গার্মেন্ট রপ্তানিকারকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ নেতারা। রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বিজিএমইএ (BGMEA) ও বিকেএমইএ (BKMEA) নেতারা শিল্প খাতের চলমান সংকট ও ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। তারা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত রপ্তানি বিল ছাড়ের দাবি জানান।
বৈঠকে গার্মেন্ট খাতের বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা পুনরায় চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, এখন পর্যন্ত ১০৪টি কারখানা বন্ধ হওয়ার তথ্য সংগঠনের কাছে এসেছে। এসব কারখানার প্রকৃত সমস্যা যাচাই করে সরকারকে সুপারিশ পাঠানো হবে। এ ছাড়া বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গত তিন বছরে প্রায় ৪০০ কারখানা বন্ধ হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩০০টি ব্যাংকের অসহযোগিতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি জানান, রপ্তানি আয় সময়মতো ছাড় না হওয়ায় উদ্যোক্তারা ঋণ খেলাপিতে পড়ছেন এবং বিদেশি সরবরাহকারীদের অর্থ পরিশোধেও সমস্যায় পড়ছেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট উৎপাদন ব্যাহত করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গার্মেন্ট রপ্তানিকারকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ দাবি ছাড়াও বৈঠকে সহজ কাস্টমস প্রক্রিয়া ও বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ব্যবসায়ীরা বলেন, জটিল কাস্টমস নিয়ম ও দীর্ঘসূত্রতা দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তারা দ্রুত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে এনবিআরের নিয়ম সহজ করার আহ্বান জানান। বিশেষজ্ঞদের মতে, তৈরি পোশাক শিল্পে টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।






















