ঢাকা ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

অস্ট্রেলিয়া দল: ডোনাল্ডের গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:২৪:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৬

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের প্রস্তুতিতে অস্ট্রেলিয়া দল। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়া দল মানেই একসময় ছিল প্রতিপক্ষের জন্য বাড়তি চাপের নাম। স্টিভ ওয়াহ, রিকি পন্টিং, শেন ওয়ার্ন, গ্লেন ম্যাকগ্রা, ব্রেট লি, জেসন গিলেস্পিদের সময় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই অনেক দল মানসিক চাপে থাকত। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেসার অ্যালান ডোনাল্ডও সেই সময়ের সাক্ষী। কিন্তু তাঁর চোখে বর্তমান অস্ট্রেলিয়া আর আগের সেই দল নেই। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে যে দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে, সেটিকে তিনি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে সাম্প্রতিক টেস্ট সিরিজের উদাহরণ টেনেই নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন ৭২ টেস্ট খেলা সাবেক এই পেসার।

অস্ট্রেলিয়া দলের পুরোনো সময়ের কথা মনে করিয়ে ডোনাল্ড বলেছেন, ২০০০-এর দশকের শুরুতে এই দল ছিল প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্ক। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ছিল তারকার ছড়াছড়ি। স্টিভ ওয়াহর কাছ থেকে পন্টিংয়ের হাতে যাওয়া দলটিতে একদিকে যেমন ছিল নির্ভরযোগ্য ব্যাটিং, অন্যদিকে ওয়ার্ন, ম্যাকগ্রা, গিলেস্পি ও ব্রেট লির মতো বোলার। ডোনাল্ডের মতে, সেই সময় অস্ট্রেলিয়া নিজেদের শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখত। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তাঁর ভাষায়, অস্ট্রেলিয়ায় এখন পরিবর্তনের সময় চলছে, আর সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে ব্যাটিং নিয়ে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সাম্প্রতিক দুই টেস্টের সিরিজটিই ডোনাল্ডের কথার মূল উদাহরণ। ডারউইনে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকেরা। জবাবে বাংলাদেশ করে ৪২৬ রান। পরে দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়া বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি। তবে ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইনিংস ও ৫১ রানে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। ফলে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হয়। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় টেস্টে বড় জয় পেলেও সিরিজের পরই ব্যাটিংয়ের কিছু জায়গা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছিল।

ডোনাল্ডের মতে, অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের সমস্যা শুধু একটি বা দুটি ম্যাচের ব্যর্থতায় সীমাবদ্ধ নয়। ব্যাটসম্যানরা দীর্ঘ সময় উইকেটে থাকতে না পারলে বোলারদের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়। তিনি মনে করেন, এ কারণেই অস্ট্রেলিয়া শিবিরে ব্যাটিং নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। বাংলাদেশ সিরিজে একটি টেস্টে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর অবশ্য দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। তবে ডোনাল্ডের দৃষ্টিতে সেটি সমস্যার পুরো চিত্র বদলে দেয় না। সামনে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে হলে ব্যাটিং বিভাগকে আরও স্থির হতে হবে—এটাই তাঁর বিশ্লেষণের মূল কথা।

তবে অস্ট্রেলিয়া দলের বোলিং নিয়ে একই ধরনের প্রশ্ন তুলছেন না ডোনাল্ড। বরং প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউডকে এখনো বিশ্বের সেরা পেসারদের মধ্যে রাখছেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনেও এই বোলিং আক্রমণ অস্ট্রেলিয়ার বড় শক্তি হতে পারে বলে মনে করেন ডোনাল্ড। এরই মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য ১৬ সদস্যের টেস্ট দল ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। সেই দলে কামিন্স, স্টার্ক, হ্যাজলউডের পাশাপাশি স্টিভ স্মিথ, ট্রাভিস হেড ও মর্নাস লাবুশেনও আছেন।

সামনে তাই অস্ট্রেলিয়া দলের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন টেস্টের সিরিজ শুরু হবে ৯ অক্টোবর ডারবানে। দ্বিতীয় টেস্ট ১৮ অক্টোবর গকেবেরহায় এবং তৃতীয় টেস্ট ২৭ অক্টোবর কেপটাউনে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১-১ ড্র করা সিরিজের পর এই সফরেই বোঝা যাবে ব্যাটিং নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর কতটা সমাধান করতে পেরেছে অস্ট্রেলিয়া। ডোনাল্ডের চোখে পুরোনো সেই অস্ট্রেলিয়া আর নেই, কিন্তু কামিন্স-স্টার্ক-হ্যাজলউডদের পেস আক্রমণ এখনো দলটিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাখার মতো শক্তিশালী। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সিরিজটি হতে পারে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান দলকে নতুন করে যাচাই করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

জনপ্রিয় সংবাদ

আবাহনী মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, বদলাবে নাম

অস্ট্রেলিয়া দল: ডোনাল্ডের গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ

