ঢাকা ০১:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

মাত্র দশম শ্রেণিতেই এশিয়ান গেমসে ইতিহাস গড়লেন ফাতেমা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৩৭:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২৭

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের হয়ে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছেন ফাতেমা আক্তার। | ছবি: সংগৃহীত

ফাতেমা আক্তার বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার হিসেবে এশিয়ান গেমসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছেন। মাত্র দশম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর সামনে এখন আরও বড় চ্যালেঞ্জ—আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের পতাকা তুলে ধরা এবং সার্ফিংয়ে বাংলাদেশের জন্য ইতিহাস তৈরি করা।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্রতিদিন চলছে তাঁর কঠোর অনুশীলন। ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে নিজেকে আরও দক্ষ করে তুলছেন এই তরুণী। তাঁর সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন আরেক সার্ফার মোহাম্মদ মান্নান। বাংলাদেশ সার্ফ গার্লস অ্যান্ড বয়েজ ক্লাবের কোচ রাশেদ আলমের তত্ত্বাবধানে চলছে তাঁদের প্রস্তুতি।

ফাতেমা আক্তারের এই যাত্রা সহজ নয়। সার্ফিং এমন একটি খেলা, যেখানে শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি প্রয়োজন ভারসাম্য, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং সমুদ্রের ঢেউ সম্পর্কে ভালো ধারণা। প্রতিটি অনুশীলনেই তাই নিজের সীমা আরও একটু এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

সামনে তাঁর সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ২০তম এশিয়ান গেমস। জাপানের আইচি-নাগোয়ায় সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এই আসর। এবারই প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে সার্ফিংয়ে বাংলাদেশের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে ফাতেমার জন্য এই আসর কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, দেশের ক্রীড়া ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠার সুযোগও।

একজন স্কুলশিক্ষার্থীর এত বড় আন্তর্জাতিক স্বপ্ন নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত প্রশিক্ষণ, শারীরিক প্রস্তুতি এবং প্রতিযোগিতার জন্য মানসিকভাবে তৈরি হওয়া—সবকিছুই সামলাতে হচ্ছে তাঁকে। তবে কঠিন পরিশ্রমের মধ্যেই নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন ফাতেমা।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের অংশগ্রহণ গত কয়েক বছরে অনেক বেড়েছে। ক্রিকেট, ফুটবল, অ্যাথলেটিকস কিংবা শুটিংয়ের পাশাপাশি এখন সার্ফিংয়ের মতো অপেক্ষাকৃত নতুন খেলাতেও নারীদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ফাতেমা আক্তারের সাফল্য সেই পথকে আরও বিস্তৃত করতে পারে।

কক্সবাজার বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হলেও এখানকার সমুদ্রসৈকত সার্ফিংয়ের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত ও ঢেউকে কাজে লাগিয়ে দেশের সার্ফাররা নিয়মিত অনুশীলন করেন। এই পরিবেশেই বেড়ে উঠছে নতুন প্রজন্মের সার্ফারদের স্বপ্ন।

ফাতেমার জন্য তাই কক্সবাজারের ঢেউ শুধু অনুশীলনের জায়গা নয়, বরং স্বপ্ন পূরণের প্রস্তুতিও। প্রতিদিনের প্রশিক্ষণে তিনি নিজের ভারসাম্য, গতি ও কৌশল আরও উন্নত করার চেষ্টা করছেন। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলা করতে এই প্রস্তুতিই তাঁকে আত্মবিশ্বাস দেবে।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সার্ফিং অভিষেক দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন কোনো খেলায় আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশ নেওয়া মানে শুধু পদকের লড়াই নয়; এর মাধ্যমে দেশে খেলাটির প্রতি আগ্রহ বাড়ে, নতুন খেলোয়াড় তৈরি হয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পরিচিতিও বিস্তৃত হয়।

