ঢাকা ০২:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদা না পেলে মৃত্যুপরোয়ানা পাঠাচ্ছেন চট্টগ্রামের ভয়ংকর সন্ত্রাসী রায়হান

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:৩৮:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৭

বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় সন্ত্রাসী রায়হানের সহযোগীদের। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী মোহাম্মদ রায়হান এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। চাঁদার দাবিতে তার কাছ থেকে প্রতিদিনই কেউ না কেউ ‘মৃত্যুপরোয়ানা’ পাচ্ছেন।

ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও ধনাঢ্য ব্যক্তি থেকে শুরু করে কেউই তার এই ভয়ংকর হুমকি-ধমকি থেকে বাদ যাচ্ছেন না। সবশেষ হাটহাজারীর একজন গরিবদরদি চিকিৎসকের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন সন্ত্রাসী রায়হান।

চাঁদা না দিলে ওই চিকিৎসককে ১০০ পুলিশের সামনে হলেও গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে রায়হান ও তার বাহিনীর হাতে চট্টগ্রামে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। চাঁদা না পেয়ে কিংবা আধিপত্য বিস্তারের জেরে নিশানা করে তারা একের পর এক খুন করেছেন।

তার অন্যতম সহযোগী ডেভিড ইমন, গলাকাটা মোবারক এবং ধামা ইলিয়াস গ্রেফতার হওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছিল রায়হান হয়তো এবার কিছুটা দুর্বল হবেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন, যা নিয়ে খোদ প্রশাসনও বেশ উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে।

এই অবস্থায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানিয়েছেন, রায়হানসহ তার সহযোগীরা যদি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়, তবে তাদের সুযোগ দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের হয়ে তার অনুসারী ছোট সাজ্জাদ, ডেভিড ইমন ও রায়হান আন্ডারওয়ার্ল্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।

ছোট সাজ্জাদ, ডেভিড ইমন ও ধামা ইলিয়াসসহ ভয়ংকর সন্ত্রাসীদের অনেকে এখন কারাগারে থাকায় বর্তমানে একক নেতৃত্ব দিচ্ছেন রায়হান। এখন এই সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে বড় বড় ব্যবসায়ী, আওয়ামী লীগসংশ্লিষ্ট সাবেক এমপি ও শিল্পপতিদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

হোয়াটসঅ্যাপ ও বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে টার্গেট ব্যক্তিদের আলটিমেটাম দিয়ে এই বিপুল অঙ্কের চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। যারা চাঁদা দিচ্ছেন না, তাদের বাসাবাড়িতে গিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলিবর্ষণ করে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি ঘিরে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর সঙ্গেও তার বাহিনী নিয়মিত সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে টেন্ডার ও বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ, অপহরণ বাণিজ্য এবং কন্ট্রাক্ট কিলিংয়েও জড়িয়ে পড়েছে সাজ্জাদ বাহিনী।

চট্টগ্রাম মহানগরী ও উত্তর চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও হাটহাজারীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তত ২৯টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, যার বেশির ভাগের নেতৃত্বেই ছিল এই সন্ত্রাসী বাহিনী।

গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্যের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে ২২ জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ধামা ইলিয়াসকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

রিমান্ডে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন তাদের দেওয়া তথ্যে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে বিদেশি পিস্তলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই দিনই শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড রায়হানকে ধরতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে অভিযান চালানো হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রায়হান একটি বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

সম্প্রতি হাটহাজারীর গরিবের চিকিৎসক হিসাবে খ্যাত ডা. এম ওয়াই এফ পারভেজের কাছে চাঁদার জন্য বিদেশি নম্বর থেকে ফোন দেন রায়হান। ফোন রিসিভ না করায় মেসেজ পাঠিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং রোগী সেজে চেম্বারে গিয়ে হত্যার হুমকি দেন।

জানা গেছে, ডা. পারভেজের বাড়ি হাটহাজারীর চিকনদন্ডি ইউনিয়নে এবং তিনি দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের আমানবাজারে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেন। এই ভয়ংকর হুমকির ঘটনার পর নতুন করে আলোচনায় আসেন রাউজান উপজেলার পূর্ব রাউজান গ্রামের বাসিন্দা সন্ত্রাসী রায়হান।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদা না পেলে মৃত্যুপরোয়ানা পাঠাচ্ছেন চট্টগ্রামের ভয়ংকর সন্ত্রাসী রায়হান

