আওয়ামী লীগ ফেরাতে ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী রাজনৈতিক মত মোকাবিলায় সরকারের একটি অংশ আওয়ামী লীগকে নতুনভাবে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত জাতীয় সিরাত সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ অভিযোগ করেন।
সেমিনারে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারের একটি অংশ বিরোধী মতকে মোকাবিলা করার জন্য আওয়ামী লীগকে ফেরানোর পরিকল্পনা করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এমন উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আবারও সংকটের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তবে তাঁর এই বক্তব্যের পক্ষে তিনি নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করেননি।
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে দিল্লির গোপন আঁতাত না থাকলে কীভাবে আওয়ামী লীগ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মিছিল করছে—এমন প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক নিয়েও রাজনৈতিক সন্দেহের বিষয়টি উঠে আসে। তবে এটিও তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ হিসেবেই এসেছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার আর কোনো সুযোগ নেই। তাঁর মতে, দলটি আবার সক্রিয় হলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। একই সময়ে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারও ধীরে ধীরে ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে তাঁর এই সমালোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে।
জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ তুলেও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করে সরকার মানুষের বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়টি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, সরকারের ভূমিকা, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। ফলে আওয়ামী লীগ ফেরাতে ষড়যন্ত্রের অভিযোগটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকার বা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।





























