ঢাকা ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

হাত-পা রোগা অথচ পেটের মেদ বাড়ছে কেন জানুন ৬টি কারণ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৫৮:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১২

হাত-পা পাতলা হলেও পেটের চারপাশে চর্বি জমতে পারে বিভিন্ন কারণে।গ্রাফিতি: মীরর বাংলা

পেটের মেদ বাড়ছে কেন, অথচ হাত-পা কেন আগের মতোই রোগা—এমন প্রশ্ন অনেকেরই। শরীরের ওজন খুব বেশি না হলেও কোমর বা পেটের চারপাশে চর্বি জমতে পারে। শরীরে চর্বি কোথায় বেশি জমবে, তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। খাদ্যাভ্যাস, দৈনন্দিন শারীরিক কর্মকাণ্ড, ঘুম, বয়স ও জিনগত বৈশিষ্ট্যসহ বিভিন্ন বিষয় এতে ভূমিকা রাখতে পারে।

১. দিনের বেশির ভাগ সময় বসে থাকা: অফিসের কাজ, যাতায়াত কিংবা অবসর—সব মিলিয়ে দীর্ঘ সময় বসে কাটালে দৈনন্দিন শারীরিক কর্মকাণ্ড কমে যায়। ফলে শরীরের শক্তি খরচ কম হতে পারে। নিয়মিত এমন জীবনযাপন এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালরি গ্রহণ চলতে থাকলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে পারে। তাই শুধু এক ঘণ্টা ব্যায়াম নয়, দিনের মধ্যে নিয়মিত হাঁটা ও দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার মাঝে বিরতি নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

২. চিনি ও মিষ্টি খাবার বেশি খাওয়া: চা-কফিতে অতিরিক্ত চিনি, কোমল পানীয়, বিস্কুট, মিষ্টি কিংবা অন্যান্য উচ্চ ক্যালরির খাবার নিয়মিত খেলে অজান্তেই খাবার থেকে অতিরিক্ত ক্যালরি যোগ হতে পারে। দীর্ঘদিন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালরি গ্রহণ করলে শরীরে চর্বি বাড়ার প্রবণতা তৈরি হয়। তাই শুধু মূল খাবার নয়, দিনের মাঝখানে কী কী খাচ্ছেন, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।

৩. রাতে দেরি করে খাওয়া ও অনিয়মিত রুটিন: রাত ১০টা-১১টার পর খাবার খাওয়া এবং খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়ার অভ্যাস একা পেটের মেদ তৈরির কারণ নয়। তবে অনিয়মিত খাবারের সময়, রাত জাগা ও কম শারীরিক কর্মকাণ্ড একসঙ্গে থাকলে ওজন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হতে পারে। তাই সম্ভব হলে নিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়া এবং রাতের খাবারের পর কিছুক্ষণ হালকা হাঁটা ভালো অভ্যাস।

৪. খাবারে প্রোটিন কম থাকা: ভাত বা রুটির পরিমাণ বেশি হলেও খাবারে ডিম, মাছ, ডাল, দুধ বা অন্যান্য প্রোটিনের উৎস কম থাকলে খাদ্যতালিকা ভারসাম্যহীন হতে পারে। পর্যাপ্ত প্রোটিন পেশি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পেশির পরিমাণ তুলনামূলক কম এবং চর্বির পরিমাণ বেশি হলে ওজন স্বাভাবিক থাকলেও শরীরের গঠন পাতলা কিন্তু নরম বা কম টোনড দেখাতে পারে। তাই শুধু কম খাওয়া নয়, সুষম খাবার খাওয়াও জরুরি।

৫. ঘুম কম ও মানসিক চাপ বেশি: পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষুধা ও খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষায় পরিবর্তন আসতে পারে। একইভাবে দীর্ঘদিনের মানসিক চাপও খাবারের অভ্যাস, ঘুম ও শারীরিক কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করতে পারে। রাতে জেগে থাকা, ক্লান্তি এবং উচ্চ ক্যালরির খাবারের প্রতি বাড়তি আকর্ষণ—সব মিলিয়ে ওজন ও শরীরের চর্বি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

৬. শুধু ওজন দিয়ে শরীরের অবস্থা বোঝা যায় না: হাত-পা রোগা হলেই শরীরে অতিরিক্ত চর্বি নেই—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আবার পেটের মেদ থাকলেই এর পেছনে একটি নির্দিষ্ট কারণ থাকবে, তাও নয়। শরীরের গঠন, বয়স, বংশগত বৈশিষ্ট্য ও জীবনযাপনের ধরন অনুযায়ী চর্বি জমার ধরন আলাদা হতে পারে। তাই শুধু ওজনের মেশিনে নজর না দিয়ে কোমরের মাপ, খাবারের অভ্যাস, শারীরিক কর্মকাণ্ড ও ঘুমের দিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

পেটের মেদ কমাতে হঠাৎ করে না খেয়ে থাকা বা কোনো একটি খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়া সমাধান নয়। বরং নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম, পরিমিত ও সুষম খাবার, পর্যাপ্ত প্রোটিন, কম চিনি এবং ভালো ঘুম—এসব অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর। শরীরের পরিবর্তনও সাধারণত ধীরে আসে, তাই ধারাবাহিকতাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাত-পা রোগা অথচ পেটের মেদ বাড়ছে কেন জানুন ৬টি কারণ

