এআই নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারে সত্যকে গুজব এবং গুজবকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনায় এআইয়ের কোনো প্রভাব ছিল কি না, সেটিও ভাবা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম। তিনি বলেন, এআইয়ের প্রভাবে রাষ্ট্রীয়, অর্থনৈতিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নতুন ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছে। সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
অধ্যাপক ইব্রাহীমের মতে, ফেক নিউজ ও কৃত্রিমভাবে তৈরি কনটেন্টের মাধ্যমে মানুষের পরিচয় ও ব্যক্তিত্ব নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, এআইয়ের অনেক ধরনের সক্ষমতা থাকলেও মানুষের মতো সাধারণ বোধ বা ‘কমনসেন্স’ নেই। তাই প্রযুক্তির ওপর মানুষের জ্ঞান ও বিচক্ষণতার নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, সুপার এআই আসার আগেই এটি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমঝোতা ও আইনি কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। এআইয়ের প্রভাবে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে প্রযুক্তিকে বাদ দিয়ে নয়, বরং এআইয়ের সঙ্গেই মানুষকে ভবিষ্যতের পথ তৈরি করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, এআই চিকিৎসা, কৃষি, ওষুধ গবেষণা, দুর্যোগের পূর্বাভাস, ব্যবসা ও গ্রাহকসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে ভুয়া ছবি, ভিডিও, অডিও ক্লোনিং এবং কণ্ঠ ও চেহারা নকল করে প্রতারণার মতো অপব্যবহারও বাড়ছে। এতে সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।
‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ মানবসভ্যতার জন্য আশীর্বাদ নয়, অস্তিত্বের সংকট’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্কে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে হারিয়ে সরকারি তিতুমীর কলেজ বিজয়ী হয়েছে। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।




























