ঢাকা ০৭:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo রাঙ্গামাটিতে বন্যায় কৃষি-মৎস্যে ৬০ কোটি টাকার ক্ষতি Logo ৬৪ দলের বিশ্বকাপ, কতটা সম্ভব ফিফার নতুন পরিকল্পনা Logo ছাত্রাবাসে ধর্ষণ অভিযোগ: ৪ দিন আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ Logo প্লাস্টিকের ব্যাগে বিশ্বকাপ ট্রফি? কুকুরেয়ার ভিডিওর আসল রহস্য Logo হুতিদের নৌ অবরোধ ঘোষণা: সৌদির জন্য বড় হুমকি, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা Logo ধূমপান ছাড়ার ৪ সহজ উপায়, জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ Logo চরমোনাই পীরের কড়া বার্তা: ইসলামের নামে একাধিক দল নিয়ে প্রশ্ন Logo ইয়ামালের প্রেমিকা ইনেস, এক রাতেই ফলোয়ারে চমক Logo এআই প্রযুক্তিতে পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ: ৭ পরিবর্তনে নতুন সম্ভাবনা Logo ঘুম না এলে রাতে করুন এই ৭ ব্যায়াম, মিলবে স্বস্তির ঘুম

হানিফ মিয়া হত্যা: ‘আমাকে বাঁচাও, জাকির আমাকে মেরে ফেলবে’-স্ত্রীকে শেষ ফোন

  • Mir Yeaz Mahmud
  • Update Time : ১০:৫৭:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ৫২২

নিহত ব্যবসায়ী হানিফ মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে আলোচিত হানিফ মিয়া হত্যা ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত হানিফ মিয়া (৩৪) একজন কাঠ ব্যবসায়ী ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের কাছে ব্রহ্মপুত্র নদসংলগ্ন কৃষিজমি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে হানিফকে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আয়েশা বেগম কুলিয়ারচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় জাকির হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত ১২টার দিকে হানিফ মিয়া স্ত্রীকে ফোন করে আতঙ্কিত কণ্ঠে বলেন, “আমাকে বাঁচাও, জাকির আমাকে মেরে ফেলবে।” ফোন পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত জাকিরের বাড়িতে যান। তবে সেখানে গিয়ে বাড়ির গেট বন্ধ দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকির পরও কেউ দরজা খোলেনি।পরদিন সকালে জাকিরের বাড়ির কাছেই কৃষিজমি থেকে হানিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন দুপুরে জাকিরের বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

নিহতের স্ত্রী আয়েশা বেগম অভিযোগ করেন, জাকির হোসেন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন হানিফ মিয়া। সম্প্রতি একটি মাদক মামলায় জাকির গ্রেপ্তার হলে তিনি ধারণা করেন, এর পেছনে হানিফের ভূমিকা ছিল। জেল থেকে বের হওয়ার পর থেকেই হানিফকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি পরিবারের।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাকিরের সহযোগীরা হানিফকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। রাত গভীর হলে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরে পুলিশকে বিষয়টি জানান।

হানিফ মিয়া হত্যা
কুলিয়ারচরে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় জাকিরের বাবা লস্কর মিয়া, মা হেলেনা বেগম, স্ত্রী খুকি বেগম, আত্মীয় নাদিয়া আক্তার ও আয়েত উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। তবে প্রধান আসামি জাকির হোসেন এখনও পলাতক রয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক আজহারুল ইসলাম বলেন, আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হানিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।এদিকে হানিফ মিয়া হত্যা ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাঙ্গামাটিতে বন্যায় কৃষি-মৎস্যে ৬০ কোটি টাকার ক্ষতি

হানিফ মিয়া হত্যা: ‘আমাকে বাঁচাও, জাকির আমাকে মেরে ফেলবে’-স্ত্রীকে শেষ ফোন

Update Time : ১০:৫৭:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে আলোচিত হানিফ মিয়া হত্যা ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত হানিফ মিয়া (৩৪) একজন কাঠ ব্যবসায়ী ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের কাছে ব্রহ্মপুত্র নদসংলগ্ন কৃষিজমি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে হানিফকে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আয়েশা বেগম কুলিয়ারচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় জাকির হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত ১২টার দিকে হানিফ মিয়া স্ত্রীকে ফোন করে আতঙ্কিত কণ্ঠে বলেন, “আমাকে বাঁচাও, জাকির আমাকে মেরে ফেলবে।” ফোন পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত জাকিরের বাড়িতে যান। তবে সেখানে গিয়ে বাড়ির গেট বন্ধ দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকির পরও কেউ দরজা খোলেনি।পরদিন সকালে জাকিরের বাড়ির কাছেই কৃষিজমি থেকে হানিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন দুপুরে জাকিরের বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

আরও পড়ুন  ইউনিপে টু বাংলাদেশের পরিচালক তাহেরের আয়কর নথি জব্দ

নিহতের স্ত্রী আয়েশা বেগম অভিযোগ করেন, জাকির হোসেন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন হানিফ মিয়া। সম্প্রতি একটি মাদক মামলায় জাকির গ্রেপ্তার হলে তিনি ধারণা করেন, এর পেছনে হানিফের ভূমিকা ছিল। জেল থেকে বের হওয়ার পর থেকেই হানিফকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি পরিবারের।

আরও পড়ুন  মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চলবে : ‎ডা. তাহের

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাকিরের সহযোগীরা হানিফকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। রাত গভীর হলে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরে পুলিশকে বিষয়টি জানান।

হানিফ মিয়া হত্যা
কুলিয়ারচরে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় জাকিরের বাবা লস্কর মিয়া, মা হেলেনা বেগম, স্ত্রী খুকি বেগম, আত্মীয় নাদিয়া আক্তার ও আয়েত উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। তবে প্রধান আসামি জাকির হোসেন এখনও পলাতক রয়েছেন।

আরও পড়ুন  নেত্রকোণায় এমপির গাড়িতে হামলার অভিযোগ, উত্তেজনা এলাকায়

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক আজহারুল ইসলাম বলেন, আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হানিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।এদিকে হানিফ মিয়া হত্যা ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।