ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ছেলে থেকে মেয়ে, এবার ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ জিততে চান অনয়া Logo ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না ৮ শ্রেণির মানুষ, জানুন নতুন শর্ত Logo আতলেতিকোর প্রিয় থেকে শত্রু আলভারেজ, শেষ পর্যন্ত কী হবে? Logo মরিনিয়োর চোখে ব্যালন ডি’অরের আসল দাবিদার কে? Logo একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল কি আবার ব্যবহার করা নিরাপদ? Logo ঢাকায় দুই নতুন মেট্রোরেল রুট, ব্যয় বাড়ছে ২ লাখ কোটি টাকার বেশি Logo সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা, ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের বড় কর্মসূচি Logo আয়নাঘর থাকবে না, গুমের অপরাধীদের কঠোর বিচারের ঘোষণা রাষ্ট্রপতির Logo মেসির জাদুতে অবিশ্বাস্য জয়, মন্ট্রিয়ালকে উড়িয়ে দিল মায়ামি Logo মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের জরুরি সতর্কবার্তা, মানতে হবে যেসব নিয়ম

ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না ৮ শ্রেণির মানুষ, জানুন নতুন শর্ত

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:০১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৭

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। | ছবি: সংগৃহীত

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। দরিদ্র, অতি দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনতেই ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ তৈরি করা হয়েছে। তবে নতুন নিয়মে আট ধরনের ব্যক্তি বা পরিবার এই সুবিধা পাবেন না।

সম্প্রতি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নীতিমালাটি জারি করেছে। এর মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকা ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে আরও বড় পরিসরে বাস্তবায়নের একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো তৈরি হলো। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যোগ্য পরিবারগুলোকে ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা সহায়তার আওতায় আনা হবে।

নীতিমালার মূল ধারণা হলো, ব্যক্তি নয় বরং পরিবারকে উন্নয়নের প্রধান একক হিসেবে বিবেচনা করা। এ লক্ষ্য সামনে রেখে অতি দরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২ কোটি নারী পরিবার প্রধানকে সরাসরি জিটুপি পদ্ধতিতে মাসিক নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই সুবিধা পেতে হলে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।

নীতিমালায় একটি ‘নেগেটিভ লিস্ট’ বা বহির্ভূত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ, এই তালিকায় থাকা যেকোনো একটি শর্ত কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে তারা ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধার জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে না।

প্রথমত, সরকার নির্ধারিত পিএমটি স্কোরের ঊর্ধ্বসীমার চেয়ে বেশি স্কোর পাওয়া পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে না। পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এই স্কোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দ্বিতীয়ত, পরিবারের মনোনীত নারী প্রধান যদি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে নিয়মিত বেতন-ভাতা পান, তাহলে তিনি ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না। এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারীর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

তৃতীয়ত, মনোনীত নারী প্রধান নিয়মিত সরকারি পেনশন বা এ ধরনের অবসর সুবিধা গ্রহণ করলে তিনি এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন না। তবে প্রতিবন্ধী সন্তান হিসেবে বিশেষ পেনশন সুবিধা গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

চতুর্থ শর্ত অনুযায়ী, পরিবারের কোনো সদস্যের নামে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া যাবে না। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়, স্থায়ী আমানত বা অন্য ধরনের বিনিয়োগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট পরিবার সুবিধার বাইরে থাকবে।

পঞ্চমত, পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বিআরটিএ নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে সেই পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের জন্য যোগ্য হবে না। বিভিন্ন ধরনের কার, জিপ, পিকআপ, বাস, ট্রাক, লরি ও মাইক্রোবাসের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ধরনের থ্রি-হুইলারও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত।

ষষ্ঠত, পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হালনাগাদ লাইসেন্সধারী ব্যবসা থাকলে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা মিলবে না।

সপ্তমত, পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত করদাতা হলে এবং তার করযোগ্য আয় থাকলে পরিবারটি এই কর্মসূচির আওতায় আসবে না।

