে খেলোয়াড়দের শাস্তির মেয়াদ দ্রুত শেষ হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তাদের পাওয়া সহজ হবে।

ফিফা শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার সেই আবেদন অনুমোদন করেছে। ফলে পারেদেস, মোলিনা ও আলমাদা এখন জাতীয় দলের হয়ে আসন্ন প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামতে পারবেন এবং সেসব ম্যাচ তাদের নিষেধাজ্ঞার হিসাবের মধ্যে যুক্ত হবে। এই সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনা দলের জন্য নিঃসন্দেহে স্বস্তির।

সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন পারেদেস। তাঁর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ছিল ১০ ম্যাচ। নিয়মিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ থাকায় একে একে সেই ম্যাচগুলোতে শাস্তি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পাবেন তিনি। একইভাবে মোলিনাও সাত ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দ্রুত শেষ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

অন্যদিকে আলমাদার পরিস্থিতি তুলনামূলক সহজ। মাত্র এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা থাকায় প্রীতি ম্যাচেই সেটি পূরণ করা সম্ভব হবে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তাঁর অনুপস্থিত থাকার সম্ভাবনাও অনেকটাই কমে গেল।

আর্জেন্টিনা দলের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণ, জাতীয় দলের নিয়মিত পরিকল্পনায় এই ফুটবলারদের ভূমিকা রয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে দলের শক্তি ধরে রাখতে কোচের হাতে যত বেশি বিকল্প থাকবে, ততই সুবিধা হবে। বিশেষ করে বড় টুর্নামেন্টের আগে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়ে যাওয়া দলটির জন্য বড় স্বস্তি।

বিশ্বকাপ ফাইনালের পরের ঘটনার কারণে শাস্তি পাওয়া ফুটবলারদের বিষয়টি নিয়ে আর্জেন্টিনার ফুটবল মহলে বেশ আলোচনা ছিল। দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা থাকায় সামনে বড় কোনো প্রতিযোগিতায় তাদের অনুপস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এএফএর আবেদনের পর ফিফার সিদ্ধান্ত সেই উদ্বেগ অনেকটাই দূর করেছে।

প্রীতি ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা পূরণের সুযোগ পাওয়ায় এখন আর্জেন্টিনা নিজেদের পূর্ণ শক্তির দল গঠনের দিকে মনোযোগ দিতে পারবে। আন্তর্জাতিক সূচিতে থাকা প্রস্তুতিমূলক ম্যাচগুলো শুধু দল গোছানোর কাজে নয়, নিষেধাজ্ঞায় থাকা খেলোয়াড়দের শাস্তি শেষ করার ক্ষেত্রেও কাজে লাগবে।

তবে ফিফার এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে। পারেদেস, মোলিনা ও আলমাদা যদি প্রীতি ম্যাচগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ম্যাচ খেলে নিষেধাজ্ঞা শেষ করতে পারেন, তাহলে বড় কোনো টুর্নামেন্টে তাদের নিয়ে আলাদা করে চিন্তা করতে হবে না আর্জেন্টিনা কোচকে।

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের পর পাওয়া শাস্তির ধাক্কা সামলে ওঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেল আর্জেন্টিনা। ফিফার অনুমোদনের কারণে তিন ফুটবলারের নিষেধাজ্ঞা দ্রুত শেষ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে সামনে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আরও শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নামার সম্ভাবনা বাড়ল আর্জেন্টিনার।

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনাল দিনুশা: জো রুটের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস

আর্জেন্টিনায় পারেদেসদের নিষেধাজ্ঞায় ফিফার বড় সিদ্ধান্ত

Update Time : ০৬:২৩:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

আর্জেন্টিনা ফিফার কাছ থেকে পেল বড় স্বস্তির খবর। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মাঠের বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া তিন ফুটবলার লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা ও থিয়াগো আলমাদা এখন প্রীতি ম্যাচ খেলেই নিজেদের শাস্তির ম্যাচ পূরণ করতে পারবেন। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিশেষ আবেদনে সাড়া দিয়ে এই অনুমতি দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় তিন আর্জেন্টাইন ফুটবলারের ওপর কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। পারেদেসকে ১০ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। মোলিনার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ছিল সাত ম্যাচ। আর আলমাদাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এক ম্যাচের জন্য। শাস্তির কারণে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচে তাদের পাওয়া নিয়ে আর্জেন্টিনার জন্য তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা।

