ঢাকা ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ শুভ জন্মাষ্টমী

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:২৪:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৪

শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শ্রীকৃষ্ণের পূজা-অর্চনা। ছবি: সংগৃহীত

শুভ জন্মাষ্টমী আজ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব এই দিনটি শ্রীকৃষ্ণের শুভ আবির্ভাব তিথি হিসেবে পালন করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অধর্মের বিনাশ, সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা এবং মানবকল্যাণের বার্তা নিয়ে ধরাধামে আবির্ভূত হয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনটি পালিত হচ্ছে। মঠ, মন্দির ও পূজামণ্ডপে আয়োজন করা হয়েছে নানা ধর্মীয় কর্মসূচি।

শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে রয়েছে বিশেষ উৎসাহ ও আয়োজন। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দ্বাপর যুগে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মথুরায় জন্মগ্রহণ করেন শ্রীকৃষ্ণ। সে সময় মথুরার রাজা কংসের অত্যাচারে সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। দেবকীর অষ্টম সন্তান কংসের মৃত্যুর কারণ হবে—এমন দৈববাণী শোনার পর তিনি দেবকী ও বাসুদেবকে কারাগারে বন্দি করেন। এরপর তাদের সন্তানদের ওপর চালান নির্মম নির্যাতন।

অবশেষে কারাগারের অন্ধকার পরিবেশে জন্ম নেন শ্রীকৃষ্ণ। ধর্মীয় কাহিনি অনুযায়ী, জন্মের পর বাসুদেব অলৌকিক নির্দেশে শিশুকৃষ্ণকে নিয়ে যমুনা নদী পার হয়ে গোকুলে পৌঁছান। সেখানে নন্দরাজ ও যশোদার স্নেহে বেড়ে ওঠেন কৃষ্ণ। ছোটবেলায় তাঁর দুষ্টুমি, ননীচুরি ও রাখাল বালকের নানা লীলাকাহিনি আজও ভক্তদের মধ্যে ব্যাপকভাবে পরিচিত। গোপাল হিসেবে তাঁর শৈশবের সেই রূপ জন্মাষ্টমীর নানা আয়োজনেও বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।

পরবর্তী সময়ে শ্রীকৃষ্ণ কংসের অত্যাচারের অবসান ঘটান। মহাভারতের কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তিনি অর্জুনের সারথির দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁকে জীবনের কর্তব্য, ন্যায়, কর্ম ও সত্য সম্পর্কে শিক্ষা দেন। তাঁর দেওয়া সেই উপদেশই পরবর্তীতে ‘শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা’ হিসেবে পরিচিত হয়। গীতার শিক্ষা মানুষের জীবনে কর্তব্যনিষ্ঠা, আত্মসংযম ও নিষ্কাম কর্মের গুরুত্ব তুলে ধরে। এ কারণেই শুভ জন্মাষ্টমী শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শন স্মরণেরও বিশেষ দিন।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পূজা-অর্চনা, কীর্তন, আরতি, গীতাযজ্ঞ, ধর্মীয় আলোচনা এবং প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। কোথাও কোথাও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রারও আয়োজন রয়েছে। ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ বিভিন্ন মন্দিরে ভক্তদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে কৃষ্ণের শৈশবের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরার আয়োজনও অনেক স্থানে দেখা যায়।

শুভ জন্মাষ্টমীর মূল বার্তাগুলোর মধ্যে রয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা এবং মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া। শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও গীতার শিক্ষা থেকে ভক্তরা কর্তব্য পালন, মানবিকতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা গ্রহণ করেন। তাই সময়ের পরিবর্তন হলেও কৃষ্ণের প্রেম, ভক্তি ও কর্মের দর্শন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি শুভ জন্মাষ্টমী।

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ শুভ জন্মাষ্টমী

Update Time : ০৮:২৪:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুভ জন্মাষ্টমী আজ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব এই দিনটি শ্রীকৃষ্ণের শুভ আবির্ভাব তিথি হিসেবে পালন করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অধর্মের বিনাশ, সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা এবং মানবকল্যাণের বার্তা নিয়ে ধরাধামে আবির্ভূত হয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনটি পালিত হচ্ছে। মঠ, মন্দির ও পূজামণ্ডপে আয়োজন করা হয়েছে নানা ধর্মীয় কর্মসূচি।

শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে রয়েছে বিশেষ উৎসাহ ও আয়োজন। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দ্বাপর যুগে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মথুরায় জন্মগ্রহণ করেন শ্রীকৃষ্ণ। সে সময় মথুরার রাজা কংসের অত্যাচারে সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। দেবকীর অষ্টম সন্তান কংসের মৃত্যুর কারণ হবে—এমন দৈববাণী শোনার পর তিনি দেবকী ও বাসুদেবকে কারাগারে বন্দি করেন। এরপর তাদের সন্তানদের ওপর চালান নির্মম নির্যাতন।

আরও পড়ুন  সব দল বলতে কি আওয়ামী লীগকেও বোঝানো হয়েছে? প্রশ্ন সারজিসের

অবশেষে কারাগারের অন্ধকার পরিবেশে জন্ম নেন শ্রীকৃষ্ণ। ধর্মীয় কাহিনি অনুযায়ী, জন্মের পর বাসুদেব অলৌকিক নির্দেশে শিশুকৃষ্ণকে নিয়ে যমুনা নদী পার হয়ে গোকুলে পৌঁছান। সেখানে নন্দরাজ ও যশোদার স্নেহে বেড়ে ওঠেন কৃষ্ণ। ছোটবেলায় তাঁর দুষ্টুমি, ননীচুরি ও রাখাল বালকের নানা লীলাকাহিনি আজও ভক্তদের মধ্যে ব্যাপকভাবে পরিচিত। গোপাল হিসেবে তাঁর শৈশবের সেই রূপ জন্মাষ্টমীর নানা আয়োজনেও বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।

পরবর্তী সময়ে শ্রীকৃষ্ণ কংসের অত্যাচারের অবসান ঘটান। মহাভারতের কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তিনি অর্জুনের সারথির দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁকে জীবনের কর্তব্য, ন্যায়, কর্ম ও সত্য সম্পর্কে শিক্ষা দেন। তাঁর দেওয়া সেই উপদেশই পরবর্তীতে ‘শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা’ হিসেবে পরিচিত হয়। গীতার শিক্ষা মানুষের জীবনে কর্তব্যনিষ্ঠা, আত্মসংযম ও নিষ্কাম কর্মের গুরুত্ব তুলে ধরে। এ কারণেই শুভ জন্মাষ্টমী শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শন স্মরণেরও বিশেষ দিন।

আরও পড়ুন  স্কুলছাত্র নিহত: ঝালকাঠিতে বাসচাপায় মর্মান্তিক মৃত্যু

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পূজা-অর্চনা, কীর্তন, আরতি, গীতাযজ্ঞ, ধর্মীয় আলোচনা এবং প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। কোথাও কোথাও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রারও আয়োজন রয়েছে। ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ বিভিন্ন মন্দিরে ভক্তদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে কৃষ্ণের শৈশবের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরার আয়োজনও অনেক স্থানে দেখা যায়।

আরও পড়ুন  আজ বিশ্ব বন্ধু দিবস

শুভ জন্মাষ্টমীর মূল বার্তাগুলোর মধ্যে রয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা এবং মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া। শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও গীতার শিক্ষা থেকে ভক্তরা কর্তব্য পালন, মানবিকতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা গ্রহণ করেন। তাই সময়ের পরিবর্তন হলেও কৃষ্ণের প্রেম, ভক্তি ও কর্মের দর্শন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি শুভ জন্মাষ্টমী।