অষ্টম শর্তটি জমি ও সম্পদের সঙ্গে সম্পর্কিত। বসতভিটাসহ পরিবারের মোট আবাদি জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি হলে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে না। একইভাবে কোনো অকৃষি জমি, বাণিজ্যিক জমি বা স্পেসের বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলেও পরিবারটি সুবিধার বাইরে থাকবে।

নীতিমালায় প্রতিটি যোগ্য পরিবারের জন্য একটি স্থায়ী ও অনন্য পরিচিতি নম্বর দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ‘ওয়ান আইডি’ নামে পরিচিত এই নম্বর ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট পরিবারের কেন্দ্রীয় পরিচিতি হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

ওয়ান আইডি শুধু একটি সাধারণ পরিচিতি নম্বর হিসেবে ব্যবহার হবে না। এটি রাষ্ট্রীয় তথ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত ডেটা গভর্ন্যান্স কাঠামোর অংশ হিসেবে কাজ করবে। যথাযথ অনুমোদনের মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারে।

ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া গেলেও একই সময়ে সব ধরনের সরকারি সুবিধা নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। কার্ডধারী মনোনীত নারী পরিবার প্রধান অন্য কোনো সমজাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আর্থিক বা খাদ্য সহায়তা একসঙ্গে নিতে পারবেন না।

কেউ আগে থেকেই টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি বা ভিডব্লিউবি কর্মসূচির সুবিধা পেয়ে থাকলে কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ যাচাইয়ের মাধ্যমে আগের সুবিধা বাতিল বা স্থগিত হতে পারে।

একইভাবে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা বা সমজাতীয় সরকারি নগদ সহায়তা গ্রহণকারী মনোনীত নারী প্রধান ফ্যামিলি কার্ড নেওয়ার সময় আগের সুবিধা একসঙ্গে রাখতে পারবেন না।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মনোনীত নারী প্রধান ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

সব মিলিয়ে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির লক্ষ্য হলো প্রকৃত দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে ডিজিটাল ও সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনা। তবে আবেদন বা সুবিধা পাওয়ার আগে আটটি বহির্ভূত শর্ত সম্পর্কে জানা জরুরি, কারণ এর যেকোনো একটি শর্ত প্রযোজ্য হলেই সংশ্লিষ্ট পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা থেকে বাদ পড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ছেলে থেকে মেয়ে, এবার ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ জিততে চান অনয়া

ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না ৮ শ্রেণির মানুষ, জানুন নতুন শর্ত

Update Time : ০৮:০১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। দরিদ্র, অতি দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনতেই ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ তৈরি করা হয়েছে। তবে নতুন নিয়মে আট ধরনের ব্যক্তি বা পরিবার এই সুবিধা পাবেন না।

সম্প্রতি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নীতিমালাটি জারি করেছে। এর মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকা ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে আরও বড় পরিসরে বাস্তবায়নের একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো তৈরি হলো। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যোগ্য পরিবারগুলোকে ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা সহায়তার আওতায় আনা হবে।

নীতিমালার মূল ধারণা হলো, ব্যক্তি নয় বরং পরিবারকে উন্নয়নের প্রধান একক হিসেবে বিবেচনা করা। এ লক্ষ্য সামনে রেখে অতি দরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২ কোটি নারী পরিবার প্রধানকে সরাসরি জিটুপি পদ্ধতিতে মাসিক নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই সুবিধা পেতে হলে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।

নীতিমালায় একটি ‘নেগেটিভ লিস্ট’ বা বহির্ভূত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ, এই তালিকায় থাকা যেকোনো একটি শর্ত কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে তারা ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধার জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে না।

আরও পড়ুন  প্রধানমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজে সংসদ অধিবেশন দেখতে আসা শিক্ষার্থীরা