Update Time : ১০:২৪:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অস্ট্রেলিয়া দল মানেই একসময় ছিল প্রতিপক্ষের জন্য বাড়তি চাপের নাম। স্টিভ ওয়াহ, রিকি পন্টিং, শেন ওয়ার্ন, গ্লেন ম্যাকগ্রা, ব্রেট লি, জেসন গিলেস্পিদের সময় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই অনেক দল মানসিক চাপে থাকত। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেসার অ্যালান ডোনাল্ডও সেই সময়ের সাক্ষী। কিন্তু তাঁর চোখে বর্তমান অস্ট্রেলিয়া আর আগের সেই দল নেই। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে যে দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে, সেটিকে তিনি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে সাম্প্রতিক টেস্ট সিরিজের উদাহরণ টেনেই নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন ৭২ টেস্ট খেলা সাবেক এই পেসার।

অস্ট্রেলিয়া দলের পুরোনো সময়ের কথা মনে করিয়ে ডোনাল্ড বলেছেন, ২০০০-এর দশকের শুরুতে এই দল ছিল প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্ক। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ছিল তারকার ছড়াছড়ি। স্টিভ ওয়াহর কাছ থেকে পন্টিংয়ের হাতে যাওয়া দলটিতে একদিকে যেমন ছিল নির্ভরযোগ্য ব্যাটিং, অন্যদিকে ওয়ার্ন, ম্যাকগ্রা, গিলেস্পি ও ব্রেট লির মতো বোলার। ডোনাল্ডের মতে, সেই সময় অস্ট্রেলিয়া নিজেদের শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখত। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তাঁর ভাষায়, অস্ট্রেলিয়ায় এখন পরিবর্তনের সময় চলছে, আর সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে ব্যাটিং নিয়ে।

আরও পড়ুন  পেলে-মেসি সহ বিশ্বকাপের সেরা ১০ কিংবদন্তি র‍্যাঙ্কিং

বাংলাদেশের বিপক্ষে সাম্প্রতিক দুই টেস্টের সিরিজটিই ডোনাল্ডের কথার মূল উদাহরণ। ডারউইনে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকেরা। জবাবে বাংলাদেশ করে ৪২৬ রান। পরে দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়া বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি। তবে ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইনিংস ও ৫১ রানে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। ফলে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হয়। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় টেস্টে বড় জয় পেলেও সিরিজের পরই ব্যাটিংয়ের কিছু জায়গা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছিল।

আরও পড়ুন  অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ টেস্ট: কামিন্সের চমকপ্রদ উত্তর

ডোনাল্ডের মতে, অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের সমস্যা শুধু একটি বা দুটি ম্যাচের ব্যর্থতায় সীমাবদ্ধ নয়। ব্যাটসম্যানরা দীর্ঘ সময় উইকেটে থাকতে না পারলে বোলারদের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়। তিনি মনে করেন, এ কারণেই অস্ট্রেলিয়া শিবিরে ব্যাটিং নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। বাংলাদেশ সিরিজে একটি টেস্টে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর অবশ্য দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। তবে ডোনাল্ডের দৃষ্টিতে সেটি সমস্যার পুরো চিত্র বদলে দেয় না। সামনে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে হলে ব্যাটিং বিভাগকে আরও স্থির হতে হবে—এটাই তাঁর বিশ্লেষণের মূল কথা।

তবে অস্ট্রেলিয়া দলের বোলিং নিয়ে একই ধরনের প্রশ্ন তুলছেন না ডোনাল্ড। বরং প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউডকে এখনো বিশ্বের সেরা পেসারদের মধ্যে রাখছেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনেও এই বোলিং আক্রমণ অস্ট্রেলিয়ার বড় শক্তি হতে পারে বলে মনে করেন ডোনাল্ড। এরই মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য ১৬ সদস্যের টেস্ট দল ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। সেই দলে কামিন্স, স্টার্ক, হ্যাজলউডের পাশাপাশি স্টিভ স্মিথ, ট্রাভিস হেড ও মর্নাস লাবুশেনও আছেন।

আরও পড়ুন  এশিয়া সফরে ব্রাজিল দলে তরুণদের জয়জয়কার

সামনে তাই অস্ট্রেলিয়া দলের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন টেস্টের সিরিজ শুরু হবে ৯ অক্টোবর ডারবানে। দ্বিতীয় টেস্ট ১৮ অক্টোবর গকেবেরহায় এবং তৃতীয় টেস্ট ২৭ অক্টোবর কেপটাউনে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১-১ ড্র করা সিরিজের পর এই সফরেই বোঝা যাবে ব্যাটিং নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর কতটা সমাধান করতে পেরেছে অস্ট্রেলিয়া। ডোনাল্ডের চোখে পুরোনো সেই অস্ট্রেলিয়া আর নেই, কিন্তু কামিন্স-স্টার্ক-হ্যাজলউডদের পেস আক্রমণ এখনো দলটিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাখার মতো শক্তিশালী। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সিরিজটি হতে পারে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান দলকে নতুন করে যাচাই করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।