প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে শুধু ঘুমের সময় নয়, ঘুমের মান, নিয়মিত জীবনযাপন এবং শারীরিক সক্রিয়তার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
সুস্থ শরীর ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম যেমন অত্যন্ত জরুরি, তেমনি ঘুমের ঘাটতি বা অতিরিক্ত ঘুমের ঝুঁকি এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ডেকে আনতে পারে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমনই সতর্কবার্তা উঠে এসেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ঘুমান এবং একই সঙ্গে শারীরিকভাবে কম সক্রিয় থাকেন, তাদের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ঘুমানোর পাশাপাশি অলস জীবনযাপন করলে এই ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় চারগুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে।
অতিরিক্ত ঘুমে যেসব সমস্যা হতে পারে
বিষণ্ণতা ও মানসিক সমস্যা: নিয়মিত ১০ ঘণ্টা বা তার বেশি ঘুমালে মানসিক স্বাস্থ্য ও বিষণ্ণতার লক্ষণ বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
কর্মক্ষমতা হ্রাস: অতিরিক্ত ঘুমের ফলে ঘুম থেকে ওঠার পরও অলসতা, ঝিমুনি ও ক্লান্তি থাকতে পারে, যা দৈনন্দিন কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
ওজন বৃদ্ধি: দীর্ঘ সময় ঘুমানো এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের ফলে ক্যালরি খরচ কমে যায়, যা স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়।
হৃদরোগের ঝুঁকি: দীর্ঘ সময় ঘুমানো ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার ফলে হৃদ্রোগসহ বিভিন্ন কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
অকালমৃত্যুর ঝুঁকি: অতিরিক্ত ঘুমানো ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন গবেষণায় অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কিছুটা বেশি পাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
দীর্ঘদিন ধরে ৯ ঘণ্টার বেশি ঘুমানোর প্রয়োজন হলে বা ঘুম থেকে ওঠার পরও অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা, শরীরচর্চা ও সুষম খাদ্যাভ্যাস সুস্থ জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য।




























