বাংলাদেশে চীনা পর্যটক আকর্ষণে নতুন করে উদ্যোগ বাড়ানোর কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পর্যটন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যথাযথ প্রচারণা, সহজ ফ্লাইট যোগাযোগ ও আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশে চীনা পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে পারে। পাশাপাশি হোটেল, পরিবহন, বিনোদন ও পর্যটন অবকাঠামোয় চীনা বিনিয়োগ এ খাতকে আরও এগিয়ে নিতে পারে। এতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বাংলাদেশে পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো অনেক জায়গা রয়েছে। সমুদ্র, নদী, পাহাড়, ঝরনা ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ সুন্দরবন দেশের পর্যটনের বড় সম্পদ। কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত থেকে শুরু করে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি সৌন্দর্যও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে বাংলাদেশের পরিচিতি আরও বাড়ানো সম্ভব।

অন্যদিকে নিজস্ব সংস্কৃতি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যময় খাবারের জন্য চীনও বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। দেশটিতে রয়েছে দ্য গ্রেট ওয়াল মহাপ্রাচীর, সামার প্যালেস, লি নদী ও রেইনবো মাউন্টেনের মতো বিখ্যাত পর্যটন ও ঐতিহ্যবাহী স্থান। এসব আকর্ষণ প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক পর্যটককে চীনের দিকে টেনে নেয়। ফলে চীনা পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশেও নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।
পর্যটন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীনা পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশের পর্যটন গন্তব্যগুলো তুলে ধরতে বড় পরিসরে প্রচারণা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে ফ্লাইট যোগাযোগ আরও সহজ ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ভালো মানের হোটেল ও পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি। এতে চীনা পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে আগ্রহ বাড়তে পারে।

পর্যটন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদ উল আলম বলেন, অনেক দেশেই বৈদেশিক পর্যটক আগমনের ক্ষেত্রে চীনা পর্যটকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশেও বিপুলসংখ্যক চীনা পর্যটক আনার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য দুই দেশের জনগণকে কাছাকাছি আনার মতো কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ সরকারিভাবেই নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশের বৈদেশিক বিনিয়োগের অন্যতম শীর্ষ উৎস চীন হলেও দুই দেশের পর্যটন সম্পর্ক এখনও সেই তুলনায় শক্তিশালী নয়। বাংলাদেশে অসংখ্য চীনা নাগরিক বসবাস ও কাজ করলেও নানা অসংগতির কারণে দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলো তাদের যথেষ্ট আকর্ষণ করতে পারছে না। একইভাবে চীনের অনেক পর্যটন গন্তব্যও বাংলাদেশিদের কাছে সহজে পৌঁছানোর সুযোগ সীমিত। এ অবস্থায় দুই দেশের পর্যটন ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ) জিয়াউল হক হাওলাদার বলেন, চীনা পর্যটকদের আকর্ষণ করতে সেবার মান উন্নত করতে হবে। খাবারে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি ফুড ফিউশন ও চীনা পর্যটকদের উপযোগী খাবারের ব্যবস্থা করার প্রয়োজন রয়েছে। তার মতে, পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নে চীনা বিনিয়োগ এলে বাংলাদেশে চীনা পর্যটক আগমনের সুযোগ আরও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের অনেক জমি এখনো খালি রয়েছে। এসব জায়গায় চীনের বিনিয়োগ এলে হোটেল, বিনোদনকেন্দ্রসহ বিভিন্ন পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে চীনের পর্যটন খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে। এতে সেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।
বিনিয়োগ ও যোগাযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ ও চীন ইতোমধ্যে বিভিন্ন সমঝোতা ও সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রকৃতি, অ্যাডভেঞ্চার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ চীনা পর্যটকদের জন্য নতুনভাবে নিজেদের তুলে ধরতে পারে। এতে দুই দেশের পর্যটন ও অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।
চীনা পর্যটকদের আকর্ষণে পরিকল্পিত প্রচারণা ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের পর্যটন খাত আরও গতিশীল হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু পর্যটনকেন্দ্রের সৌন্দর্য নয়, ভ্রমণ সহজ করা এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবাও নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে মানুষের যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চীনা পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশ একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।




























