দেশের শিল্পকারখানায় চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট কাটিয়ে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত থেকেই সরবরাহ পরিস্থিতি সাম্প্রতিক সংকটের আগের অবস্থায় ফেরার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সচিবালয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকের পর এ তথ্য জানান এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক। ব্যবসায়ীদের জন্য এটিকে বৈঠকের সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
সোমবারের বৈঠকে এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, মেট্রোপলিটন চেম্বারসহ মোট ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে শিল্প খাতে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি, উৎপাদনে এর প্রভাব এবং সরকারের জ্বালানি পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সাম্প্রতিক সংকটের কারণে বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়ী নেতারা দ্রুত সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানান।
এফবিসিসিআই প্রশাসক ফজলুল হক জানান, প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার রাত থেকে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ আগস্টে সংকট তীব্র হওয়ার আগের পর্যায়ে ফিরিয়ে নেওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ ‘স্বাভাবিক’ বলতে একেবারে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নয়, বরং নতুন করে সংকট ঘনীভূত হওয়ার আগের পরিস্থিতির কাছাকাছি অবস্থাকে বোঝানো হচ্ছে। ফলে শিল্পমালিকদের মধ্যে উৎপাদন পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনাজনিত কারিগরি সমস্যার কারণে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল। সেই কারিগরি সমস্যা সমাধান হয়েছে এবং মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগের পর্যায়ের কাছাকাছি ফিরবে বলে সরকার আশা করছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট মোকাবিলায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় পাঁচটি টার্মিনাল নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে সরকার। তেল, গ্যাস ও কয়লার পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়িয়ে দেশের জ্বালানি উৎসকে আরও বৈচিত্র্যময় করার পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়ানো এবং শিল্প খাতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
এদিকে উচ্চমূল্যের এলএনজি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ পরিস্থিতি বাংলাদেশের শিল্প খাতে চাপ বাড়িয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকটে শিল্প উৎপাদন কমে যাওয়া এবং ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় মঙ্গলবার রাত থেকে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে পোশাক, টেক্সটাইল, ইস্পাত, সিরামিকসহ গ্যাসনির্ভর বিভিন্ন শিল্পে উৎপাদনের চাপ কিছুটা কমতে পারে।
তবে ব্যবসায়ীদের জন্য এখন মূল বিষয় হবে ঘোষিত সময় অনুযায়ী বাস্তবে গ্যাসের চাপ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ কতটা বাড়ে। কারণ শিল্পকারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে শুধু সরবরাহ শুরু হওয়া নয়, প্রয়োজন পর্যাপ্ত চাপ ও ধারাবাহিক বিদ্যুৎ। মঙ্গলবার রাতের পর পরিস্থিতির বাস্তব উন্নতির ওপরই নির্ভর করবে সরকারের এই আশ্বাস শিল্প খাতে কতটা স্বস্তি আনতে পারে।




























