মারুফ হোসেন সজীব মারা গেছেন। নাট্যকার ও পরিচালক এই নির্মাতা মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টায় রাজধানীর উত্তরায় নিজের বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবরে নাট্যাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের আবহ। সহকর্মী ও অভিনয়শিল্পীরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন নিজের সৃষ্টিশীল কাজের স্মৃতি ও দর্শকদের ভালো লাগার বেশ কিছু নাটক।
মারুফ হোসেন সজীবের জানাজা মঙ্গলবার বাদ জোহর রাজধানীর উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সহকর্মী ও অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। দীর্ঘদিন ধরে নাটক লেখা ও নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। নিজের ভাবনা ও গল্পকে পর্দায় তুলে ধরার ক্ষেত্রে তার ছিল আলাদা একটি নির্মাণশৈলী, যা তাকে সমসাময়িক নির্মাতাদের মধ্যে পরিচিত করে তুলেছিল।
সহকর্মী নির্মাতা মুরসালিন শুভ জানান, হৃদরোগের সমস্যায় ভুগছিলেন মারুফ হোসেন সজীব। কয়েক মাস আগে তার হার্টে ওপেন সার্জারি হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসা নিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন তিনি। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথেও ছিলেন এই তরুণ নির্মাতা। কিন্তু হঠাৎ করেই মঙ্গলবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। অল্প বয়সে তার এমন চলে যাওয়া সহকর্মীদের জন্যও ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
মারুফ হোসেন সজীব শুধু পরিচালক হিসেবেই কাজ করেননি, নিজের গল্প নিজেই লিখে নাটক নির্মাণ করতেন। গল্পের সঙ্গে নির্মাণের সমন্বয় ঘটিয়ে দর্শকের সামনে ভিন্ন ধরনের কাজ তুলে ধরার চেষ্টা ছিল তার। তার নির্মাণে মানবজীবনের নানা অনুভূতি, সম্পর্ক ও বাস্তবতার ছাপ দেখা গেছে। অল্প সময়ের ক্যারিয়ারে বেশ কিছু কাজের মাধ্যমে তিনি দর্শক ও সহকর্মীদের কাছে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
এই নির্মাতার উল্লেখযোগ্য কাজের তালিকায় রয়েছে ‘বিলোপ’, ‘বাবুই পাখির বাসা’, ‘রঙিন কাগজ’, ‘আধার’ ও ‘সিকিউরিটি গার্ল’। এর পাশাপাশি ‘জলকৌড়ি’, ‘মেঘলা’ এবং ‘নুসাইবা’ নাটকও নির্মাণ করেছেন তিনি। এসব কাজের মাধ্যমে নাট্যাঙ্গনে নিজের সৃষ্টিশীলতার স্বাক্ষর রেখেছেন মারুফ হোসেন সজীব। গল্পকে নিজের মতো করে উপস্থাপন করার চেষ্টা এবং নির্মাণের প্রতি মনোযোগের কারণে তার কাজগুলো আলাদা করে নজর কেড়েছিল।
মারুফ হোসেন সজীবের মৃত্যু দেশের নাট্যাঙ্গনের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বেদনাদায়ক ঘটনা। তার সহকর্মী ও অভিনয়শিল্পীরা ইতোমধ্যে শোক প্রকাশ করছেন। একজন তরুণ নির্মাতা হিসেবে আরও অনেক গল্প বলার ও কাজ করার সুযোগ ছিল তার সামনে। কিন্তু তার আগেই থেমে গেল সেই পথচলা। রেখে যাওয়া নাটক ও সৃষ্টিশীল কাজের মধ্য দিয়েই দর্শকদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন এই নাট্যকার ও পরিচালক। তার জানাজায় সহকর্মী, অভিনয়শিল্পী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।


























