দৌলতপুরে পানি বৃদ্ধি পেয়ে কুষ্টিয়ার পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার বেড়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে সীমান্তবর্তী চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রায় ৪০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানির কারণে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমিতে দুর্ভোগ বেড়েছে।
পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৌলতপুরে পানি বৃদ্ধি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে। কোথাও কোথাও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বন্যার পানিতে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন অনেক পরিবার। যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দুই ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি শনিবার বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েকদিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষিতেও এর প্রভাব পড়েছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের হিসাবে, দৌলতপুরে প্রায় ৪৭০ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত মানুষের সহায়তায় শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। প্রায় ৩৫০ পরিবারের মধ্যে প্রাথমিক সহায়তা পৌঁছেছে বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে। নতুন করে ত্রাণ বরাদ্দ পাওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় এখনো ত্রাণ কম। ১০ টন চাল বরাদ্দ হলেও তা ছাড় না হওয়ায় বিতরণ শুরু করা যায়নি।
এদিকে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। রাজশাহীর বাঘা, পবা ও গোদাগাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় আগে থেকেই কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি। বাঘার চকরাজাপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলে বন্যার পাশাপাশি নদীভাঙনেও বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে। গবাদিপশু নিয়েও তৈরি হয়েছে বাড়তি সংকট।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার পানি শনিবার বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে প্রায় তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। কোথাও বসতঘরে পানি ঢুকেছে, আবার কোথাও রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। প্রায় সাড়ে ৩০০ হেক্টর আমন ধান ও সবজি জমিও পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্গত পরিবারগুলোর মধ্যে চাল, খাবার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ওষুধ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, উজানের ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পদ্মায় পানি বেড়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে শনিবার ও রোববার পানির প্রবাহ স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর পানি কমতে শুরু করতে পারে। তবে দৌলতপুরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। তাই দুর্গত এলাকায় দ্রুত পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছানো এখন সবচেয়ে জরুরি।





