ফাতেমা আক্তারের গল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাঁর বয়স। স্কুলের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সময়েই তিনি এমন একটি আন্তর্জাতিক স্বপ্নের পেছনে ছুটছেন, যা অনেক অভিজ্ঞ ক্রীড়াবিদের কাছেও বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর এই যাত্রা দেশের অন্য তরুণদেরও নতুন খেলায় আগ্রহী করে তুলতে পারে।

তবে এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে ভালো করতে শুধু ব্যক্তিগত প্রতিভা যথেষ্ট নয়। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, উন্নত সরঞ্জাম, কোচিং, শারীরিক ফিটনেস এবং প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতা—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন। ফাতেমার প্রস্তুতিতে তাই প্রতিটি দিনই গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের সার্ফিংয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁর যাত্রা নতুন আশার জন্ম দিয়েছে। আজকের একজন তরুণ সার্ফার আগামী দিনে আরও অনেক মেয়েকে সমুদ্রের ঢেউয়ের দিকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করতে পারেন। একসময় যে খেলাকে অনেকেই কেবল বিনোদন হিসেবে দেখতেন, সেটিই এখন বাংলাদেশের তরুণদের কাছে পেশাদার ক্রীড়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে।

এশিয়ান গেমসের মঞ্চে নামার সুযোগ পেলে ফাতেমা আক্তার শুধু নিজের জন্য নয়, বাংলাদেশের নারী সার্ফিংয়ের প্রতিনিধিত্ব করবেন। তাঁর প্রতিটি ঢেউ জয় করার চেষ্টা তখন হয়ে উঠবে দেশের ক্রীড়া ইতিহাসের একটি নতুন অধ্যায়।

এখন চোখ কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে। ঢেউ আসছে, আবার ফিরে যাচ্ছে। আর সেই ঢেউয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ফাতেমা। সামনে আন্তর্জাতিক মঞ্চ, সঙ্গে দেশের প্রত্যাশা। স্বপ্নটা বড়—বাংলাদেশের হয়ে ইতিহাস তৈরি করা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইমরান খান: কারাবাস নিয়ে ছেলেদের শঙ্কার নেপথ্যে

মাত্র দশম শ্রেণিতেই এশিয়ান গেমসে ইতিহাস গড়লেন ফাতেমা

Update Time : ১১:৩৭:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

ফাতেমা আক্তার বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার হিসেবে এশিয়ান গেমসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছেন। মাত্র দশম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর সামনে এখন আরও বড় চ্যালেঞ্জ—আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের পতাকা তুলে ধরা এবং সার্ফিংয়ে বাংলাদেশের জন্য ইতিহাস তৈরি করা।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্রতিদিন চলছে তাঁর কঠোর অনুশীলন। ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে নিজেকে আরও দক্ষ করে তুলছেন এই তরুণী। তাঁর সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন আরেক সার্ফার মোহাম্মদ মান্নান। বাংলাদেশ সার্ফ গার্লস অ্যান্ড বয়েজ ক্লাবের কোচ রাশেদ আলমের তত্ত্বাবধানে চলছে তাঁদের প্রস্তুতি।

ফাতেমা আক্তারের এই যাত্রা সহজ নয়। সার্ফিং এমন একটি খেলা, যেখানে শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি প্রয়োজন ভারসাম্য, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং সমুদ্রের ঢেউ সম্পর্কে ভালো ধারণা। প্রতিটি অনুশীলনেই তাই নিজের সীমা আরও একটু এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

সামনে তাঁর সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ২০তম এশিয়ান গেমস। জাপানের আইচি-নাগোয়ায় সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এই আসর। এবারই প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে সার্ফিংয়ে বাংলাদেশের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে ফাতেমার জন্য এই আসর কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, দেশের ক্রীড়া ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠার সুযোগও।

