আরও ১৯টি টেস্ট খেলার পরই অবসরে যেতে পারেন—মিচেল স্টার্কের এমন মন্তব্যে হঠাৎই চমকে উঠেছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। ‘কিপিন ইট ক্রিকেট’ পডকাস্টে নিজের আগামী ১৮ মাসের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলার সময় মজা করে এমন মন্তব্য করেন অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি পেসার। তবে পরে স্পষ্ট করে জানান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার কোনো তাড়াহুড়া তাঁর নেই।
আগামী ১৮ মাসে মোট ২১টি টেস্ট খেলার লক্ষ্য রয়েছে স্টার্কের। এরই মধ্যে দুটি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন তিনি। ফলে বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁর সামনে রয়েছে আরও ১৯টি টেস্ট। এই হিসাব থেকেই নিজের অবসর নিয়ে রসিকতা করেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ পেসার।
পডকাস্টে স্টার্ক বলেন, আর ১৯টি টেস্ট বাকি রয়েছে তাঁর। এরপর হয়তো ‘সূর্যাস্তের দেশে’ হারিয়ে যেতে পারেন। তবে কথাটি বলার সময় তিনি যে পুরোপুরি মজা করছিলেন, সেটিও স্পষ্ট ছিল। একই সঙ্গে সতীর্থদের মধ্যে তিনিই প্রথম অবসর নেবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্টার্কের এমন মন্তব্য শুনে পাশে থাকা তাঁর স্ত্রী ও অস্ট্রেলিয়া নারী দলের সাবেক অধিনায়ক অ্যালিসা হিলি প্রথমে কিছুটা চমকে যান। পরে হাসিতে ফেটে পড়েন তিনি। পডকাস্টের সেই মুহূর্তটি অনুষ্ঠানের অন্যতম আলোচিত অংশ হয়ে ওঠে।
তবে নিজের মন্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বুঝতে পেরে দ্রুতই বিষয়টি পরিষ্কার করেন স্টার্ক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সময় এখনো আসেনি বলেই জানান তিনি। বরং তাঁর ক্যারিয়ারে এখনও অনেকটা পথ বাকি রয়েছে বলে স্পষ্ট করেছেন এই অজি পেসার।
স্টার্ক বলেন, তাঁর আরও অনেক লম্বা পথ বাকি। সতীর্থদের মধ্যে তিনিই প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন, এমনটা তিনি মনে করেন না। অর্থাৎ ১৯টি টেস্টের প্রসঙ্গটি ছিল নিছকই রসিকতা, কোনো আনুষ্ঠানিক অবসরের ঘোষণা নয়।
বর্তমান প্রস্তুতি নিয়েও বেশ আত্মবিশ্বাসী স্টার্ক। তিনি জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার সফরে যাওয়ার আগে অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের সঙ্গে বোলিং অনুশীলন করেছেন। বিমানে ওঠার আগে আরও একটি বোলিং সেশন করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফর সামনে রেখে অস্ট্রেলিয়া দল এখন ব্যস্ত প্রস্তুতিতে। এই সফর স্টার্কের জন্য নিজের ছন্দ ও ফিটনেস আরও ভালোভাবে যাচাই করার সুযোগ। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সূচির মধ্যে কাজের চাপ ঠিকভাবে সামলানোও তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্টার্কের সামনে শুধু টেস্ট ক্রিকেট নয়, রয়েছে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপও। তাই আপাতত অবসরের চিন্তার চেয়ে নিজের ফিটনেস, কাজের চাপ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা ধরে রাখার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ১৯টি টেস্টের পর অবসরের যে ইঙ্গিত স্টার্ক দিয়েছিলেন, সেটি ছিল নিছক মজার ছলে বলা কথা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আরও অনেক ম্যাচ খেলার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছেন এই অভিজ্ঞ পেসার।























