বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটার আকবর আলী ও সাকিব আল হাসান এবার খেলতে যাচ্ছেন নেপাল প্রিমিয়ার লিগে (এনপিএল)। আকবর আলীকে দলে নিয়েছে টুর্নামেন্টের একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি, আর সাকিব আল হাসান খেলবেন পোখারা অ্যাভেঞ্জার্সের হয়ে। আগামী ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হবে এনপিএলের তৃতীয় আসর।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে আকবর আলীর নামটি বিশেষভাবে স্মরণীয়। ২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ভারতকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই ঐতিহাসিক ফাইনালে দলের হয়ে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে জয়ের অন্যতম নায়ক হয়েছিলেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।
চাপের মুহূর্তে আকবরের ব্যাটিং ছিল বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম বড় ভিত্তি। ফাইনালে কঠিন পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে দলকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। সেই সাফল্যের পর বাংলাদেশ ক্রিকেটে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন আকবর।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও আকবর আলীর রয়েছে উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা। এখন পর্যন্ত এই সংস্করণে ৮৬টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ১৩০.৬৭ স্ট্রাইক রেটে তার সংগ্রহ ১ হাজার ১৮০ রান, যা টি-টোয়েন্টিতে তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সক্ষমতার প্রমাণ দেয়।
অন্যদিকে নেপাল প্রিমিয়ার লিগের এবারের আসরে পোখারা অ্যাভেঞ্জার্সের হয়ে মাঠে নামবেন সাকিব আল হাসান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারের অংশগ্রহণ টুর্নামেন্টটির আকর্ষণ আরও বাড়াবে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে সাকিবের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাও দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
আট দল নিয়ে আয়োজিত হবে নেপাল প্রিমিয়ার লিগের তৃতীয় আসর। আগামী ১৭ নভেম্বর শুরু হয়ে টুর্নামেন্টটি চলবে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আসরের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে নেপালের কাঠমাণ্ডুর কীর্তিপুরে অবস্থিত ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট গ্রাউন্ডে।
আকবর আলী ও সাকিব আল হাসানের দল ছাড়াও এবারের এনপিএলে অংশ নেবে বিরাটনগর কিংস, চিতওয়ান রাইনোস, জনকপুর বোল্টস, কাঠমাণ্ডু গোরখাস, লুম্বিনি লায়ন্স ও সুদূর পশ্চিম রয়্যালস। আট দলের লড়াইয়ে এবারও থাকছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জমজমাট আয়োজন।
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশগ্রহণ নতুন কিছু নয়। তবে আকবর আলীর মতো তরুণ ক্রিকেটারের জন্য নেপাল প্রিমিয়ার লিগ হতে পারে নিজেকে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ। আর সাকিবের মতো অভিজ্ঞ তারকার উপস্থিতি টুর্নামেন্টে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করবে।
এনপিএলের নতুন মৌসুমে তাই বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটারকে ঘিরে থাকছে আলাদা নজর। আকবর নিজের ব্যাটিং দিয়ে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন এবং সাকিব অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে দলকে কতটা সহায়তা করতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।