একজন স্কুলশিক্ষার্থীর এত বড় আন্তর্জাতিক স্বপ্ন নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত প্রশিক্ষণ, শারীরিক প্রস্তুতি এবং প্রতিযোগিতার জন্য মানসিকভাবে তৈরি হওয়া—সবকিছুই সামলাতে হচ্ছে তাঁকে। তবে কঠিন পরিশ্রমের মধ্যেই নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন ফাতেমা।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের অংশগ্রহণ গত কয়েক বছরে অনেক বেড়েছে। ক্রিকেট, ফুটবল, অ্যাথলেটিকস কিংবা শুটিংয়ের পাশাপাশি এখন সার্ফিংয়ের মতো অপেক্ষাকৃত নতুন খেলাতেও নারীদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ফাতেমা আক্তারের সাফল্য সেই পথকে আরও বিস্তৃত করতে পারে।

কক্সবাজার বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হলেও এখানকার সমুদ্রসৈকত সার্ফিংয়ের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত ও ঢেউকে কাজে লাগিয়ে দেশের সার্ফাররা নিয়মিত অনুশীলন করেন। এই পরিবেশেই বেড়ে উঠছে নতুন প্রজন্মের সার্ফারদের স্বপ্ন।

ফাতেমার জন্য তাই কক্সবাজারের ঢেউ শুধু অনুশীলনের জায়গা নয়, বরং স্বপ্ন পূরণের প্রস্তুতিও। প্রতিদিনের প্রশিক্ষণে তিনি নিজের ভারসাম্য, গতি ও কৌশল আরও উন্নত করার চেষ্টা করছেন। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলা করতে এই প্রস্তুতিই তাঁকে আত্মবিশ্বাস দেবে।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সার্ফিং অভিষেক দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন কোনো খেলায় আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশ নেওয়া মানে শুধু পদকের লড়াই নয়; এর মাধ্যমে দেশে খেলাটির প্রতি আগ্রহ বাড়ে, নতুন খেলোয়াড় তৈরি হয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পরিচিতিও বিস্তৃত হয়।

ফাতেমা আক্তারের গল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাঁর বয়স। স্কুলের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সময়েই তিনি এমন একটি আন্তর্জাতিক স্বপ্নের পেছনে ছুটছেন, যা অনেক অভিজ্ঞ ক্রীড়াবিদের কাছেও বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর এই যাত্রা দেশের অন্য তরুণদেরও নতুন খেলায় আগ্রহী করে তুলতে পারে।

তবে এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে ভালো করতে শুধু ব্যক্তিগত প্রতিভা যথেষ্ট নয়। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, উন্নত সরঞ্জাম, কোচিং, শারীরিক ফিটনেস এবং প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতা—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন। ফাতেমার প্রস্তুতিতে তাই প্রতিটি দিনই গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের সার্ফিংয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁর যাত্রা নতুন আশার জন্ম দিয়েছে। আজকের একজন তরুণ সার্ফার আগামী দিনে আরও অনেক মেয়েকে সমুদ্রের ঢেউয়ের দিকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করতে পারেন। একসময় যে খেলাকে অনেকেই কেবল বিনোদন হিসেবে দেখতেন, সেটিই এখন বাংলাদেশের তরুণদের কাছে পেশাদার ক্রীড়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে।

এশিয়ান গেমসের মঞ্চে নামার সুযোগ পেলে ফাতেমা আক্তার শুধু নিজের জন্য নয়, বাংলাদেশের নারী সার্ফিংয়ের প্রতিনিধিত্ব করবেন। তাঁর প্রতিটি ঢেউ জয় করার চেষ্টা তখন হয়ে উঠবে দেশের ক্রীড়া ইতিহাসের একটি নতুন অধ্যায়।

এখন চোখ কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে। ঢেউ আসছে, আবার ফিরে যাচ্ছে। আর সেই ঢেউয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ফাতেমা। সামনে আন্তর্জাতিক মঞ্চ, সঙ্গে দেশের প্রত্যাশা। স্বপ্নটা বড়—বাংলাদেশের হয়ে ইতিহাস তৈরি করা।