ঢাকা ১০:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

র‍্যাব ইতিহাস! আসছে এসআরবি, কতটা ক্ষমতাধর হবে নতুন বাহিনী?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:২০:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১৬

র‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা এসআরবি গঠনের আইন পাস হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‌্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা এসআরবি গঠনের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। নতুন বাহিনীটি গুরুতর অপরাধ মোকাবিলার পাশাপাশি তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও সম্পত্তি জব্দের ক্ষমতা পাবে। তবে র‌্যাবের জনবল ও সম্পদের বড় অংশ এসআরবিতে যাওয়ায় নতুন বাহিনীটি আসলে কতটা ভিন্ন হবে, তা নিয়েও সংসদে প্রশ্ন উঠেছে।

‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ অনুযায়ী, নতুন ইউনিটটি সরাসরি বাংলাদেশ পুলিশের আওতায় থাকবে। সরকারের প্রয়োজন অনুসারে পুলিশ ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পদায়ন বা প্রেষণের মাধ্যমে এতে নিয়োগ দেওয়া যাবে। এসআরবির নিজস্ব পতাকা, প্রতীক ও নির্ধারিত ইউনিফর্ম থাকবে। বাহিনীর মহাপরিচালক হবেন অন্তত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হচ্ছে র‌্যাব নামের বাহিনীটির আইনি অস্তিত্ব বিলুপ্ত হওয়া। ২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশে র‌্যাব গঠনের যে আইনি ভিত্তি ছিল, নতুন ব্যবস্থায় সেই বিধান বাদ দেওয়া হচ্ছে। র‌্যাব ২০০৪ সালে কার্যক্রম শুরু করেছিল। পরবর্তী সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুমসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগে বাহিনীটি দেশে-বিদেশে সমালোচনার মুখে পড়ে।

তবে র‌্যাব বিলুপ্ত হলেও এর জনবল, সম্পদ ও অবকাঠামোর বড় অংশ হারিয়ে যাচ্ছে না। বিলে র‌্যাবের জনবল, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, তহবিল, ব্যাংকে থাকা অর্থ, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, চুক্তি, রেকর্ড ও নথিপত্র এসআরবির কাছে হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। র‌্যাবের বিদ্যমান বিভিন্ন সরঞ্জামও নতুন বাহিনীতে ব্যবহার করা যাবে। সরকারের বক্তব্য, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ঠেকাতেই এ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ক্ষমতার দিক থেকেও এসআরবি হবে শক্তিশালী বিশেষায়িত ইউনিট। নতুন বাহিনী ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত করতে পারবে, কোনো স্থানে তল্লাশি চালাতে পারবে এবং আইন অনুযায়ী সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি বা আলামত জব্দ করার ক্ষমতাও থাকবে। এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা এবং জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানও বিলে রাখা হয়েছে।

তবে গ্রেপ্তার হওয়া কোনো ব্যক্তিকে অনির্দিষ্ট সময় এসআরবির নিজস্ব হেফাজতে রাখার সুযোগ থাকবে না বলে সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ‘অনতিবিলম্বে’ নিকটবর্তী থানায় সোপর্দ করার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি বাহিনীর কোনো সদস্য ফৌজদারি অপরাধে জড়ালে তার বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নতুন বাহিনীর জবাবদিহির জন্য একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটিও থাকবে। নাগরিকরা এসআরবির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে এবং বাহিনীর সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ উঠলে এই কমিটি তা দেখবে। এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তবে বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য এই কমিটির স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আরও স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

সংসদে বিরোধী সদস্যদের একটি অংশ অভিযোগ করেন, র‌্যাবের জনবল, সম্পদ ও ক্ষমতা এসআরবিতে স্থানান্তর হওয়ায় শুধু নাম পরিবর্তন হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, র‌্যাব পুরোপুরি বিলুপ্ত করেই নতুন একটি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠন করা হবে। ফলে এখন নজর থাকবে নতুন বাহিনীর কার্যক্রম, জবাবদিহি এবং মাঠপর্যায়ে এর ক্ষমতা কীভাবে প্রয়োগ করা হয়, সেই দিকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

র‍্যাব ইতিহাস! আসছে এসআরবি, কতটা ক্ষমতাধর হবে নতুন বাহিনী?