Update Time : ১২:৩৮:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী মোহাম্মদ রায়হান এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। চাঁদার দাবিতে তার কাছ থেকে প্রতিদিনই কেউ না কেউ ‘মৃত্যুপরোয়ানা’ পাচ্ছেন।

ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও ধনাঢ্য ব্যক্তি থেকে শুরু করে কেউই তার এই ভয়ংকর হুমকি-ধমকি থেকে বাদ যাচ্ছেন না। সবশেষ হাটহাজারীর একজন গরিবদরদি চিকিৎসকের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন সন্ত্রাসী রায়হান।

চাঁদা না দিলে ওই চিকিৎসককে ১০০ পুলিশের সামনে হলেও গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে রায়হান ও তার বাহিনীর হাতে চট্টগ্রামে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। চাঁদা না পেয়ে কিংবা আধিপত্য বিস্তারের জেরে নিশানা করে তারা একের পর এক খুন করেছেন।

তার অন্যতম সহযোগী ডেভিড ইমন, গলাকাটা মোবারক এবং ধামা ইলিয়াস গ্রেফতার হওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছিল রায়হান হয়তো এবার কিছুটা দুর্বল হবেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন, যা নিয়ে খোদ প্রশাসনও বেশ উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে।

আরও পড়ুন  ছুরিকাঘাতে আহত পুলিশ: চট্টগ্রামে আসামি ধরতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর হামলা

এই অবস্থায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানিয়েছেন, রায়হানসহ তার সহযোগীরা যদি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়, তবে তাদের সুযোগ দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের হয়ে তার অনুসারী ছোট সাজ্জাদ, ডেভিড ইমন ও রায়হান আন্ডারওয়ার্ল্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।

ছোট সাজ্জাদ, ডেভিড ইমন ও ধামা ইলিয়াসসহ ভয়ংকর সন্ত্রাসীদের অনেকে এখন কারাগারে থাকায় বর্তমানে একক নেতৃত্ব দিচ্ছেন রায়হান। এখন এই সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে বড় বড় ব্যবসায়ী, আওয়ামী লীগসংশ্লিষ্ট সাবেক এমপি ও শিল্পপতিদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

হোয়াটসঅ্যাপ ও বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে টার্গেট ব্যক্তিদের আলটিমেটাম দিয়ে এই বিপুল অঙ্কের চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। যারা চাঁদা দিচ্ছেন না, তাদের বাসাবাড়িতে গিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলিবর্ষণ করে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ভোক্তা অধিকার আইন: জরিমানার ২৫% পাবেন অভিযোগকারী

আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি ঘিরে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর সঙ্গেও তার বাহিনী নিয়মিত সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে টেন্ডার ও বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ, অপহরণ বাণিজ্য এবং কন্ট্রাক্ট কিলিংয়েও জড়িয়ে পড়েছে সাজ্জাদ বাহিনী।

চট্টগ্রাম মহানগরী ও উত্তর চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও হাটহাজারীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তত ২৯টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, যার বেশির ভাগের নেতৃত্বেই ছিল এই সন্ত্রাসী বাহিনী।

গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্যের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে ২২ জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ধামা ইলিয়াসকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

রিমান্ডে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন তাদের দেওয়া তথ্যে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে বিদেশি পিস্তলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন  রাউজানে মন্দিরের স্বর্ণালংকার চুরি, গ্রেপ্তার ১

ওই দিনই শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড রায়হানকে ধরতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে অভিযান চালানো হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রায়হান একটি বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

সম্প্রতি হাটহাজারীর গরিবের চিকিৎসক হিসাবে খ্যাত ডা. এম ওয়াই এফ পারভেজের কাছে চাঁদার জন্য বিদেশি নম্বর থেকে ফোন দেন রায়হান। ফোন রিসিভ না করায় মেসেজ পাঠিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং রোগী সেজে চেম্বারে গিয়ে হত্যার হুমকি দেন।

জানা গেছে, ডা. পারভেজের বাড়ি হাটহাজারীর চিকনদন্ডি ইউনিয়নে এবং তিনি দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের আমানবাজারে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেন। এই ভয়ংকর হুমকির ঘটনার পর নতুন করে আলোচনায় আসেন রাউজান উপজেলার পূর্ব রাউজান গ্রামের বাসিন্দা সন্ত্রাসী রায়হান।