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফুটবলে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা সাধারণত অফিসিয়াল প্রতিযোগিতার ম্যাচে কার্যকর হয়। অর্থাৎ বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা কিংবা অন্য কোনো আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ম্যাচ খেললেই নিষেধাজ্ঞার সংখ্যা কমে। প্রীতি ম্যাচে শাস্তির ম্যাচ গণনা না হলে পারেদেসদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো।

আরও পড়ুন  জার্মানির টাইব্রেকার রেকর্ড ভাঙল প্যারাগুয়ে

এই পরিস্থিতি বদলাতেই বিশেষ উদ্যোগ নেয় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা এএফএ। তারা ফিফার কাছে আবেদন করে, নিষেধাজ্ঞার ম্যাচগুলো যেন আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচেও গণনা করার অনুমতি দেওয়া হয়। এতে খেলোয়াড়দের শাস্তির মেয়াদ দ্রুত শেষ হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তাদের পাওয়া সহজ হবে।

ফিফা শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার সেই আবেদন অনুমোদন করেছে। ফলে পারেদেস, মোলিনা ও আলমাদা এখন জাতীয় দলের হয়ে আসন্ন প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামতে পারবেন এবং সেসব ম্যাচ তাদের নিষেধাজ্ঞার হিসাবের মধ্যে যুক্ত হবে। এই সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনা দলের জন্য নিঃসন্দেহে স্বস্তির।

সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন পারেদেস। তাঁর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ছিল ১০ ম্যাচ। নিয়মিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ থাকায় একে একে সেই ম্যাচগুলোতে শাস্তি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পাবেন তিনি। একইভাবে মোলিনাও সাত ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দ্রুত শেষ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন  ‘এখানেই শুরু, এখানেই শেষ’—অবসর নিয়ে বড় বার্তা দিলেন নেইমার

অন্যদিকে আলমাদার পরিস্থিতি তুলনামূলক সহজ। মাত্র এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা থাকায় প্রীতি ম্যাচেই সেটি পূরণ করা সম্ভব হবে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তাঁর অনুপস্থিত থাকার সম্ভাবনাও অনেকটাই কমে গেল।

আর্জেন্টিনা দলের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণ, জাতীয় দলের নিয়মিত পরিকল্পনায় এই ফুটবলারদের ভূমিকা রয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে দলের শক্তি ধরে রাখতে কোচের হাতে যত বেশি বিকল্প থাকবে, ততই সুবিধা হবে। বিশেষ করে বড় টুর্নামেন্টের আগে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়ে যাওয়া দলটির জন্য বড় স্বস্তি।

বিশ্বকাপ ফাইনালের পরের ঘটনার কারণে শাস্তি পাওয়া ফুটবলারদের বিষয়টি নিয়ে আর্জেন্টিনার ফুটবল মহলে বেশ আলোচনা ছিল। দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা থাকায় সামনে বড় কোনো প্রতিযোগিতায় তাদের অনুপস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এএফএর আবেদনের পর ফিফার সিদ্ধান্ত সেই উদ্বেগ অনেকটাই দূর করেছে।

আরও পড়ুন  ভিলাকে হারিয়ে দুর্দান্ত জয়ে টানা ২য়বার পিএসজি চ্যাম্পিয়ন

প্রীতি ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা পূরণের সুযোগ পাওয়ায় এখন আর্জেন্টিনা নিজেদের পূর্ণ শক্তির দল গঠনের দিকে মনোযোগ দিতে পারবে। আন্তর্জাতিক সূচিতে থাকা প্রস্তুতিমূলক ম্যাচগুলো শুধু দল গোছানোর কাজে নয়, নিষেধাজ্ঞায় থাকা খেলোয়াড়দের শাস্তি শেষ করার ক্ষেত্রেও কাজে লাগবে।

তবে ফিফার এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে। পারেদেস, মোলিনা ও আলমাদা যদি প্রীতি ম্যাচগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ম্যাচ খেলে নিষেধাজ্ঞা শেষ করতে পারেন, তাহলে বড় কোনো টুর্নামেন্টে তাদের নিয়ে আলাদা করে চিন্তা করতে হবে না আর্জেন্টিনা কোচকে।

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের পর পাওয়া শাস্তির ধাক্কা সামলে ওঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেল আর্জেন্টিনা। ফিফার অনুমোদনের কারণে তিন ফুটবলারের নিষেধাজ্ঞা দ্রুত শেষ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে সামনে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আরও শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নামার সম্ভাবনা বাড়ল আর্জেন্টিনার।