Update Time : ০৯:২০:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‌্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা এসআরবি গঠনের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। নতুন বাহিনীটি গুরুতর অপরাধ মোকাবিলার পাশাপাশি তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও সম্পত্তি জব্দের ক্ষমতা পাবে। তবে র‌্যাবের জনবল ও সম্পদের বড় অংশ এসআরবিতে যাওয়ায় নতুন বাহিনীটি আসলে কতটা ভিন্ন হবে, তা নিয়েও সংসদে প্রশ্ন উঠেছে।

‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ অনুযায়ী, নতুন ইউনিটটি সরাসরি বাংলাদেশ পুলিশের আওতায় থাকবে। সরকারের প্রয়োজন অনুসারে পুলিশ ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পদায়ন বা প্রেষণের মাধ্যমে এতে নিয়োগ দেওয়া যাবে। এসআরবির নিজস্ব পতাকা, প্রতীক ও নির্ধারিত ইউনিফর্ম থাকবে। বাহিনীর মহাপরিচালক হবেন অন্তত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন  প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর, চীনে ১৭ চুক্তির সম্ভাবনা

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হচ্ছে র‌্যাব নামের বাহিনীটির আইনি অস্তিত্ব বিলুপ্ত হওয়া। ২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশে র‌্যাব গঠনের যে আইনি ভিত্তি ছিল, নতুন ব্যবস্থায় সেই বিধান বাদ দেওয়া হচ্ছে। র‌্যাব ২০০৪ সালে কার্যক্রম শুরু করেছিল। পরবর্তী সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুমসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগে বাহিনীটি দেশে-বিদেশে সমালোচনার মুখে পড়ে।

তবে র‌্যাব বিলুপ্ত হলেও এর জনবল, সম্পদ ও অবকাঠামোর বড় অংশ হারিয়ে যাচ্ছে না। বিলে র‌্যাবের জনবল, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, তহবিল, ব্যাংকে থাকা অর্থ, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, চুক্তি, রেকর্ড ও নথিপত্র এসআরবির কাছে হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। র‌্যাবের বিদ্যমান বিভিন্ন সরঞ্জামও নতুন বাহিনীতে ব্যবহার করা যাবে। সরকারের বক্তব্য, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ঠেকাতেই এ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন  বিএনপির ইতিহাস ও বাংলাদেশের ইতিহাস প্রায় অভিন্ন : মঈন খান

ক্ষমতার দিক থেকেও এসআরবি হবে শক্তিশালী বিশেষায়িত ইউনিট। নতুন বাহিনী ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত করতে পারবে, কোনো স্থানে তল্লাশি চালাতে পারবে এবং আইন অনুযায়ী সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি বা আলামত জব্দ করার ক্ষমতাও থাকবে। এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা এবং জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানও বিলে রাখা হয়েছে।

তবে গ্রেপ্তার হওয়া কোনো ব্যক্তিকে অনির্দিষ্ট সময় এসআরবির নিজস্ব হেফাজতে রাখার সুযোগ থাকবে না বলে সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ‘অনতিবিলম্বে’ নিকটবর্তী থানায় সোপর্দ করার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি বাহিনীর কোনো সদস্য ফৌজদারি অপরাধে জড়ালে তার বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নতুন বাহিনীর জবাবদিহির জন্য একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটিও থাকবে। নাগরিকরা এসআরবির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে এবং বাহিনীর সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ উঠলে এই কমিটি তা দেখবে। এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তবে বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য এই কমিটির স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আরও স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন  স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ: শূন্যপদের তথ্য চাইল সরকার

সংসদে বিরোধী সদস্যদের একটি অংশ অভিযোগ করেন, র‌্যাবের জনবল, সম্পদ ও ক্ষমতা এসআরবিতে স্থানান্তর হওয়ায় শুধু নাম পরিবর্তন হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, র‌্যাব পুরোপুরি বিলুপ্ত করেই নতুন একটি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠন করা হবে। ফলে এখন নজর থাকবে নতুন বাহিনীর কার্যক্রম, জবাবদিহি এবং মাঠপর্যায়ে এর ক্ষমতা কীভাবে প্রয়োগ করা হয়, সেই দিকে।