রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে মো. হাবিবুল্লাহ নাঈম নামে ১২ বছরের এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ওপর অভিমান করে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তার আর সন্ধান পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে নাঈমকে নিজেদের হেফাজতে রাখার দাবি করা হলেও পুলিশ জানিয়েছে, ফোনটি প্রতারক চক্রের কাজ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে খিলক্ষেতের কুড়িটোলা স্কুলরোড এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হয় নাঈম। সে কুর্মিটোলা স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিখোঁজের ঘটনায় তার মা মোছা. শরীফা খাতুন খিলক্ষেত থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য ডিবি পুলিশ ও এসআরবির কাছেও আবেদন করা হয়েছে। স্বজনরা জানান, নাঈমের বাবার নাম মো. বাবুল ইসলাম এবং মায়ের নাম মোছা. শরীফা খাতুন। তাদের গ্রামের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার হাজনা নাটোর গ্রামে। বর্তমানে তারা খিলক্ষেত এলাকায় বসবাস করছেন।
নাঈমের চাচা গোলাম হুসাইন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে ছয় বছর বয়সী ছোট ভাই আদিলের সঙ্গে নাঈমের ঝগড়া হয়। এ ঘটনায় মা তাকে বকাঝকা করলে অভিমান করে বাসা থেকে বেরিয়ে যায় সে। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গা ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।
চাচা আরও জানান, নাঈমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে খিলক্ষেত থানায় জিডি করা হয়। শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোন আসে।
ওই ফোনে দাবি করা হয়, নাঈম তাদের হেফাজতে রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা ফোনে শিশুটির কান্নার শব্দ শুনেছেন বলে জানান। ফোনদাতা নাঈমকে নির্যাতন করে বাথরুমে আটকে রাখার কথা বললেও পরে ‘হাজী বাড়ি ক্যাম্প এলাকায়’ থাকার দাবি করে ফোন কেটে দেন। এরপর নম্বরটিতে আর যোগাযোগ করা যায়নি।
জিডির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফজলে রাব্বি জানান, নাঈমের মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিংয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। সর্বশেষ তার অবস্থান রাজধানীর কমলাপুর এলাকায় পাওয়া যায়। এরপর থেকে মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ, ডিবি ও অন্যান্য সংস্থা কাজ করছে।
পুলিশ ওই নম্বর শনাক্ত করে অভিযান চালালেও সেখানে নাঈমকে পাওয়া যায়নি। নম্বরটির মালিক পুলিশকে জানিয়েছেন, তার মোবাইল ফোন হারিয়ে গিয়েছিল। তবে তিনি সিমটি বন্ধ না করায় প্রতারক চক্র সেটি ব্যবহার করে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এসআই ফজলে রাব্বি বলেন, নাঈমের চাচা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির নিখোঁজের বিষয়ে পোস্ট করেছিলেন। সেখান থেকে প্রতারকরা পরিবারের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
পুলিশের ধারণা, কমলাপুরে সর্বশেষ অবস্থান পাওয়ার পর নাঈম ট্রেনে করে অন্য কোথাও যেতে পারে। তবে তার প্রকৃত অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খিলক্ষেত থানার ওসি মো. সোহরাব আল হোসাইন জানান, শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।



