প্রথমত, সরকার নির্ধারিত পিএমটি স্কোরের ঊর্ধ্বসীমার চেয়ে বেশি স্কোর পাওয়া পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে না। পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এই স্কোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দ্বিতীয়ত, পরিবারের মনোনীত নারী প্রধান যদি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে নিয়মিত বেতন-ভাতা পান, তাহলে তিনি ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না। এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারীর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

তৃতীয়ত, মনোনীত নারী প্রধান নিয়মিত সরকারি পেনশন বা এ ধরনের অবসর সুবিধা গ্রহণ করলে তিনি এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন না। তবে প্রতিবন্ধী সন্তান হিসেবে বিশেষ পেনশন সুবিধা গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

চতুর্থ শর্ত অনুযায়ী, পরিবারের কোনো সদস্যের নামে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া যাবে না। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়, স্থায়ী আমানত বা অন্য ধরনের বিনিয়োগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট পরিবার সুবিধার বাইরে থাকবে।

পঞ্চমত, পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বিআরটিএ নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে সেই পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের জন্য যোগ্য হবে না। বিভিন্ন ধরনের কার, জিপ, পিকআপ, বাস, ট্রাক, লরি ও মাইক্রোবাসের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ধরনের থ্রি-হুইলারও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত।

আরও পড়ুন  হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিনে মুক্ত শিরীন শারমিন

ষষ্ঠত, পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হালনাগাদ লাইসেন্সধারী ব্যবসা থাকলে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা মিলবে না।

সপ্তমত, পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত করদাতা হলে এবং তার করযোগ্য আয় থাকলে পরিবারটি এই কর্মসূচির আওতায় আসবে না।

অষ্টম শর্তটি জমি ও সম্পদের সঙ্গে সম্পর্কিত। বসতভিটাসহ পরিবারের মোট আবাদি জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি হলে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে না। একইভাবে কোনো অকৃষি জমি, বাণিজ্যিক জমি বা স্পেসের বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলেও পরিবারটি সুবিধার বাইরে থাকবে।

নীতিমালায় প্রতিটি যোগ্য পরিবারের জন্য একটি স্থায়ী ও অনন্য পরিচিতি নম্বর দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ‘ওয়ান আইডি’ নামে পরিচিত এই নম্বর ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট পরিবারের কেন্দ্রীয় পরিচিতি হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

ওয়ান আইডি শুধু একটি সাধারণ পরিচিতি নম্বর হিসেবে ব্যবহার হবে না। এটি রাষ্ট্রীয় তথ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত ডেটা গভর্ন্যান্স কাঠামোর অংশ হিসেবে কাজ করবে। যথাযথ অনুমোদনের মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারে।

আরও পড়ুন  এলপিজি কার্ড নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত

ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া গেলেও একই সময়ে সব ধরনের সরকারি সুবিধা নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। কার্ডধারী মনোনীত নারী পরিবার প্রধান অন্য কোনো সমজাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আর্থিক বা খাদ্য সহায়তা একসঙ্গে নিতে পারবেন না।

কেউ আগে থেকেই টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি বা ভিডব্লিউবি কর্মসূচির সুবিধা পেয়ে থাকলে কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ যাচাইয়ের মাধ্যমে আগের সুবিধা বাতিল বা স্থগিত হতে পারে।

একইভাবে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা বা সমজাতীয় সরকারি নগদ সহায়তা গ্রহণকারী মনোনীত নারী প্রধান ফ্যামিলি কার্ড নেওয়ার সময় আগের সুবিধা একসঙ্গে রাখতে পারবেন না।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মনোনীত নারী প্রধান ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

সব মিলিয়ে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির লক্ষ্য হলো প্রকৃত দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে ডিজিটাল ও সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনা। তবে আবেদন বা সুবিধা পাওয়ার আগে আটটি বহির্ভূত শর্ত সম্পর্কে জানা জরুরি, কারণ এর যেকোনো একটি শর্ত প্রযোজ্য হলেই সংশ্লিষ্ট পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা থেকে বাদ পড়তে পারে।