আসন্ন আসিয়ান কাপকে সামনে রেখে দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। নতুন কোচ থমাস ডুলির অধীনে আপাতত বল দখল বা কৌশলগত অনুশীলনের চেয়ে খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফিটনেস ফিরিয়ে আনতেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রস্তুতির ঘাটতি কাটাতে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় শুরু হয়েছে দুই বেলার কঠিন অনুশীলন।
জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হয়েছে গত পরশু। তবে মাঠের অনুশীলন শুরু হয় গতকাল থেকে। কিংস অ্যারেনায় প্রথমবারের মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ শুরু করেন নতুন কোচ থমাস ডুলি। দীর্ঘদিন প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের বাইরে থাকায় খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা বুঝে অনুশীলনের মাত্রা ঠিক করছেন কোচিং স্টাফ।
শুরুতেই অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে ধীরে ধীরে অনুশীলনের তীব্রতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দুই বেলা অনুশীলন করানো হচ্ছে ফুটবলারদের। জামাল ভূইয়া, তপু বর্মণসহ জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা সকাল ও বিকেলের সেশনে নিজেদের ফিটনেস ফেরাতে ঘাম ঝরাচ্ছেন।
দীর্ঘ সময় ঘরোয়া ফুটবলের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ না থাকায় জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফিটনেসে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ২১ আগস্ট চ্যালেঞ্জ কাপ দিয়ে নতুন মৌসুম শুরুর কথা থাকলেও ক্লাবগুলোর প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টটি বাতিল করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।
এদিকে সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে ঘরোয়া ফুটবলের নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু সেই সময় জাতীয় দল থাকবে ইন্দোনেশিয়ায়। ফলে আসিয়ান কাপের আগে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় ম্যাচ খেলে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না জাতীয় দলের ফুটবলাররা।
এমন পরিস্থিতিতে শুধু অনুশীলনের ওপর নির্ভর না করে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার ওপর জোর দিয়েছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা খেলোয়াড়দের দ্রুত ম্যাচের ছন্দে ফেরাতে ঘরোয়া ক্লাবগুলোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
তপু বর্মণের মতে, যেসব ক্লাব ইতোমধ্যে অনুশীলন শুরু করেছে, তাদের সঙ্গে জাতীয় দলের প্রস্তুতি ম্যাচ হলে খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফিটনেস দ্রুত ফিরে আসবে। এতে দীর্ঘ বিরতির প্রভাবও অনেকটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কোচও খেলোয়াড়দের বর্তমান অবস্থাটা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।
আসিয়ান কাপের আগে নতুন কোচ থমাস ডুলি সময় পাচ্ছেন প্রায় চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ। এই সময়ের মধ্যে শুধু খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে প্রস্তুত করাই নয়, নিজের কৌশল ও ফুটবল দর্শনের সঙ্গে দলকে মানিয়ে নেওয়ার কাজও করতে হবে তাঁকে। তাই প্রতিটি অনুশীলন সেশনই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দীর্ঘদিন ফুটবলের বাইরে থাকায় প্রথম সপ্তাহের অনুশীলন কঠিন হবে বলেও জানিয়েছেন তপু। তবে এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত নিজেদের প্রস্তুত করে তুলতে চান জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা। ফিটনেসের পাশাপাশি দলীয় বোঝাপড়া ও কৌশলগত প্রস্তুতিও ধীরে ধীরে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে লাল-সবুজের দল। তিন প্রতিপক্ষই ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকায় শুরু থেকেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে জামাল-তপুদের।
তাই আসিয়ান কাপের আগে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য শুধু নতুন কৌশল রপ্ত করা নয়, দীর্ঘ বিরতির জড়তা কাটিয়ে ম্যাচের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা। দুই বেলার নিবিড় অনুশীলনের পাশাপাশি প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজন করা গেলে সেই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হবে বলে মনে করছেন দলের খেলোয়াড়েরা।

























