মিমি চক্রবর্তীর বিয়ে নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। একসময় বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই মজা করে বিষয়টি এড়িয়ে যেতেন অভিনেত্রী। কখনো বলতেন, বিয়ে করার প্রয়োজনটাই বা কী, আবার কখনো স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, বিয়ে নিয়ে তাঁর কোনো ভাবনাই নেই। তবে এবার পশ্চিমবঙ্গের একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পারেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। সম্ভাব্য বিয়ের স্থান হিসেবে উঠে এসেছে পাহাড়ি শহর কালিম্পংয়ের নাম।
মিমি চক্রবর্তীর বিয়ে নিয়ে গুঞ্জনের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে সম্ভাব্য পাত্রের পরিচয়। ভারতীয় নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তার সঙ্গে অভিনেত্রীর বিয়ের কথা শোনা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা। আনন্দবাজার ডট কম ও সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনেও বছরের শেষে কালিম্পংয়ে বিয়ের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। তবে এসব খবর এখনো গুঞ্জন হিসেবেই রয়েছে। মিমি কিংবা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের তারিখ, পাত্রের নাম বা সম্পর্কের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বিয়ের বিষয়ে মিমির পুরোনো বক্তব্যও এখন নতুন করে সামনে আসছে। ২০১৮ সালে আনন্দবাজারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাত্র ২৮ বছর বয়সে কেন তাঁকে বিয়ে করতে হবে, তা নিয়ে রসিকতা করেছিলেন অভিনেত্রী। মায়ের প্রসঙ্গ উঠলে মিমি মজার ছলে বলেছিলেন, তাঁর বিয়ে দেওয়ার এতই যদি ইচ্ছা থাকে, তাহলে পাত্রের বিজ্ঞাপন দেওয়া যেতে পারে। একই সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, তখন বিয়ে নিয়ে তিনি মোটেও ভাবছেন না। নিজের জীবন ও কাজ নিয়েই তাঁর ব্যস্ততা বেশি ছিল।
মিমি চক্রবর্তীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গুঞ্জন একসময় টালিউডে বেশ আলোচিত ছিল। যদিও দুজনের সম্পর্ক কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও তাঁদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে নানা খবর প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৮ সালের টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে তাঁদের সম্পর্কের প্রসঙ্গ উঠে আসে। পরে তাঁদের বিচ্ছেদের খবরও আলোচনায় আসে। ওই সময় মিমির এক তুর্কি বন্ধুকে ঘিরে যে অভিযোগ উঠেছিল, অভিনেত্রী সেটিকে ভুল-বোঝাবুঝি বলে অস্বীকার করেছিলেন। এরপর থেকে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আরও সতর্ক হয়ে যান তিনি।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরেও মিমি চক্রবর্তীর বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। টিভি নাইন বাংলার এক প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরে জানানো হয়, তখন অভিনেত্রীর কাছে বিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল না। এমনকি তিনি জানিয়েছিলেন, সেই সময়ে তাঁর কোনো প্রেমের সম্পর্কও ছিল না। তাই বিয়ের প্রশ্নও তাঁর কাছে প্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছিল না। সেই সময়ের বক্তব্যের সঙ্গে বর্তমান বিয়ের গুঞ্জনের পার্থক্যই এখন ভক্তদের কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে। সত্যিই কি বদলেছে মিমির ব্যক্তিগত জীবনের সমীকরণ, নাকি পুরো বিষয়টিই এখনো শুধুই জল্পনা?
অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতিতেও নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন মিমি। ২০১২ সালে ‘বাপি বাড়ি যা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক হয়। এরপর ‘বোঝে না সে বোঝে না’, ‘প্রলয়’, ‘বুনো হাঁস’সহ বিভিন্ন সিনেমা ও কাজের মাধ্যমে দর্শকের কাছে জনপ্রিয়তা পান তিনি। ২০১৯ সালে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্যও হন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কাজ ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেওয়া মিমির জীবনে এবার বিয়ের গুঞ্জন তাই বেশ আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কালিম্পংয়ে সত্যিই বিয়ের আয়োজন হচ্ছে কি না, কিংবা নৌবাহিনীর কর্মকর্তা সেই সম্ভাব্য পাত্র কি না, তা নিশ্চিত হতে অপেক্ষা করতে হবে মিমির নিজের বক্তব্যের জন্য।


























