যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণে এক অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এলাকায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের পাশে সামাদ সুপার মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে পরপর চারটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আহত অটোরিকশাচালক মো. বিল্লালকে (৩২) উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করে সামাদ সুপার মার্কেটের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তখন সেখানে থাকা বিল্লাল আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে তাঁর আঘাত কতটা গুরুতর, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়।
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু জানিয়েছেন, ককটেলগুলো ঠিক কোথা থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা এখনো নিশ্চিত নন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যাত্রাবাড়ী উড়ালসড়কের ওপর থেকে নিচের দিকে ককটেলগুলো ফেলা হয়ে থাকতে পারে। তবে কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং বিস্ফোরণের উৎস ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে।
যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণের এই ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন আগের দিনও একই এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এর কিছুক্ষণ পর যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে আরও তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় ইবাদুর রহমান নামের আরেক অটোরিকশাচালক আহত হন।
শুক্রবারের ঘটনাতেও উড়ালসড়ক থেকে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিল পুলিশ। পরপর দুই দিনে একই এলাকার কাছাকাছি স্থানে এমন বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়কের পাশে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় যান চলাচলকারী মানুষও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। পুলিশ বলছে, ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়।
এদিকে নতুন করে যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে থানা-পুলিশ। বিস্ফোরণের স্থান, সম্ভাব্য নিক্ষেপের দিক এবং আশপাশের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারা ককটেলগুলো ছুড়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ বলছে, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।



