Update Time : ১১:৫৮:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পেটের মেদ বাড়ছে কেন, অথচ হাত-পা কেন আগের মতোই রোগা—এমন প্রশ্ন অনেকেরই। শরীরের ওজন খুব বেশি না হলেও কোমর বা পেটের চারপাশে চর্বি জমতে পারে। শরীরে চর্বি কোথায় বেশি জমবে, তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। খাদ্যাভ্যাস, দৈনন্দিন শারীরিক কর্মকাণ্ড, ঘুম, বয়স ও জিনগত বৈশিষ্ট্যসহ বিভিন্ন বিষয় এতে ভূমিকা রাখতে পারে।

১. দিনের বেশির ভাগ সময় বসে থাকা: অফিসের কাজ, যাতায়াত কিংবা অবসর—সব মিলিয়ে দীর্ঘ সময় বসে কাটালে দৈনন্দিন শারীরিক কর্মকাণ্ড কমে যায়। ফলে শরীরের শক্তি খরচ কম হতে পারে। নিয়মিত এমন জীবনযাপন এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালরি গ্রহণ চলতে থাকলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে পারে। তাই শুধু এক ঘণ্টা ব্যায়াম নয়, দিনের মধ্যে নিয়মিত হাঁটা ও দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার মাঝে বিরতি নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

২. চিনি ও মিষ্টি খাবার বেশি খাওয়া: চা-কফিতে অতিরিক্ত চিনি, কোমল পানীয়, বিস্কুট, মিষ্টি কিংবা অন্যান্য উচ্চ ক্যালরির খাবার নিয়মিত খেলে অজান্তেই খাবার থেকে অতিরিক্ত ক্যালরি যোগ হতে পারে। দীর্ঘদিন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালরি গ্রহণ করলে শরীরে চর্বি বাড়ার প্রবণতা তৈরি হয়। তাই শুধু মূল খাবার নয়, দিনের মাঝখানে কী কী খাচ্ছেন, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।

আরও পড়ুন  পপকর্ন শুধু মুখরোচক নয় ওজন নিয়ন্ত্রণেও হতে পারে সহায়ক

৩. রাতে দেরি করে খাওয়া ও অনিয়মিত রুটিন: রাত ১০টা-১১টার পর খাবার খাওয়া এবং খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়ার অভ্যাস একা পেটের মেদ তৈরির কারণ নয়। তবে অনিয়মিত খাবারের সময়, রাত জাগা ও কম শারীরিক কর্মকাণ্ড একসঙ্গে থাকলে ওজন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হতে পারে। তাই সম্ভব হলে নিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়া এবং রাতের খাবারের পর কিছুক্ষণ হালকা হাঁটা ভালো অভ্যাস।

৪. খাবারে প্রোটিন কম থাকা: ভাত বা রুটির পরিমাণ বেশি হলেও খাবারে ডিম, মাছ, ডাল, দুধ বা অন্যান্য প্রোটিনের উৎস কম থাকলে খাদ্যতালিকা ভারসাম্যহীন হতে পারে। পর্যাপ্ত প্রোটিন পেশি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পেশির পরিমাণ তুলনামূলক কম এবং চর্বির পরিমাণ বেশি হলে ওজন স্বাভাবিক থাকলেও শরীরের গঠন পাতলা কিন্তু নরম বা কম টোনড দেখাতে পারে। তাই শুধু কম খাওয়া নয়, সুষম খাবার খাওয়াও জরুরি।

আরও পড়ুন  ডিনারের পর মন শান্ত ও উদ্বেগ কমাতে পান করুন এই পানীয়

৫. ঘুম কম ও মানসিক চাপ বেশি: পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষুধা ও খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষায় পরিবর্তন আসতে পারে। একইভাবে দীর্ঘদিনের মানসিক চাপও খাবারের অভ্যাস, ঘুম ও শারীরিক কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করতে পারে। রাতে জেগে থাকা, ক্লান্তি এবং উচ্চ ক্যালরির খাবারের প্রতি বাড়তি আকর্ষণ—সব মিলিয়ে ওজন ও শরীরের চর্বি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন  ওজন কমাতে কঠিন ডায়েট নয় প্রতিদিনের খাবারে আনুন এই ছয়টি বদল

৬. শুধু ওজন দিয়ে শরীরের অবস্থা বোঝা যায় না: হাত-পা রোগা হলেই শরীরে অতিরিক্ত চর্বি নেই—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আবার পেটের মেদ থাকলেই এর পেছনে একটি নির্দিষ্ট কারণ থাকবে, তাও নয়। শরীরের গঠন, বয়স, বংশগত বৈশিষ্ট্য ও জীবনযাপনের ধরন অনুযায়ী চর্বি জমার ধরন আলাদা হতে পারে। তাই শুধু ওজনের মেশিনে নজর না দিয়ে কোমরের মাপ, খাবারের অভ্যাস, শারীরিক কর্মকাণ্ড ও ঘুমের দিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

পেটের মেদ কমাতে হঠাৎ করে না খেয়ে থাকা বা কোনো একটি খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়া সমাধান নয়। বরং নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম, পরিমিত ও সুষম খাবার, পর্যাপ্ত প্রোটিন, কম চিনি এবং ভালো ঘুম—এসব অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর। শরীরের পরিবর্তনও সাধারণত ধীরে আসে, তাই ধারাবাহিকতাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।