ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কিনা, যা বললেন স্পিকার Logo বিয়ের আগে বর কনের যেসব স্বাস্থ্য পরীক্ষা অবশ্যই করানো উচিত Logo জিপিএফে জমা যত কম, মুনাফা তত বেশি—সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ Logo তারেক রহমানের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার বৈঠক Logo বিএনপি আগে ব্যর্থ বিরোধী দল, এখন ব্যর্থ সরকার: আতাউল্লাহ আমীন Logo রানি মুখার্জির মা কৃষ্ণা মুখার্জি আর নেই Logo রেফারিং নিয়ে বিতর্কের পরও শাস্তি থেকে রক্ষা পেলেন মরিনিও Logo শচিনকে ছাড়িয়ে ২৩ হাজার আন্তর্জাতিক রানের ক্লাবে জো রুট Logo তেলের ডিপোতে চাঁদা দাবি, কৃষক দলের নেতা গ্রেফতার হয়ে বহিষ্কার Logo মেরুদণ্ডে এখনও ৫ আগস্টের গুলির স্প্লিন্টার গেঁথে আছে: নবী হোসেন

মেরুদণ্ডে এখনও ৫ আগস্টের গুলির স্প্লিন্টার গেঁথে আছে: নবী হোসেন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:২১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৭

মেরুদণ্ডে গুলির স্প্লিন্টার আটকে থাকার কথা জানালেন নবী হোসেন (ছবি: সংগৃহীত)

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর বাড্ডায় বিক্ষোভের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে শরীরে প্রায় ১৫০টি ছররা গুলির স্প্লিন্টার ঢুকেছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জানিয়েছেন গ্রিল শ্রমিক নবী হোসেন সজীব। চিকিৎসকরা ২৫টি স্প্লিন্টার বের করতে পারলেও মেরুদণ্ডে আটকে থাকা একটি এখনো অপসারণ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন নবী হোসেন। জুলাই আন্দোলনে রামপুরায় ২৩ জনকে হত্যার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি প্রসিকিউশনের সাক্ষী হিসেবে বক্তব্য দেন।

জবানবন্দিতে নবী হোসেন জানান, জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। মেরুল বাড্ডা ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালে বেশ কয়েকজন নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন বলেও ট্রাইব্যুনালকে জানান তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট মেরুল বাড্ডার ১৫ নম্বর সড়কে বিক্ষোভে যোগ দেন তিনি। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে পরে প্রধান সড়কে চলে যান। সেখানে পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও র‌্যাবের সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নবী হোসেন বলেন, ওই সময় ছররা গুলিতে তিনি আহত হন। তার চোখের সামনে আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বলেও দাবি করেন তিনি। পরে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং এরপর ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা নেন।

সিএমএইচে চিকিৎসার সময় শরীর থেকে ২৫টি ছররা গুলি বের করা হয় বলে জানান নবী হোসেন। তবে পিঠের হাড়ে গেঁথে থাকা একটি স্প্লিন্টার এখনো বের করা যায়নি। শুনানির সময় তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে থাকা গুলির চিহ্নও ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেন।

জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, ১৯ ও ২০ জুলাই গুলিবর্ষণের ঘটনায় আহত আন্দোলনকারীদের রিকশা ও ভ্যানে করে হাসপাতালে পৌঁছাতে সহায়তা করেছিলেন। রাস্তায় রক্ত দেখে একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে বমি করার কথাও জানান তিনি।

নবী হোসেন এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননকে দায়ী করেন। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কিনা, যা বললেন স্পিকার

মেরুদণ্ডে এখনও ৫ আগস্টের গুলির স্প্লিন্টার গেঁথে আছে: নবী হোসেন

Update Time : ১০:২১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর বাড্ডায় বিক্ষোভের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে শরীরে প্রায় ১৫০টি ছররা গুলির স্প্লিন্টার ঢুকেছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জানিয়েছেন গ্রিল শ্রমিক নবী হোসেন সজীব। চিকিৎসকরা ২৫টি স্প্লিন্টার বের করতে পারলেও মেরুদণ্ডে আটকে থাকা একটি এখনো অপসারণ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন নবী হোসেন। জুলাই আন্দোলনে রামপুরায় ২৩ জনকে হত্যার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি প্রসিকিউশনের সাক্ষী হিসেবে বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন  জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে জাতির উদ্দেশে যা বলেছিলেন ড. ইউনূস

জবানবন্দিতে নবী হোসেন জানান, জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। মেরুল বাড্ডা ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালে বেশ কয়েকজন নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন বলেও ট্রাইব্যুনালকে জানান তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট মেরুল বাড্ডার ১৫ নম্বর সড়কে বিক্ষোভে যোগ দেন তিনি। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে পরে প্রধান সড়কে চলে যান। সেখানে পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও র‌্যাবের সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন  আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাবেক BRUR VC হাসিবুর রশিদ গ্রেপ্তার

নবী হোসেন বলেন, ওই সময় ছররা গুলিতে তিনি আহত হন। তার চোখের সামনে আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বলেও দাবি করেন তিনি। পরে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং এরপর ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা নেন।

সিএমএইচে চিকিৎসার সময় শরীর থেকে ২৫টি ছররা গুলি বের করা হয় বলে জানান নবী হোসেন। তবে পিঠের হাড়ে গেঁথে থাকা একটি স্প্লিন্টার এখনো বের করা যায়নি। শুনানির সময় তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে থাকা গুলির চিহ্নও ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন  জুলাই আন্দোলনের গোপন অধ্যায়: রিফাত রশিদের বিস্ফোরক স্মৃতিচারণ | ২০২৪ আন্দোলন

জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, ১৯ ও ২০ জুলাই গুলিবর্ষণের ঘটনায় আহত আন্দোলনকারীদের রিকশা ও ভ্যানে করে হাসপাতালে পৌঁছাতে সহায়তা করেছিলেন। রাস্তায় রক্ত দেখে একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে বমি করার কথাও জানান তিনি।

নবী হোসেন এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননকে দায়ী করেন। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।