চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে বার্সেলোনা। লা লিগায় প্রথম ছয় ম্যাচ শেষে কাতালান ক্লাবটির গোলসংখ্যা ২৮। ক্লাবটির লিগ ইতিহাসে মৌসুমের প্রথম ছয় ম্যাচে এর চেয়ে বেশি গোল করার নজির নেই।
এই গোলবন্যার পাশাপাশি জয়ের ধারাতেও অনন্য শুরু করেছে হ্যান্সি ফ্লিকের দল। প্রথম ছয় ম্যাচের প্রতিটিতেই জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। ফলে মৌসুমের শুরুতেই দলটির পারফরম্যান্স নিয়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি আলোচনা।
তবে দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও আলো ছড়াচ্ছেন রাফিনিয়া। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমের প্রথম সাত ম্যাচেই ১১ গোল করেছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এর সঙ্গে সতীর্থদের দিয়ে আরও তিনটি গোল করিয়েছেন তিনি।
অর্থাৎ বার্সেলোনার মোট ১৪টি গোলে সরাসরি অবদান রয়েছে রাফিনিয়ার। গোল করা এবং গোল করানো দুই ক্ষেত্রেই তার কার্যকর ভূমিকা দলের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করেছে।
রাফিনিয়ার এই দুর্দান্ত শুরুতে স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে লিওনেল মেসির নাম। বার্সেলোনার হয়ে ২০১২-১৩ মৌসুমে প্রথম সাত ম্যাচে ১০ গোল করেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা। এবার একই সময়ে ১১ গোল করে সেই সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছেন রাফিনিয়া।
লা লিগার হিসাবেও মেসির একটি কীর্তির পাশে জায়গা করে নিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান। ২০১৭-১৮ মৌসুমে লিগের প্রথম ছয় ম্যাচে মেসির গোল ছিল ৯টি। চলতি মৌসুমে প্রথম ছয় ম্যাচে রাফিনিয়ার গোলও ৯টি।
তবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রথম সাত ম্যাচের পরিসংখ্যানে মেসির চেয়ে এক গোল এগিয়ে রাফিনিয়া। ফলে মৌসুমের শুরুতেই বার্সেলোনার ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকার সঙ্গে তার পরিসংখ্যানের তুলনা শুরু হয়েছে।
রাফিনিয়ার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বার্সেলোনার দলীয় গোলসংখ্যাও নজর কেড়েছে। প্রথম ছয় ম্যাচে ২৮ গোল করেছে দলটি। লা লিগার ইতিহাসে এই সময়ে বার্সেলোনার চেয়ে বেশি গোল করার নজির রয়েছে শুধু সেভিয়ার।
১৯৪০-৪১ মৌসুমে লা লিগার প্রথম ছয় ম্যাচে ৩২ গোল করেছিল সেভিয়া। ফলে গোলের হিসাবে সেই রেকর্ডের কাছাকাছি রয়েছে বার্সেলোনা। একই সময়ে টানা ছয় জয়ে অবশ্য নিজেদের শুরুটাকে আরও বিশেষ করে তুলেছে কাতালান ক্লাবটি।
মৌসুম এখনও অনেক দীর্ঘ। সামনে আরও ম্যাচ, আরও প্রতিযোগিতা এবং আরও চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে রাফিনিয়ার জন্য। তবে শুরুতেই ১১ গোল করে যে বার্তা দিয়েছেন তিনি, তাতে বার্সেলোনার আক্রমণভাগে তার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।























