এইচ-১ বি ভিসায় নির্দিষ্ট নতুন আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত আরও এক বছর বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার জারি করা নতুন ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে চালু হওয়া এই বিধিনিষেধ ২০২৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
নতুন নিয়মটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা এবং নতুন এইচ-১ বি আবেদনের মাধ্যমে দেশটিতে প্রবেশ করতে চাওয়া নির্দিষ্ট বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব কোনো কর্মী, প্রতিষ্ঠান বা শিল্পখাতকে এ শর্ত থেকে ছাড় দিতে পারবেন।
এইচ-১ বি ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা ও অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। বিশেষ করে ভারতীয় পেশাজীবীরা এই কর্মসূচির বড় অংশজুড়ে রয়েছেন। ২০২৪ অর্থবছরে অনুমোদিত এইচ-১ বি আবেদনের প্রায় ৭১ শতাংশ সুবিধাভোগী ভারতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি ছিলেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, কিছু প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে আইটি স্টাফিং ও আউটসোর্সিং খাতে তুলনামূলক কম বেতনের বিদেশি কর্মী নিয়োগে এই কর্মসূচি ব্যবহার করে। প্রশাসনের দাবি, বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধের শর্ত কম বেতনের নিয়োগ নিরুৎসাহিত করে উচ্চ দক্ষতার কর্মী নিয়োগে উৎসাহ দেবে। তবে ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর বক্তব্য, এইচ-১ বি কর্মসূচি এমন দক্ষ পেশাজীবী নিয়োগে সহায়তা করে, যাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পর্যাপ্ত কর্মী পাওয়া যায় না।
নতুন নীতির সঙ্গে আইনি লড়াইও চলছে। ২০২৬ সালের জুনে একটি ফেডারেল আদালত ১ লাখ ডলারের শর্তকে প্রশাসনের ক্ষমতার সীমা ছাড়ানো হিসেবে বিবেচনা করে তা আটকে দেন। পরে বিষয়টি আপিল আদালতে যায়। একই সময়ে ইউএস চেম্বার অব কমার্সসহ ব্যবসায়িক পক্ষগুলোও এই নীতির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে নতুন ঘোষণা কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি এর বৈধতা নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এর বাইরে এইচ-১ বি ভিসা আবেদন যাচাই আরও কঠোর করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, কোনো নিয়োগকর্তা একই ধরনের পদে সম্প্রতি মার্কিন কর্মী ছাঁটাই করেছে কি না বা ভবিষ্যতে ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা আছে কি না, আবেদন পর্যালোচনার সময় তা বিবেচনায় নেওয়া হবে। সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।




























